নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওর অন্যতম আত্ম-কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ই.টি.এস কম্পিউটার ইন্সটিটিউটে ভাঙচুর এবং দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। সংঘবদ্ধচক্র লুট করে নিয়ে গেছে ১৪টি ল্যাপটপ, ১টি ম্যাকবুক এবং ড্রয়ারে থাকা নগদ ৭,৮০০ টাকা। এছাড়া কম্পিউটার ল্যাবের ৬টি চেয়ার ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করা হয়েছে। এতে অন্তত ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় এজাহার দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও আহত তারেকুল হাসান।
গত ৮ সেপ্টেম্বর সকালে ঘটনাটি ঘটে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লুটকৃত মালামাল উদ্ধার হয় নি। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরেছেন।
ন্যাক্কারজনক ঘটনাটির সাথে ভবন মালিকসহ একটি সংঘবদ্ধচক্র জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।
ই.টি.এস কম্পিউটার ইন্সটিটিউটের পরিচালক তারেকুল হাসান জানান, ঈদগাঁও বাস স্টেশনের আশরাফ আলী ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় গত ৫ বছর যাবত তার প্রতিষ্ঠানটি চলমান। করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ মাস ধরে বন্ধ ছিল। সে কারণে কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া থেকে যায়। ইতোমধ্যে দুই মাসের ভাড়া পরিশোধ করেন। বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য মালিক থেকে সময় নেন।
তিনি জানান, করোনাকালে অনেক দোকান/ভবন মালিক ভাড়া মওকুফ করেন। কিন্তু আশরাফ আলী ম্যানশনের মালিক ১ টাকাও ছাড় দেন নি। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে ভাড়া দিতে দেরী হওয়ায় কয়েকবার মালিকপক্ষের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। হামলা ও মারধর করতে তেড়ে আসে অনেকবার। চুক্তির মেয়াদ শেষ না হলেও ট্রেনিং সেন্টার ছেড়ে দিতে নানাভাবে হুমকি ও চাপ দিতে থাকে।
৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তারেকুল হাসানের সাক্ষরে দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ আছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে তিনি বাড়ি চলে যান। পরের দিন সকাল ১০টার দিকে দেখেন, ট্রেনিং সেন্টারের তালা ভাঙা এবং দরজা খোলা। ট্রেনিং সেন্টারের ভেতরে ঢুকে দেখেন, সব হাওয়া। সরকার থেকে অনুদানকৃত ৫টি ল্যাপটপসহ সর্বমোট ১৪টি ল্যাপটপ, ১টি ম্যাকবুক এবং ড্রয়ারে থাকা নগদ ৭,৮০০ টাকা লুট করেছে। ৬টি চেয়ার ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে। যাতে প্রতিষ্ঠানটির ৮ লাখ টাকা মতো ক্ষতি সাধন হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ভবন মালিকের কাছে জানতে চাইলে উল্টো মারধরে আহত করা হয় সরকার অনুমোদিত কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারটির পরিচালক তারেকুল হাসানকে। পরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার সঙ্গে আশরাফ আলী ম্যানশনের মালিক আবদু ছালাম, তার ছেলে আবদু শুক্কুর, মো. রাসেল, নুরুল কবির, ভাই আবদুর রশিদের ছেলে মো. ইলিয়াছ ও আব্দুল কাদের নামক এক ব্যক্তি জড়িত বলে জানান ভিকটিম তারেক।
কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারটি তাড়িয়ে অরেকটি পক্ষ থেকে অধিক সুবিধা নিয়ে ভাড়া দিতে হামলা ও লুটের ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, যা সঠিক তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারেকুল হাসান।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, হামলা ও লুটের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত মো. ইলিয়াছ মদের চালানসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। মাদকের মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করে। সদ্য কারামুক্ত হয়ে আবারো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে মো. ইলিয়াছ। সে ভবন মালিক আবদু ছালামের ভাতিজা।
এদিকে, সরকার অনুমোদিত প্রযুক্তিনির্ভর একটি প্রতিষ্ঠানে এভাবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনাটি ক্ষমার অযোগ্য বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। এরকম ঘটনায় ছাড় দেয়া হলে প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
ঈদগাঁও পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ই.টি.এস কম্পিউটার ইন্সটিটিউট কারিগরি শিক্ষাবোর্ড, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত একটি কর্মমুখি প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানটি বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি গত ৫ বছর ধরে দেশবিদেশে দক্ষ জনবল সরবরাহ করে সুনাম কুড়িয়ে আসছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •