বার্তা পরিবেশক :
কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়া’র (১ নং ওয়ার্ড) কালুর ঘোনা মৎস্য ঘেরে প্রকাশে জাল ফেলে কোটি টাকার মাছ তুলে নিয়ে গেছে বেশকিছু লোকজন। এতে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে মৎস্য ঘেরের মালিক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটে। মৎস্য ঘের মালিক মহিউদ্দিন জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তার বিশাল (১২০ কানি) মৎস্য ঘেরে পানি উপছে পড়ার উপক্রম হয়। পরে তিনি বাধ দেওয়ার জন্য শ্রমিক নিয়োগ করার মুহুর্তে ঘেরের পাশ্ববর্তী কিছু লোকজন হঠাৎ জাল নিয়ে মাছ ধরতে শুরু করে ঘেরের পাশে জমে থাকা পানিতে। পরে তারা ঘেরের ভিতরেই জাল মারতে শুরু করে। তাদের দেখাদেখি কিছুক্ষনের মধ্যেই কুতুবদিয়া পাড়া, উত্তর কুতুবদিয়া পাড়া, ভেরাম পাড়া, দক্ষিণ কুতুবদিয়া পাড়া, ফদনার ডেইল, নয়া পাড়া’র প্রায় ৩ হাজারের অধিক লোকজন জাল নিয়ে মাছ ধরা শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি যেন রীতিমত মাছ ধরার উৎসব চলে। কেউ কারো কথা শুনছিলনা। কার আগে কে কত মাছ তুলে নিয়ে যাবে সেই প্রতিযোগিতায় মেতে ছিল। এমনও দেখা গেছে এক একজন ১০-২০ কেজি পর্যন্ত মাছ তুলে নিয়ে গেছে। মৎস্য ঘেরে দায়িত্বে থাকা লোকজন তাদের অনেক বাধা দেওয়া চেষ্টা করেও কোন কাজ হয়নি। একদিকে বাধা দিলে অন্যদিকে মাছ ধরছে। এই দৃশ্য দেখে মৎস্য ঘেরের মালিক অবাক। পরে পুলিশকে খবর দিতে দিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এসব লোকজন চিংড়ী ঘেরের প্রায় কোটি টাকার মাছ তুলে নিয়ে গেছে।
এত বড় ক্ষতি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না মৎস্য ঘেরের মালিক কক্সবাজার সী ফিস প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। সর্বশেষ গত মৎস্য ঘেরে গিয়ে দেখা যায, শুধু মাছ নয় মৎস্য ঘের পাহারাদারদের ঘরটিও লুট হয়ে যায়। ওখানে থাকা প্রায় লক্ষাধিক টাকার জাল সহ প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র লুট হয়ে যায়। তার এই মৎস্য ঘের এখন অনেকটা মাছ শূন্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •