(প্রিজন ব্র্যাকের টিভি সিরিজের গভীরতা অনেকেই বুঝতে পারেননি, তাদের অনুরোধে এই সামান্য ভূমিকা)


এম,ডি, ম্যাক্স


হাজারো টিভি সিরিজের ভীড়ে যতই দিন যাচ্ছে প্রিজন ব্র্যাকের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।

তার শরীরে ট্যাটু আঁকা শেষ হওয়ার পর , শুরুতেই প্রিজন ব্র্যাকে, মাইকেল স্কফিল্ড নিজেই ব্যাংক ডাকাতির সময়ে পুলিশ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন আর নিজেকে ধরা দেন। অবশ্যই ততক্ষণে তার সমস্ত গবেষণা শেষ , এবং তার ভাইকে উদ্ধারের মাস্টার প্লানের তিনি প্রতিটি খুটিনাটি চক একে ফেলেছেন।

এবার দর্শকদের সংশয় গুলো দুর করি।

( Spoiler warning )

তার বড় ভাই লিংকনের বিরুদ্ধে, মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাইয়ের খুনের অভিযোগ আসে আর তাকে আটক করা হয়, আর এতে বিচারে তার ফাঁসির আদেশ হয়।

মাইকেল স্কফিল্ড তার ভাইকে একদম বিশ্বাস করতেন না, এমন কি তিনি একবার ভাইকে বলেই ফেললেন যে, তাদের মা মৃত্যুর সময়ে তাদের দুই ভাইয়ের জন্যে ১৮০ হাজার ডলার রেখে যান, তার ভাগের ৯০ হাজার ডলার দিয়ে মাইকেল স্কফিল্ড পড়ালেখা শেষ করে ইঞ্জিনিয়ার হন, আর তার ভাই শহর জুড়ে গুন্ডা ভাড়া যেত কেন?

তাই মাইকেল এই নিয়ে তাকে অনেক বকাবকি করেন।

কিন্তু একদিন ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড এর কাছ থেকে একটি তথ্য পেয়ে মাইকেলের ভুল ভেগে যায়, , আসলে তাদের মা কোন টাকাই রেখে যাননি, তার ভাই লিংকন কষ্ট করে মাইকেল কে জানতে না দিয়ে টাকা যোগাড় করতেন, আর এভাবে তাকে মানুষ করেন।

এতে মাইকেল তার ভাইকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন, শুরু হয় তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নিখুঁত বিন্যাসের গবেষণা ।

ফলাফল, তার ভাই সম্পুর্ন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার আর একজন পুরু বলির পাঁঠা, তা স্কফিল্ড বের করতে সক্ষম হন।

কথা হচ্ছে এই রাজনৈতিক চক্রটি কি?

আসুন এবার, ইলিনয় অংগরাজ্যের মেয়র প্রার্থী আর ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন বর্তমান মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যারোলাইনা, এক্ষেত্রে তাদের কে, অপরাধীর একটি কঠোর শাস্তি যেমন মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে দেখাতে হবে, এর মানে এই দল খুনীদের ছাড় দেয়না, এতে তার জনপ্রিয়তা বাড়বে, তিনি নির্বাচনে জয়ী হবেন।

যেহেতু মাইকেলের পড়ালেখা চালাতে লিংকনের টাকা ধার নিতে হয়, সেই টাকা আর পরিশোধ করতের পারেনা লিংকন, এদিকে টাকা দিতে না পারায়, তাকে মানুষ খুন করতে বলা হয়।

কিন্তু তিনি খুন করতে গিয়ে একদম কাছে গিয়ে আর খুন না করে চলে আসেন, কাছে যাওয়া পর্যন্ত তা গোপনে মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্টের দল ভিডিও করে রাখে, আর ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাইয়ের খুনি হিসেবে লিংকন জেলে, আসলে কিন্তু ভাই মারা যাননি, আর নিরাপদেই গোপনে আছেন।

পুরু ব্যাপারটার ফালি ফালি করে মাইকেল সব তদন্ত করেন, আর এবার ভাইকে এই কঠিন জেল খানা থেকে উদ্ধারের জন্য নিজেই হাজতে ঢুকে যান।

এই বিশাল কারাগার থেকে সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকলে পালানো সহজ নয়, যেমন কিছুদিন আগে ব্রাজিলের এক কয়েদি নাকি ৫ বছর দেওয়াল ছেদন করে, রক্ষীদের রুমে গিয়ে পৌঁছে, কারন তার জেলের ম্যাপ জানা ছিলনা।

স্কফিল্ড একজন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পর ও, তিনিনএই জেলের ম্যাপ, লিখে, মুখস্থ করে কিছুতেই আয়ত্ত করতে পারছিলেন না।

তাই পুরু শরীরে ট্যাটু বানিয়ে একে ফেললেন এই বড় আকারের জেলের ম্যাপ। এই ট্যাটুর আইডিয়া কোথায় পেলেন? ম্যাপ নিয়ে হতাশ হতে হতে একদিন কোন এক মেয়ে তার লন্ড্রির কাপড় দিতে আসে, মেয়েটির হাত থেকে পুরু শরীর ট্যাটু দিয়ে আঁকা, হল কাজ সাড়া, আইডিয়া চুরি।

প্রথম দিনেই জেলে ভাই তাকে দেখে অবাক, তিনি জানালেন, সঠিক সময়ে সব কাজ করতে পারলে পালানো সম্ভব, আর ভাই ট্যাটু দেখে বুঝতে পারলেন, এখানে পুরু জেলের ম্যাপ আঁকা, ভাই একেবারে বিস্মিত ।

পরিকল্পনায় কোন কিছুতেই তিনি ঘাটতি রাখেন নি।

যেমন প্রত্যেক সম্ভাব্য পালানোর সংগীদের বিস্তারিত তথ্য, উপাত্ত সেই কবে থেকেই সংগ্রহ করে ফেলেছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আবুজাকে যে স্বাক্ষী ধরিয়ে দেয়, সে এখন সরকারের নিরাপত্তায় ( Witness protection ) আছে, তার খোঁজ স্কফিল্ড অনেক আগেই নিয়ে ফেলেন, বিনিময়ে জেল থেকে পালানোর অংশ হিসেবে বিশেষ শ্রমের কাজ নেয় আবুজাকে দিয়ে, যেখানেও একটি গর্ত করা পরিকল্পনার মধ্য পরে, আর আবুজাকে তার স্বাক্ষীর ঠিকানা দেন, কিন্তু এই স্বাক্ষীকে যাতে মেরে ফেলতে না পারে সেই দিকে ও স্কফিল্ড খেয়াল রাখেন, তাছাড়া জেল থেকে বের হয়ে বিমানে যাতে পালাতে পারে সেই ব্যাবস্থা করে ফেলেন আবুজাকে দিয়ে।

তার রুমমেট সুক্রে তার প্রেমিকার প্রতি দুর্বলতা থেকে পালাতে চাই, সে খোঁজ নিয়ে তাকে ব্যাবহার করেন স্কফিল্ড।

ডেভিড কুপার যিনি কোটি ডলারের আত্মসাতের অভিযোগ , নিজেকে কুপার বলে দাবীই করেন না, তার ডলারের সিরিয়াল নাম্বার বলে কুপারকে স্বীকার করাতে বাধ্য করান স্কফিল্ড।

এক ধরনের ঔষধ খেয়ে নিজেকে ডায়োবেটিসের রোগী বানিয়ে জেলের মেডিকেলে নিয়মিত চেক আপ করান আর সেটিই ছিল মুল পালানোর রাস্তা।

টি ব্যাগ যাকে কই মাছের প্রান বলা হয়, তাকেও ব্যাবহার করেন স্কফিল্ড।

এদিকে জেলার সাহেবের স্ত্রীর জন্যে তাজমহল বানাতে গিয়ে স্কফিল্ড এর দারুন একটি সুযোগ আসে যা তিনি পুরুটাই কাজে লাগান।

কতকগুলো পরিকল্পনা হটাৎ করে করতে হয়, যেমন, ভাই লিংকনকে আবারও পালানোর আগ মুহুর্তে সেলে আটকে রাখা হয়, যা স্কফিল্ড এর পরিকল্পনার বাইরে ছিল, সবাই ভেবে ছিল ভাইকে ছাড়াই তাহলে পালাতে হবে, কিন্তু স্কফিল্ড এর তখন অন্য চিন্তা, ইচ্ছে করেই তাজমহলের নকশাতে ত্রুটি রেখে দিয়ে আবার জেলারের রুমে ঢুকেন আর জেলার কে বাধ্য করে ভাইকে ফার্মাতে নিয়ে আসেন।

নিখুঁত প্রেমের অভিনয় করে ডাক্তারকে ফার্মার দরজা লক না দিতে রাজী করান, এরপর থেকেই আশা করি দর্শকদের আর বুঝতে তেমন বেগ পেতে হবে না।


The writer is the English correspondent of coxsbazarnews.com

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •