আন্তর্জতিক ডেস্ক:

মুসলমানদের শোকাবহ আশুরার আগের দু’দিনে কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন সাতজন যুবক।

কাশ্মীরের পুলওয়ামা সোপিয়ান জেলায় প্রথক দু’টি ঘেরাও-তল্লাসী অভিযানে ( কেএসও-করডন এন্ড সার্স অপারেশন -কেএসও ) এদের হত্যা করা হয়েছে।

কাশ্মীরী মিডিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার পুলওয়ামা জেলার যাদোয়াতে কাশ্মীরী মুক্তিকামী যোদ্ধাদের হামলায় একজন ভারতীয় সৈন্য নিহত হয় । পরদিন শনিবার সে এলাকা ঘেরাও করে তল্লাসী চালিয়ে চারজন যুবককে হত্যা করা হয়।

আগের দিন একই রকম ঘেরাও-তল্লাসী অভিযানে সেপিয়ান জেলার কিলোরাতে তিন যুবককে হত্যা করা হয়। পুলিশ দাবী করেছে, এ তিনজন হিজবুল মুজাহিদিন –এর সদস্য। তাদেরকে আত্মসমর্পনের আহবান জানানো হলেও তারা সেনা-পুলিশ যৌথ বাহিনীর ওপর গুলি চালায় এবং পাল্টা হামলায় নিহত হয়।

কাশ্মীরীদের মুক্তির আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য সেখানে ভারতীয় বাহীনীর একটি নিয়মিত কার্যক্রম হচ্ছে ঘেরাও-তল্লাসী অভিযান পরিচালনা করা; ঘরে ঘরে তল্লাসী চালিয়ে প্রতিবাদকারীদের খুঁজে বের করা। এরকম ঘটনায় নারী শিশু ও বয়স্ক নাগরিকরাও নির্যাতন থেকে রেহাই পান না।

অপরদিকে, কাশ্মীরের সর্বদলীয় বিরোধী জোট – অল পার্টি হুররিয়াত কনফারেন্স আজ এক বিবৃতিতে সাত যুবকের হত্যায় শোক প্রকাশ করেছে এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে । বিবৃতিতে শ্রীনগর ও বাদগাম সহ বিভিন্ন স্থানে মহররমের মিছিলে ভারতীয় বাহীনীর হামলা ও গ্রেপ্তারের নিন্দা জানানো হয়েছে।

সরকারী নিষেধাজ্ঞা আমান্য করে কাশ্মীরের শত শত মুসলমান আজ শ্রীনগর ও বাদগামে মহররমের শোভাযাত্রা রের করে এবং শোক আনুষ্ঠান ও দেয়া মাহফিলে অংশ নেয়। শোকানুষ্ঠানে বক্তাগন বলেছেন, কাশ্মীরের মুসলমানগন হযরত ইমাম হোসেন (রা:) সহ কারবালার শহীদদের আদর্শ অনুসরণ করে ন্যায় ও সত্যের পথে জীবন উৎসর্গ করে যাবে। তারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে আজাদীর জন্য অবশ্যই শেষ পর্যন্ত লড়াই অব্যহত রাখবে।

ওদিকে, তেহরিকে-ই-ওয়াহদত নামের একটি মুক্তিকামী সংগঠনের নামে কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যানআর টানিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সব ব্যানারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মেদিকে এ জামানার “ইয়াজিদ” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মুহররমের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জম্মু-কাশ্মীর “আন্জুমানে শাহরীয়ে শিয়া” সংগঠনের সভাপতি আগা সাইয়েদ হাসান আল মুসভী আল সাফভী –কে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। কাশ্মীরী মুসলমানদের মহররম মিছিলে আজ আগা সাইয়েদ হাসানের মুক্তির দাবীতে সোচ্চার ছিল জনতা। গৃহবন্দী দশায় থেকে তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, কাশ্মীরী মুসলমানগন হযরত ইমাম হোসেন (রা:) আদর্শ অনুসরন করে তাদের আজাদীর সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না।

মহররম উপলক্ষ্যে তেহরিক-ই-মুজহামাত এর সভাপতি বিল্লাল সিদ্দিকী জম্মু-কাশমীরে ভারতীয় বাহিনীর ক্রমবর্ধমান নিষ্ঠুরতা, হত্যা ও মানবাধিকার লংঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

এদিকে, কাশমীর মিডিয়া সার্ভিসের এক বিশ্লেষনমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস ও “মোদি ভাইরাস”-এর কারনে আজ কাশ্মীরবাসীরা নরক যন্ত্রনা ভোগ করছেন। ভারতীয় বাহিনী কেভিড ১৯ এর সুযোগ নিয়ে কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে সেখানকার নাগরিকদের জীবন আরো দুর্বিসহ করে দিয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •