ইফতেখার শাহ্জীদ, কুতুবদিয়া:

টানা বৃষ্টি ও আমাবস্যার অস্বাভাবিক জোয়ারে কুতুবদিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দ্বীপের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ। লোনা পানিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের ও শত শত একর রোপা আমন ক্ষেত। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শত কি.মি কাঁচা-পাকা গ্রামীন সড়ক। পানি ঢুকে পড়েছে বসতঘরে। ফলে দুর্ভোগের অন্ত নেই দ্বীপবাসীর।

উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে। তন্মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামগুলো হল- উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের কাইসার পাড়া, ওয়াইজার পাড়া, পশ্চিম চরধূরুং, আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া ও ফরিজ্যার পাড়া। কৈয়ারবিল ইউনিয়নের কলইস্যাঘোনা, বিন্দাপাড়া ও মলমচর। লেমশীখালী ইউনিয়নের পেয়ারাকাটা, নয়াঘোনা, ছিদ্দিক হাজীর পাড়া ও ক্রসডেম এলাকা। বড়ঘোপ ইউনিয়নের উত্তর বড়ঘোপ, দক্ষিণ আমজাখালী ও মুরালিয়া। আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কিরন পাড়া, কাহার পাড়া, বায়ুবিদ্যুতের দক্ষিণ অংশ, তাবালের চর ও সাইট পাড়া গ্রাম।

উত্তর ধূরুং ইউপির চেয়ারম্যান ও কুতুবদিয়া বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী জানান, বিগত ৫ দিন ধরে প্রায় পুরো ইউনিয়ন পানির নিচে। গত ২০ আগষ্ট জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। ইউনিয়নের প্রায় ২০০ কি.মি সড়ক তলিয়ে গেছে। তারমধ্যে ২৫ কি.মি. কাঁচা রাস্তার ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান ও কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আ.ন.ম শহীদ উদ্দিন ছোটন বলেন- ‘দ্বীপের চারপাশে ৪০ বর্গ কি.মি.বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ১৬ কি.মি.বাঁধই ঝুকিপূর্ণ। ৯১‘র ঘূর্ণিঝড়ের পরে দ্বীপরক্ষা বাঁধের তেমন দৃশ্যমান সংস্কার কাজ হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে প্লাবিত হচ্ছে দ্বীপটি। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বছরে বরাদ্দকৃত ৯২ কোটি টাকার কাজ যথাসময়ে শুরু করা গেলে হয়ত এমন ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতো না’।

টানা বৃষ্টি এবং আমাবস্যার জোয়ারে প্লাবিত হয়ে ওই ইউনিয়নের প্রায় ১৫/১৭ কি.মি গ্রামীণ সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কুতুবদিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা এলটন চাকমা ও মংসা থোয়াই মারমা জানান-‘নির্মানাধীণ ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ কি.মি. বেড়িবাঁধের মধ্যে উত্তর ধূরুংয়ের কাইসার পাড়া, লেমশীখালীর পেয়ারাকাটা ও বড়ঘোপের দক্ষিণ আমজাখালী পয়েন্টে বাঁধ ভেঙ্গে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে আবারো পুরোদমে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং চলতি বছরের শেষের দিকে সমাপ্ত হবে।’

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলাল চৌধুরী বলেন, উপজেলা প্রশাসন প্লাবিত হওয়া এলাকাগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছে। পনিবন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ১২শ পরিবারকে নৌ বাহিনির সহায়তায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ রাজনৈতিক গ্যাড়াকল ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের ধীরগতির ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কুতুবদিয়া। এভাবে চলতে থাকলে একদিন মানচিত্র থেকে মুছে যাবে দ্বীপটি। তাই বাপ-দাদার ভিটেমাটি রক্ষা ও কুতুবদিয়া দ্বীপকে বাঁচাতে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •