তাজুল ইসলাম পলাশ :

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মধ্যরাতে গড়িমসি করে ৬০ জনকে পদোন্নতি দিয়ে দিয়েছে কেজিডিসিএল। পদের সাথে অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতার মিল নেই।
২০১৯ এরকম একটি ঘটনায় অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে গত বৃহস্পতিবার ( ২০ আগস্ট) নতুন করে ৬০ জনের পদোন্নতি নিয়ে নানান সমালোচনা।

ওইদিন রাতে ১০জন কর্মকর্তা রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কাজ করেছেন ৬০ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে। এমনকি বন্ধের দিন শুক্রবারেও চলে কার্যক্রম।

এবিষয়ে কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) ও পদোন্নতি কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, ৬০ নয় ৫৭ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতিতে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কেজিডিসিএলে কর্মরত অবৈধ এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলমান থাকার পরও দুদকের ‘ভুয়া ক্লিয়ারেন্স’ দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তড়িঘড়ি করে সবাইকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

নজিরবিহীন অনিয়ম করে এইসব কথিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ায় কেজিডিসিএলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সরকারি চাকরি বিধি এবং কর্ণফুলী গ্যাসের সার্ভিস রুলস অনুযায়ী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে ক্লিয়ারেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক।

দুদক সূত্র আরও জানায়, সরকারি চাকরি বিধি এবং কর্ণফুলী গ্যাসের সার্ভিস রুলস অনুযায়ী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে ক্লিয়ারেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক।

জানা গেছে, কেজিডিসিএলের সাবেক কর্মকর্তা আইয়ুব খানের ছেলে মহিউদ্দিন চৌধুরী ২০১১ সালে অনার্স পাশ না করেই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ২০১৭ সালে উপ-ব্যবস্থাপক হন।

২০২০ সালের ২০ আগস্ট ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতিও পান। অথচ মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ওই ব্যাচের পদোন্নতি পাওয়া ৩৭ জন কর্মকর্তার কারোরই কোনো নথিপত্র ছিল না কেজিডিসিএলে। এমনকি ওই নিয়োগ পরীক্ষায় কেউ পাশও করেনি।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, আইয়ুব খানের আরেক ছেলে আশেক উল্লাহ চৌধুরী ২০১৫ সালে উপ-ব্যবস্থাপক পদে কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এ বিষয়ক সরকারি নথিপত্রগুলো দুদকের কাছে জব্দ রয়েছে।

কিন্ত তড়িঘড়ি করে গত (২০ আগস্ট) রাত বারটার দিকে ৬০ জনের পদোন্নতি দেওয়া হয়। অথচ যেখানে তাদের বেতন ভাতা ও চাকরি বরখাস্ত হওয়ার কথা ছিলো, সেখানে উল্টো সবার পদোন্নতিতে হতভাগ ও সংশয় সৃৃষ্টি করেছে।

২০১০ সালের ১১ ডিসেম্বর দৈনিক সমকাল পত্রিকায় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কেজিডিসিএল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২০টি পদে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

মধ্যরাতের এই পদোন্নতির বিষয়ে কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফিরোজ খান বলেন, ‘ এই কমিটির লোকজনই ভাল বলতে পারবেন। হয়তো সেখানে নিয়ম মেনে পদোন্নতি দিতে পারে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •