রিয়াজ উদ্দিন ,পেকুয়া :

পেকুয়ায় অপহৃত টমটম চালককে জখমী অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ২২ আগষ্ট (শনিবার) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তাকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগগুজারা ব্রীজের মাতামুহুরী নদীর চর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। জখমী টমটম চালকের নাম জাহাঙ্গীর আলম (৩৩)। তিনি দক্ষিণমেহেরনামা নন্দীরপাড়ার মোহাম্মদ আলীর পুত্র।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন সন্ধ্যায় যাত্রী বেশে চার যুবক সদর ইউনিয়নের কলেজ গেইট চৌমুহনী থেকে টমটম চালক জাহাঙ্গীরকে নিয়ে বাগগুজারা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ওই যুবকরা চালককে ঘিরে ধরে। এ সময় তারা টমটম চালক জাহাঙ্গীর আলমকে গাড়ী থেকে টানা হ্যাঁচড়া করে নামান। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক তাকে বাগগুজারা ব্রীজ পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর চরে নিয়ে যান। এ সময় তাকে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকাতে তুলে অপহরণ চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় টমটম চালক জাহাঙ্গীর আলম শৌর চিৎকার করছিলেন। তাকে শ্বাস রুদ্ধ করে তারা হাতুড়ি ও ইলেকট্রনিক্স টর্চ দিয়ে পিটিয়ে জখম করে।

ইউপি সদস্য আবু ছালেক জানান, তাকে নিশ্চিত হত্যা করতে মূলত কৌশলে যাত্রী বেশে অপহরণ চেষ্টা চালায়। আবদু শুক্কুর, আবু তাহের, আবু ছিদ্দিক, জাহাঙ্গীর রিদুয়ানসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমরা তাকে কঠিন অবস্থায় ব্রীজের নীচ থেকে উদ্ধার করেছি। ধস্তধস্তি হয়েছিল। জাহাঙ্গীরের শরীরে কাঁদামাখা ছিল। তাকে টানা হ্যাঁচড়া করে ইঞ্জিনচালিত নৌকাতে তুলে ফেলে। আমরা দ্রুত গিয়ে ওই নৌকা থেকে বিমর্ষ অবস্থায় কুলে নিয়ে আসি।

জখমী টমটম চালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, চৌমুহনী থেকে আমাকে যাত্রী বেশে এখানে নিয়ে এসেছিল। বিলহাচুরা এলাকার মৃত শামশুল আলমের ছেলে সালাহ উদ্দিন, তার ভাই গিয়াস উদ্দিন, নাজেম উদ্দিনের ছেলে কোরবান আলীসহ ৪ জন গাড়ীতে ছিল। এরপর ব্রীজের নীচে ছিল ওই চক্রের আরো ১০/১২ জন। এরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মূলত প্রাণনাশ চেষ্টা চালায়। আমাদের সাথে সালাহ উদ্দিন গংদের জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিল। আমার গায়ের জামাকাপড় খুলে ফেলে। মুঠোফোন, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। তারা নন্দীরপাড়ার নাজেম উদ্দিনের স্ত্রী হুসনে আরার হুকুমে ভাড়াটে হিসেবে আমাকে অপহরণ করতে গিয়েছিল। পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম জানান, লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •