সিবিএন ডেস্কঃ
কুতুবদিয়া হলো কক্সবাজার জেলার ছোট্ট একটি দ্বীপ উপজেলা। চারিদিকে সমুদ্রবেষ্টিত এই উপকূলীয় অঞ্চলের প্রথম এবং প্রধানতম সমস্যা হল বেড়িবাঁধ সমস্যা।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘সুপার সাইক্লোন-আম্পান’ পরবর্তী প্রায় ৯০দিন পরেও দ্বীপ রাণী কুতুবদিয়ার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানে এগিয়ে আসেনি কর্তৃপক্ষ। যার মাশুল দিতে হচ্ছে সাগরের পানিতে ঘর-বাড়ি হারাতে বসা উপকূলবাসী-কে। কোন উপায় নেই তাই অসহায় হয়ে বসে আছে উপকূলবাসী। একদিকে বিশ্ব-মহামরী করোনা সংকট এবং অন্যদিকে টেকসই বেড়িবাঁধ সংকট। সবমিলিয়ে উভয় সংকটে আছে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার উপকূলবাসী।

জানা গেছে, দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় অবস্থিত প্রায় ৪০ বর্গ কি.মি. বেড়িবাঁধ অংশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকার বেড়িবাঁধ বেশ সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, যার কারণে উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের পূর্ব পশ্চিম চরধূরুং, কাসিয়ার পাড়া, মেয়ারাকাটা, দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের পুরাতন বাতিঘর পাড়া, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়া, ঘিলাছড়ি, মলমচর, লেমশীখালী ইউনিয়নের পেয়ারকাটা ও দরবারঘাটের দক্ষিণ এলাকা, বড়ঘোপ ইউনিয়নের উত্তর বড়ঘোপ ও দক্ষিণ অমজাখালী, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তাবালেরচর, আনিসের ডেইলসহ আরো কয়েকটি গ্রাম জোয়ারের পানিতেই নিয়মিত প্লাবিত হচ্ছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে এবং সমুদ্র উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সমুদ্র বেষ্ঠিত এই এলাকায় যদি টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকে তাহলে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী সকলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে! যদি টেকসই বেড়িবাঁধের এই অন্যতম সমস্যাটি সামাধান করা যায় তাহলে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়াবাসীর জীবন-জীবিকার প্রায় অর্ধেক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন উপকূলবাসীর সচেতন মহল।

কুতুবদিয়া উপজেলার উপকূলবর্তী সচেতন মহলের সকলে মনে করছেন, উক্ত সমস্যা সমাধানে অবশ্যই প্রয়োজন এবং দরকার যথাপোযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কারণ, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়াবাসি সকলের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে। কুতুবদিয়ার মত একটি উপকূলবর্তী অঞ্চলের জন্য এই সমস্যা দেখা দেওয়ার সাথেই যেখানে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সেখানে এই বিষয়টি সকলের নজরে আসলেও এড়িয়ে চলছেন কর্তৃপক্ষ।

“ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস” কক্সবাজার জেলার সমন্বয়কারী – জলবায়ুযোদ্ধা জাবেদ নূর শান্ত সিবিএন কে জানান, আমরা পরিবেশ নিয়ে কাজ করি। কারণ, কক্সবাজার প্রাকৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ। কক্সবাজারের পরিবেশ যাতে ভারসাম্যহীন না হয়, এ মাটির সন্তান হিসেবেই কক্সবাজারের পাশে থাকার অংশ আমাদের কাজ গুলো।

এই অঞ্চলের একটি সচেতন মহলের মাধ্যমে জানা গেছে, বিগত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বেড়িবাঁধ নির্মাণকার্য সম্পন্ন করতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি বাজেট প্রস্তাবনা পাস হয়, যা যথাসময়ে শুরু করলে হয়তো এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না।

এ বিষয়ে জাবেদ নূর শান্ত আরো জানান, উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য একটি দক্ষ কমিটি গঠন করা উচিত। কারণ, যুগে যুগে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় তা কিছু অর্থলোভী ঠিকাদারি চক্র নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে সরকারী অর্থ-সাহায্য লুণ্ঠন করেন। যার ফলে বেড়িবাঁধ টেকসই হয় না, যার মশুল দিতে হয় উপকূলবাসী-কে। তাই এক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশী গুরুত্ববহন করবে তা হল, সরকারি বরাদ্দ সৎ, ন্যায়পরায়ণ, যোগ্য, মানবদরদী – যে মানুষের সুবিধা-অসুবিধাসহ নিজের জন্মভূমির কথা চিন্তা করেন দায়িত্ব তাকেই দেওয়া উচিত। তাহলেই এই সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান দ্রুত সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

উপকূলবাসী টেকসই বেড়িবাঁধ নির্রমাণের লক্ষে কুতুবদিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি উক্ত বিষয়টি কর্তৃপক্ষ-কে অবহিত করেছেন বলে আশ্বস্ত করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •