মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

চকরিয়ার হারবাং এ গরু চুরিকে কেন্দ্র করে এক মহিলা, তার ২কণ্যা সহ ৫ জনকে কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে দিবালোকে প্রকাশ্য ঘুরানোর তেলপাড় করা ঘটনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের গঠন করে দেওয়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের কাছে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও ডিডিএলজি (উপসচিব) শ্রাবস্তি রায় এর আবেদনর প্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়। নির্ভরযোগ্য সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত ২৩ আগস্ট গঠন করে দেওয়া তদন্ত কমিটিকে পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে অর্থাৎ ২৬ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এ ঘটনায় লাঞ্ছিত ৩ মহিলা সহ ৫ জনের বক্তব্য নিতে নাপারায় তদন্ত কমিটি সময় বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। লাঞ্ছিত ৫ জনের মধ্যে ৩ জন মহিলা জামিনে মুক্ত হয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় তাদের নিজ গ্রামে চলে গেছেন। তাদের খুঁজে আনতে একটু সময় লাগছে। পুরুষ ২ জন কারাগারে থাকায় জেলকোডের বিধান মতে, কারাফটকে এনে তাদের বক্তব্য নিতে হবে। যারা লাঞ্চিত হয়েছেন তারা হলো- চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট কুসুমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৫৫), তার কন্যা সেলিনা আক্তার (২৮), আরেক কন্যা রোজিনা আক্তার (২৫)। আবুল কালাম ও পারভীন আক্তারের পুত্র মোহাম্মদ আরমান (৩০) ও পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ ছুট্টু (৩৮)। পুরুষ ২ জন এখনো কারাগারে আছে।

কক্সবাজারের ডিডিএলজি (উপসচিব) শ্রাবস্তি রায়কে আহবায়ক করে গঠন করে দেওয়া তদন্ত কমিটির অপর সদস্য হলেন-চকরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেন এবং চকরিয়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জয় চক্রবর্তী।

তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম, পরিষদের মহিলা মেম্বার, গ্রাম পুলিশ, হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, গরুর মালিক, গণমাধ্যম কর্মী, গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষ্য নিয়েছেন এবং
ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখেছেন।

একজন ফৌজদারী অপরাধ বিশেষজ্ঞ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় বাড়ানোকে অত্যন্ত যৌক্তিক ও বাস্তবতাসম্পন্ন উল্লেখ করে বলেছেন, তদন্ত কমিটি এখন একটি পরিপূর্ণ, ঘটনার উৎস ও কারণ এবং ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে একটি অর্থবহ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারবেন। তার মতে, স্বল্প সময়ে তাড়াহুড়ো করে তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করলে তা ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ থাকার আশংকা বেশি।

প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট এক মহিলা, তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ ৫ জনকে ‘গরু চোর’ আখ্যা দিয়ে কোমরে রশি বেঁধে পিটায় কিছু লোকজন। পরে তাদের কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার ভিডিও এবং স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •