কক্সবাজার: কক্সবাজারের প্রথম মরনোত্তর দেহদানকারী সাধন পালের ২য় প্রয়াণ দিবসে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট বিকালে ঈদগড় এএমবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সংসদ এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।

স্মরণ সভার উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, একসময় ঈদগড়ের শিক্ষার কোন পরিবেশ ছিল না। কিন্তু আজ শত শত উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষাথী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি জানিয়ে দিচ্ছে সাধন স্যার এ জনপদে কতটা শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের জন্য সারাটা জীবনই শুধু তিনি বিলিয়ে দেননি, মরণের পরে দেহখানা দান করে গেছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান সাধনার জন্য। এমন সাধনমানবকে যুগে যুগে মানুষ স্মরণে রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ছড়াকার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, শিক্ষক দু ধরনের। একধরনের শিক্ষক শিক্ষকতার চাকুরী করে। চাকুরী শেষ হলে ছাত্রছাত্রীরা তাদের ভুলে যায়। আরেক ধরনের শিক্ষক আছেন যারা পিতৃস্নেহে ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নতির জন্য জান–প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করে। এই সব শিক্ষকদের ছাত্রছাত্রীর আজীবন মনে রাখে। এমন শিক্ষকরা প্রতিটা জনপদের আলোক বর্তিকা স্বরূপ। সাধন স্যার, ঈদগড় জনপদের এমন একজন বাতিঘর। মৃত্যুর পরও তাঁর দেহ খানি আলো ছড়ায় সর্বত্র।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক কবি রিশাদ হুদা। সভাপতিত্ব করেন ঈদগড় এ এম বি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু মতিলাল সিকদার।

নাগরিক স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, মো. নুরুল হুদা, সভাপতি ঈদগড় বাজার কমিটি, নুরুল আবছার, সভাপতি এমবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ ছাত্র সংসদ। সৈয়দ করিম, প্রধান শিক্ষক, করোলিয়ামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সমীর রুদ্র, শিক্ষক, ঈদগাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মোহাম্মদ বদরুদ্দিন, সাবেক প্রধান শিক্ষক, ঈদগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নুরুল আজিম, আহ্বায়ক ঈদগড় ইউনিয়ন বিএনপি, বীর মুক্তিযুদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেজা, প্রাক্তন ভিপি, কক্সবাজার সরকারি কলেজ, বিমল পাল, প্রাক্তন শিক্ষক দিয়াকুল উচ্চ বিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তৌহিদুল ইসলাম এবং সমন্বয় করেন নির্বাণ পাল।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •