বার্তা পরিবেশক :

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক  ছাত্রকে আটকিয়ে নন-জুডিসিয়াল স্টাম্প ও নীল রংঙ্গের ভলিয়মের খালী পাতায় জোরপুর্বক দস্তখত আদায় করে ২০ লক্ষ টাকা দেনমোহর যাহা ২ লক্ষ টাকা আদায় ও ১৮ লক্ষ টাকা বাকী উল্লেখ করে কাবিন নামা সৃজন পুর্বক ব্ল্যাক মেইল করার অভিযোগে  কাজী ও সহযোগিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে , রামু উপজেলার ঈদগড় বাজারস্থ কনিকা মেডিকেল হল ফার্মেসীর স্বত্তাধিকারী পল্লী চিকিৎসক ডাঃ আজগর আলী ও ঈদগড় ১৩ নম্বর সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা দিলোয়ারা বেগমের প্রথম পুত্র ঈদুল হাসান কনক বাংলাদেশের স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম ফার্মেসী (সম্মান) ৪র্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র। সে ঈদগড় আমির মুহাম্মদ বদি উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় হইতে ২০১৩ ইং সেশনে বিজ্ঞান বিভাগে জি পি এ -৪.১৯ নম্বর নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তৎপরবর্তী বান্দরবান ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০১৬ ইং সনে জিপিএ ও ৪.৪২ নম্বর নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।
মেধাবী ছাত্র ঈদুল হাসান কনক জানান , কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলি এলাকার মরহুম মকবুল আহাম্মদের মেয়ে দিলদার বেগম তার মা শিক্ষিকা দেলোয়ার বেগমের আপন ছোট বোন হয়। পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ বটোয়ারা জমি দখল বেদখল নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক ভাবে বিরোধ চলে আসছিল। দিলদার বেগম চট্টগ্রামে ভাড়া বাসায় থেকে চাকুরি করেন। আমি চট্টগ্রামে লেখাপড়া করি সেই সুবাধে খালাম্মার সাথে আমার দেখা সাক্ষাত হত। গত ১১/১২/২০১৯ ইং আমার খালাম্মা দিলদার বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়েছে মর্মে আমাকে মোবাইল ফোনে তার বাসায় যেতে অনুরোধ করে। আমি সরল বিশ্বাসে খালাম্মার ভাড়া বাসায় যাওয়ার সাথে সাথে কয়েক জন বখাটে যুবক আমাকে ধরে শারিরীক নির্যাতন করে এবং সিএনজি গাড়ীতে তুলে চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিং নিয়ে একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখে। কিছুক্ষন পর আরো কয়েকজন লোকসহ এসে সবাই মিলে নন- জুডিশিয়াল স্টাম্প ও নীল রঙ্গের  ভলিয়মে জোরপুর্বক দস্তখত নিয়ে এই ঘটনা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। চট্টগ্রাম থেকে লেখাপড়া করতে হচ্ছে তাই জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঘটনাটি কাউকে বলিনি। পরে জানতে পারলাম আমার খালার মেয়ে সাবরিনা শিরিন আরফির সাথে আমার কাছ থেকে নন-জুডিশিয়াল স্টাম্প ও নীল রংয়ের ভলিয়মে জোরপুর্বক আদায় করা দস্তখত নিয়ে তারা ভুয়া কাবিননামা সৃজন করেছে।
আমি সাথে সাথে কাজীসহ তাদের কাছে উকিল নোটিশ প্রেরন ও উকিল নোটিশের উত্তর না পেয়ে বায়েজিত বোস্তামী থানায় এক খানা অভিযোগ দায়ের করি। এবং গত ২৮/০৭/২০২০ ইং তারিখ কাজী মৌলানা জামাল উদ্দীনকে ১ নম্বর বিবাদী করে আমার খালাম্মাসহ সকলের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ১ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করি (মামলা নং-অপর-৩২/২০২০। আদালত আসামীদের প্রতি সমন জারি করেছে।

উকিল নোটিশ থানার নোটিশ ও আদালতের নোটিশ পেয়ে তারা সকলে যোগসাজসে গত ২৬ / ০৮ /২০২০ ইং তারিখ আমার খালাত বোন সাবরিনা শিরিন আরফিকে আমার নিজ বাড়ীতে পাঠিয়ে স্ত্রী অধিকার আদায়ের নামে অনশন নাটক মঞ্চায়ন করে।
আমি যদি আমার খালাত বোন সাবরিন শিরিন আরফি কে ভালবেসে স্বেচ্চায় আপোষে বিয়ে করার জন্য কাবিন নামা সম্পাদন করি তাহলে কখনও ২০ লক্ষ টাকা দেন মোহর তাও ১৮ লক্ষ টাকা বাকীতে কাবিন নামায় দস্তখত করতাম না। কারন আমি কোন শিল্পপতির সন্তান নইযে ২০ লক্ষ টাকা দেনমোহর দিয়ে বিবাহ করব। সাবরিন শিরিন আরফির এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্ম তারিখ ২৫/০১/২০০৩  অথচ কাবিন নামায় তার জন্ম তারিখ লিখা হয়েছে ২৫/১১/২০০০ইং। যে তারিখ কাবিন নামা সম্পাদন করা হয় সেই দিন তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৮ মাস। অর্থাৎ কনে নাবালক হিসাবে কোন কাজী কাবিন নামা সম্পাদন করতে পারেন না।

ঈদুল হাসান কনকের পিতা ডাঃ আজগর আলী জানান, আমরা আদালতে আশ্রয় নিয়েছি। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে তা আমরা মাথা পেত নেব। তিনি অভিযোগ করে বলেন ঈদগড় এলাকার কিছু কুচক্রী মহল চেস্টা করছে মেয়েকে দিয়ে অনশন নাটক করে আমার উপর চাপ সৃস্টি পুর্বক আপোষ করতে। তারা জানে কাবিন নামা সৃজন বৈধ হয়নি। আদালতে তারা পরাজিত হবে। তাই তারা আদালতে না গিয়ে বর্তমানে মেয়েকে আমার বাড়ীতে পাঠিয়ে আরো একটি অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে ।এমন কি আমার বাড়ীতে এসে আত্মহত্যা করার হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছে। আমি বিষয়টি রামু থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মহোদয়কে অবহিত করেছি। আমি পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।
এলাকাবাসী একজন মেধাবী ছাত্রের ভবিষৎ জীবন রক্ষার্থে সুস্ট তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •