রামু সংবাদদাতা:
রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মুরাপাড়া এলাকায় জবর-দখলের উদ্দেশ্যে স্বত্ত্বঃদখলীয় বসত ভিটায় তান্ডব চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সংঘবদ্ধ চক্র বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে পাহারায় নিয়োজিত হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের মারধর, জমির চারপাশের পাকা সীমানা খুঁটি ও কাটা তারের বেড়া ভাংচুর এবং শতাধিক গাছের চারা কেটে দিয়েছে। গত বৃহষ্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
জমির মালিক জোয়ারিয়ানালা পূর্ব নোনাছড়ি সাতঘরিয়াপাড়ার নুর হোসেনের ছেলে বেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, জোয়ারিয়ানালা হালদারপাড়া এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে খলিলুর রহমান, আমিন শরীফ ধলা মিয়া ও মো. হাসান, চরপাড়া এলাকার মৃত মনছুর আলীর ছেলে কামাল হোছন, পশ্চিম নোনাছড়ি এলাকার মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এ তান্ডব চালিয়েছে।
বেলাল উদ্দিন আরো জানান, বিগত ৩ বছর পূর্বে তিনি হামলায় নেতৃত্বদানকারি কয়েকজনের কাছ থেকে এ জমিটি ক্রয় করে সেখানে বসত ঘর নির্মাণ, গাছপালা সৃজনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে ছিলেন। কিন্তু জমি থেকে তার বাড়ি দূরত্বের সুযোগে ভূমিগ্রাসী চক্রটি এ জমিটি জবর দখলে মরিয়া হয়ে উঠে। এ উদ্দেশ্যে বৃহষ্পতিবার সকালে হামলাকারিরা দেশীয় অস্ত্র, দা, লাটি-সোটা নিয়ে কাঁচা খামার ঘর ও ঘেরা-বেড়া ভেঙ্গে তচনছ করে দেয়। হামলাকারিরা সেখানে সৃজিত জাম্বুরা, কলা, পেপে, আম, সেগুন, লটকন, মেহগনি, গামারী, লিচু সহ বিভিন্ন মূল্যবান প্রজাতির শতাধিক গাছের চারা কেটে দেয়। এতে তাঁর ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বাগানের পাহারাদার রোস্তম আলী ও তার স্ত্রী জাহান আরা জানান, হামলাকারিরা ভাংচুর ও লুটপাট শেষে তাদের বসত বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকী-ধমকি দেন। চলে না গেলে তার প্রাণনাশেরও হুমকী দেয়া হয়। এ কারণে তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স জানিয়েছেন, তিনি ভাংচুর ও মারধরের বিষয়টি শুনেছেন। বিষয়টি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •