মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

মেজর (অবঃ) সিনহা মেঃ রাশেদ খান এর সহকর্মী শিপ্রা রানী দেবনাথ থেকে উদ্ধার করা মালামাল নিয়ে ২টি জব্দ তালিকা করায় রামু’র ওসি মোঃ আবুল খায়ের’কে আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে তার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত নম্বর-১) রামু’র এর বিজ্ঞ বিচারক মোহাং হেলাল উদ্দিন আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এর ব্যাখ্যা দিতে বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট এ আদেশ দেন।

গত ৩১ আগস্ট মেজর (অবঃ) সিনহা মেঃ রাশেদ খানকে হত্যা করার পর মেরিন ড্রাইভ রোডের হিমছড়ি নীলিমা রিসোর্ট থেকে স্টামফোর্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী শিপ্রা রানী দেবনাথ কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে রামু থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দিয়ে চালান দেয়। যার নম্বর : জিআর-৩১১/২০২০ (রামু)। শিপ্রা রানী দেবনাথকে গ্রেপ্তারের সময় তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করা ২৯ আইটেম ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস এই মামলার জব্দ তালিকায় আনা হয়নি। শুধুমাত্র কিছু বিদেশি মদের বোতল, ২ পোটলা গাঁজা ও কিছু মাদক দ্রব্য জব্দ তালিকাভূক্ত করা হয়। পরে রামু থানা কর্তৃপক্ষ পৃথক আর একটি জব্দ তালিকা তৈরি করে এবং জিডি মূলে বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলা রুজু করে শিপ্রার ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ও অন্যান্য মালামাল রামু থানার এই মামলার আইও এসআই শফিকুল ইসলাম এর হেফাজতে রাখে এবং মামলাটি আদালতে প্রেরণ করে। দ্বিতীয় জব্দ তালিকা তৈরির সময়কাল রামু থানা কর্তৃপক্ষ তাতে ১আগস্ট উল্লেখ করলেও এ সংক্রান্ত বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলাটি দীর্ঘ ৫ দিন পর ৬ আগস্ট আদালতে প্রেরণ করেন।

রামু থানার জিআর-৩১১/২০২০ নম্বর মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে থাকা র‍্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকারকে দেওয়া হলে তিনি রামু থানা কর্তৃক শিপ্রার জব্দকৃত সকল মালামাল তাঁর হেফাজতে আনার জন্য ও বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলাটির তদন্তভার নিতে আদালতে আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার আদালতে শুনানীকালে রামু থানার বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলার আইও শফিকুল ইসলাম র‍্যাবের এই আবেদন এর বিরোধিতা করে শিপ্রা রানী দেবনাথ থেকে উদ্ধারকৃত মালামাল তার হেফাজতে রাখতে ও বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলাটি তার মাধ্যমে তদন্ত অব্যাহত রাখার অনুমতি দিতে আবেদন জানান। আবেদন শুনানীর সময় আদালত রামু থানার আইও শফিকুল ইসলাম এর কাছে একটি মামলায় কেন ২টি জব্দ তালিকা তৈরি করে, বিবিধ মামলাটি কেন সৃজন করা হলো-এমন প্রশ্ন করলে ইনস্পেক্টর শফিকুল ইসলাম এর কোন সদুত্তর আদালতে দিতে পারননি। পরে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ৩ টি পৃথক আদেশ দেন। আদেশ সমুহের মধ্যে প্রথম আদেশটি হলো- একটি মামলায় কেন ২ টি জব্দ তালিকা তৈরি করে বিবিধ মামলাটি কেন সৃজন করা হলো-তার আইনগত জবাব দিতে পরবর্তী ৭কার্যদিবসের মধ্যে ওসি আবুল খায়েরকে আদালতে তলব। দ্বিতীয় আদেশটি হলো-শিপ্রা রানী দেবনাথকে গ্রেপ্তারের সময় তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সহ সকল মালামাল হস্তান্তর করতে ও বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলার তদন্তভার জিআর-৩১১/২০২০ (রামু) নম্বর মামলার বর্তমান আইও র‍্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকারকে প্রদান। তৃতীয় আদেশটি হলো- বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলা ও শিপ্রার মালামাল সমুহ রাখার জন্য রামু থানার ইনস্পেক্টর শফিকুল ইসলামের করা আবেদনটি খারিজ।

এদিকে, রামু থানার ওসি আবুল খায়ের জানিয়েছেন, আদালত তাকে স্বশরীরে তলব করার আদেশটি তিনি পেয়েছেন। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন। ওসি আবুল খায়ের আরো জানান, ২৯ পদের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস শিপ্রা রানী দেবনাথ এর ব্যক্তিগত সম্পদ হওয়ায় সেগুলোর আলাদা জব্দ তালিকা করেছেন। অপরদিকে, আদালতের আদেশ পেয়ে রামু বিবিধ ১/২০২০ নম্বর মামলাটির তদন্তভার র‍্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জিআর-৩১১/২০২০ (রামু) নম্বর মামলার বর্তমান আইও বিমান চন্দ্র কর্মকার দিয়ে দিয়েছেন। একইসাথে শিপ্রা রানী দেবনাথ এর ২৯ পদের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস গুলোও তাঁকে গত ২০ আগস্ট দিবাগত রাতে হস্তান্তর করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •