শাহীন রাসেল:
সদর-রামু উপজেলার সীমান্তবর্তী চাকমারকুল ও ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া নয়াপাড়ার পুরনো ঘাট এলাকায় বাঁকখালী নদীতে ডুবে নিখোঁজ ছলিম উল্লাহর (৩৬) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় পুরনো ঘাট এলাকার উমখালী নয়াপাড়া অংশের বাঁকখালী নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

উদ্ধারের সময় তার কোমরে রশি বাঁধা ছিল বলে জানান নিহতের ছোট ভাই সরওয়ার কামাল।

এর আগে সকাল ৬টার দিকে নদী পার হতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন তিনি।

ছলিম উল্লাহ খরুলিয়া নয়াপাড়া গ্রামের মৃত ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে।

নদীতে তার তলিয়ে যাবার খবর পেয়ে সকাল থেকে নিখোঁজকে উদ্ধারে রামু উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের সাত সদস্যের ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা চালায়।

পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃতদেহ মিলেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল হক।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে ছলিম উমখালীর ওপার থেকে নিজ গ্রামে ফিরতে বাঁকখালী নদীতে সাঁতার দেয়। সাঁতার কেটে নদীর মাঝ বরাবর আসার পর ধীরে ধীরে তলিয়ে যেতে থাকে। এ সময় তাকে বাঁচাতে অনুরোধ জানিয়ে চিৎকার দেয়। লোকজন বের হয়ে পরিস্থিতি বুঝার আগেই একপর্যায়ে নদীতে তলিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রামু উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে আসে এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। দীর্ঘ আড়াইঘন্টা প্রচেষ্টা চালিয়ে তার মরদেহের হদিস পান ডুবুরিরা। তার কোমরে রশি দিয়ে বাঁধা লোহার ছোট একটি খন্তি মিলেছে।

ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান টিপু সুলতান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অকল্পনীয়। নদী তীরের প্রায় সকলে ভালো সাঁতার জানে। কারণে অকারণে তারা সাঁতরিয়ে নদী পার হয়। নিখোঁজ যুবকও ভালো সাঁতার জানা। কিন্তু অনাকাঙ্খিত ভাবে নদীতে তার তলিয়ে যাওয়া সবাইকে হতবাক করেছে। তবে, প্রতিবছরই বাঁকখালী নদী এভাবে নিজের বুকে টেনে একাধিক প্রাণবধ করে আসছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •