এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :
বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস। অদৃশ্য মহামারী এ ভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেখা দিয়েছে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সংকট। করোনার প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশর প্রতিটি জনপদে প্রতিনিয়ত কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, তখন বিপন্ন মানুষের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে চকরিয়া উপজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত নতুন ভবনের ৫০ শয্যা আইসোলেশন ইউনিটকে বৃদ্ধি করে আরো নতুন ২৫শয্যা করোনা আইসোলেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়। উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জনসাধারণকে প্রাণঘাতী অদৃশ্য করোনা এই মহামারী থেকে রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে ও রোগীর ভিড় কমাতে ২৫ শয্যা বৃদ্ধি করণের উদ্যোগ নিয়েছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও করোনা আইসোলেশন ইউনিট ফান্ড চকরিয়া এর প্রধান পৃষ্টপোষক সৈয়দ শামসুল তাবরীজ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত ভবনে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আক্রান্ত রোগীদের সেবা ও কল্যাণে ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজের মহৎ এ উদ্যোগের মাধ্যমে করোনা আইসোলেশন ইউনিট ফান্ড চকরিয়া কর্তৃক সংগৃহীত অনুদান এবং উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে করোনা উপকরণ সামগ্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের অর্থায়ন কর্তৃক যে সব উপকরণ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়েছে তা হলো, ২টি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও ৫টি সেন্ট্রাল অক্সিজেন।

রবিবার (৬সেপ্টম্বর) দুপুরে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদুল হকের কাছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও করোনা আইসোলেশন ইউনিট ফান্ড চকরিয়া এর প্রধান পৃষ্টপোষক সৈয়দ শামসুল তাবরীজ এ উপকরণ সামগ্রী হস্তান্তর করেন।
আইসোলেশন ইউনিটের উপকরণ সামগ্রী হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন, করোনা আইসোলেশন ইউনিট ফান্ড চকরিয়া এর কো-অর্ডিনেটর সাবিনা ইয়াসমিন, মোহাম্মদ নুরুল আমিন খান, করোনা আইসোলেশন ইউনিট ফান্ড’র সদস্য ডা.মোসলেহ উদ্দিন ফারুক রিয়েল, মোহাম্মদ হোবাইবুল ইসলাম, উপজেলা টেকনিশিয়ান এরশাদুল হক, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মচারীসহ আইসোলেশন ইউনিট ফান্ড চকরিয়া এর সদস্যবৃন্দ।

জানা গেছে, গত মার্চ মাসের ১০ তারিখ কক্সবাজার জেলায় কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কমিটির সভায় ‘করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ৫০ শয্যা করে দুইটি হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মো.কামাল হোসেন। এরই প্রেক্ষিতে রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে একটি ইউনিট নির্ধারণ করা হয় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত নতুন ভবনে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনে ৫০ শয্যা আইসোলেশন ইউনিট বর্তমানে চালু রয়েছে। তবে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জনসাধারণকে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে ও রোগীদের ভিড় কমাতে নতুন করে আরো ২৫ শয্যা বৃদ্ধি করণের মাধ্যমে ৫০ বেডের আইসোলেশন বিভাগকে ৭৫ বেডে উন্নীত করা হয়। রবিবার বর্ধিত ২৫ শয্যা আইসোলেশন ইউনিটও আনুষ্ঠানিক ভাবে শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে করোনা সংক্রমণ রোগীদের জন্য হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন স্থাপন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন , উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটকে ৫০ বেড থেকে ৭৫ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। করোনা সংক্রামক প্রতিরোধ করতে এবং আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে নতুন করে ২৫শয্যার বেড স্থাপনের মাধ্যমে আসন সংকট লাগব হবে। অন্তত রোগীদের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে না। হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন ইউনিট অতি সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর ভুমিকা পালন করবে। করোনা রোগীর দ্রুত সেবার জন্য হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দেওয়া হয়েছে। ব্যয়বহুল এ প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্বাসকষ্টে একজন মুমূর্ষু রোগীকে ৬০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

করোনায় সংকটাপন্ন রোগীকে নিরবচ্ছিন্নভাবে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ব্যবহারের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, পর্যাপ্ত অক্সিজেন ব্যবস্থার সঙ্গে এ সেবা সম্পর্কযুক্ত। অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে হলে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক অতি জরুরী বলে তিনি জানান।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদুল হক বলেন, শ্বাসকষ্টে মুমূর্ষু রোগীর সেবায় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এখন থেকে কোভিড-১৯ করোনা সংক্রমণ আক্রান্ত ও সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসা চকরিয়াতেই সম্ভব হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •