২১ আগষ্ট শহীদদের স্মরণে পৌর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বক্তারা

শেখ হাসিনা হত্যা করে আ’লীগকে নেতৃত্বশূন্য করাই ছিল গ্রেনেড হামলার মূল লক্ষ্য

প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২০ ০৭:৩৪

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
২১ আগষ্ট ইতিহাসের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় সকল শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগষ্ট) কক্সবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ কানিজ ফাতেমা মোস্তাক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূণ্য করার উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে ২১ আগষ্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে যান। তার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের চূড়ায় অবস্থান করছে। কিন্তু এখনো ১৫ ও ২১ আগষ্টের খুনিরা নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আবারও তারা ক্ষমতায় এসে মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করছে তারা। এ জন্য আওয়ামী পরিবারকে সজাগ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস বড় নির্মম। তাকে (শেখ হাসিনা) যারা সেদিন টার্গেট করেছিল তার হাত দিয়েই শুরু হয় নির্মমতার বিচার। ঐতিহাসিক রায় হয়েছে, এখন উচ্চ আদালতে রয়েছে আপিল নিষ্পত্তির আশায়।’
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা দেশে না থাকার কারণে ষড়যন্ত্রকারীদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতেই বারবার জননেত্রী শেখ হাসিনাকে টার্গেট করা হচ্ছে হত্যার জন্য। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরে যেভাবে জেলখানায় জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল ২১ আগস্টেও একই উদ্দেশ্য ছিল খুনীচক্রের। বাংলার মানুষ ধর্মপ্রাণ ও অলি-আউলিয়ার দেশ হওয়ার কারণে দেশের মানুষের সেবা, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত ও বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতেই মহান সৃষ্টিকর্তা রাব্বুল আলামিন তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অগ্রযাত্রায় আওয়ামী লীগের সকল কর্মীকে অকুতোভয় লড়াকু সৈনিক হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকবে।’
সভাপতির বক্তব্য পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি নজিবুল ইসলাম বলেন, ‘একাত্তরের লাখো শহীদের রক্তে যে মাটি ভিজেছিল, যে মাটি বঙ্গবন্ধুর রক্তে ভিজেছিল পঁচাত্তরে, সেই মাটিতে আবারও রক্ত¯্রােত, যা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে দেখেছে। সেদিন তাদের টার্গেট ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। পচাত্তরের বুলেট ২০০৪ সালে ফিরে আসে প্রাণঘাতী গ্রেনেড হয়ে।’
‘ তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই। উন্নয়নের পথের বাধা এক এক করে অপসারিত হচ্ছে। দেশের ভাগ্য বদলের ম্যাজিকাল ট্রান্সফর্মেশন হচ্ছে। আর ওইদিকে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে-বিদেশে গুজব, ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার আর মিথ্যাচারের বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে।
পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল করের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদ অ্যাড, রণজিত দাশ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. তাপস রক্ষিত, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদা তাহের, পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আছিফুল মাওলা, সহ-সভাপতি ডা. পরিমল দাশ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাড. রিদুয়ান আলী, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন গিয়াস, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ও শাহনেওয়াজ চৌধুরী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগ নেতা সাহেদ আলী, সেলিম উল্লাহ, জহিরুল কাদের, নজরুল ইসলাম, ইয়াহিয়া খান, আজিজুল হক, মেজবাহ উদ্দিন কবির, আবদুল মজিদ সুমন, নুরুল আলম পেটান, ওয়াহিদ মুরাদ সুমন, শুভদত্ত বড়–য়া, বজল করিম, আবু আহমেদ, বাদশা, জানে আলম পুতু, তাজ উদ্দিন, হাবিব উল্লাহ, সেলিম ওয়াহেদ, খোরশেদ আলম রুবেল, মো. ইলিয়াছ, ফয়সাল হুদা, আমির উদ্দিন ও সোহেল রানা প্রমূখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •