যুগান্তর :
(সিনহা হত্যা প্রসঙ্গে সাবেক আইজিপিদের অভিমত)

সিনহা হত্যার ঘটনাটি একটি ফৌজদারি অপরাধ বলে মনে করছেন সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা। তিনি বলেন, মামলা হয়েছে। তদন্ত হচ্ছে। কিছু কর্মকর্তা আইনবিরোধী কাজ করেছেন বলে সন্দেহ আছে। আদালতের মাধ্যমে এ সন্দেহ দূর করতে হবে। যারা দোষী তাদের সবাইকে দ্রুত সময়ের জন্য বিচারের আওতায় আনতে পারলেই পুলিশের ভাবমূর্তির জন্য ভালো হবে। তিনি বলেন, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনহার সহকর্মী শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। আত্মরক্ষার্থে সিনহাকে গুলি করা হয়েছে বলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা প্রচার করলেও এখন দৃশ্যত সেরকম মনে হচ্ছে না। পুলিশের বক্তব্য যে সঠিক ছিল তা তাদের আদালতেই প্রমাণ করতে হবে। তিনি বলেন, মেজর সিনহাকে যখন গুলি করা হয়, তখন তার সঙ্গে কেউ ছিল না। তার সহকর্মী সিফাতকে আগেই পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। মেজর সিনহার সঙ্গে যদি অস্ত্র থেকেও থাকে তাহলে তার একার পক্ষে এত অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যকে মোকাবেলা করা সম্ভব ছিল না। তাই সন্দেহের তীর পুলিশের দিকেই যায়। তিনি বলেন, ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো ঠিক নয়। কারণ, প্রতিষ্ঠান কাউকে অপকর্ম করতে বলেনি। তবে প্রতিষ্ঠানকে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।
নুরল হুদা বলেন, যে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চলতে হলে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ ব্যবস্থা কার্যকর থাকা উচিত। পুলিশের জন্য এটা খুবই জরুরি। কারণ তাদের হাতে অনেক ক্ষমতা। যখন যেখানে যতটুকু প্রয়োজন তখন সেখানে ততটুকু ক্ষমতাই প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু কিছু কিছু পুলিশ সদস্য মাঝে মধ্যেই এর ব্যত্যয় ঘটান। তিনি বলেন, সিনহা হত্যায় ফৌজদারি মামলার তদন্তের পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবে একটি তদন্ত হচ্ছে। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’র বিষয়টি বেরিয়ে আসতে পারে। তিনি বলেন, পুলিশের যারাই দুর্নীতি-অপকর্মে জড়িত তাদের সবার বিরুদ্ধেই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। যেখানে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন সেখানে তা নিতে হবে। বিভাগীয় ব্যবস্থায় কাজ না হলে ফৌজদারি আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, সিনহা হত্যার ঘটনাটি যে একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সে বিষয়ে জোর সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সেটি প্রমাণ করতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •