ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন


এখন লগডাউন অনেকটা শিথিল করা হয়েছে। পর্যটন স্পট খুলে দেয়া হয়েছে। অনেক স্কুল কলেজে রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম চলছে।গণপরিবহন চালু হয়েছে অফিস আদালত খোলা হয়েছে। তবে আমাদের ভুলে গেল চলবেনা করোনা ভাইরাসের সংকট শেষ হয়নি।করোনাকে সঙ্গী করে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে আমাদেরকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে।জীবনচর্চা কিছুটা পাল্টাতে হবে যতদিন না আমরা টিকা পাচ্ছি। কারন করোনা ভাইরাসের এন্টিবডি শরীরে বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না।

তাই সবার সচেতনতার জন্য কিছু পরামর্শ ঃ
১.মাস্ক পড়তে হবেঃ
বাড়ির বাহিরে গেলে সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে, মাস্কটি আপনি কাপড়ের তিন লেয়ার (১০০%পপলিন কাপড) দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন। ভিতরে একটি গেঞ্জির কাপড়ের লেয়ার দিলে ভাল। মেডিকেল মাস্ক শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবায় জড়িতদের জন্য আর কভিড পজিটিভ রোগীদের জন্য ব্যবহার করুন।
মাস্ক পড়ার সময় খেয়াল রাখবেন যেন কোন ফাঁক না থাকে।একটি মাস্ক একবার পরিধানের পর ৬ঘন্টা বা যদি মাস্ক ভিজে যায় তাহলে সাথে সাথে পাল্টাবেন।মেডিকেল মাস্ক পুনঃব্যবহার্য নয়।ব্যবহৃত কাপড়ের মাস্ক সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধৌত করে ইস্ত্রি করবেন। কোন অবস্থায় মাস্ক খোলা যাবেনা যেমনঃহাঁচি, কাশি, কথাবলা ইত্যাদি। মাস্কের বাহিরে স্পর্শ করা যাবেনা। মাস্ক পরিধানের পুর্বে এবং পরে সাবান বা হ্যান্ডস্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধৌত করতে হবে।
মেডিকেল মাস্ক একবারই ব্যবহার করা যাবে ব্যবহারের পর সেটা বায়ুরোধী প্যাকেটে ফেলতে হবে।
২.সম্ভাষণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবেঃ আমাদের কারো সাথে সাক্ষাতে হ্যন্ডশেক, কোলাকুলি, কদমবুচি পরিহার করতে হবে। বরঞ্চ সালাম, হাতের ইশারায় কুশলাদি বিনিময় করতে হবে।
৩.নিরাপদ শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবেঃ
কমপক্ষে ১মিটার বা ৩ফুট বা২হাত দূরত্ব বজায় রেখে সবকিছুই করতে হবে।দূরত্ব মেনে অফিস, আদালত, কেনাকাটা, গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হবে। বাড়ির বয়স্ক, শিশু, মহিলাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে নেয়া যাবে না।
৪.অাতিথিয়তা পরিহার করতে হবেঃ
আমরা বাঙালিরা অতিথিপরায়ন লোক তবে করোনাকালে বাড়িতে অতিথি আগমন নিষেধ করতে হবে। নিজেরাও অন্যের বাড়িতে যাওয়া যাবেন না।
৫.নিজকে শারীরিকভাবে ফিট রাখতে হবে :
পর্যাপ্ত খাওয়াদাওয় মৌসুমি ফলমূল, দুধ,ডিম, কালজিরা, মধু খাবেন।শারীরিক ভাবে সবল থাকতে ব্যায়াম করবেন। দুশ্চিন্তা পরিহার করবেন।
৬.যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে তাদের বিশেষ সর্তকর্তাঃ দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমনঃ হাইপারটেনশন,ডায়াবেটিস,কিডনি, আর্থাইটিস,ক্যানসার,এইচ আইভি,হেপাটাইটিস তারা নিয়মিত ঔষধ সেবন করবেন এবং চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। শারীরিক চেকআপ করাবেন। অপ্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে যাবেন না।
৭.হাত ধৌত করবেন নিয়ম মেনেঃ
কোন কিছু করার পুর্বে এবং পরে সাবান পানি হলে ৪০-৬০সেকেন্ড।এলকোহল হলে ২০-৩০সেকেন্ড দিয়ে হাত ধৌত করতে হবে । ঘরে প্রবেশের পুর্বে হাত ধৌত করবেন তাছাড়া ১ঘন্টা পর পর হাতধৌত করলে ভাল।
ভেকসিন না আসা পর্যন্ত আমাদের করোনার সাথে সংসার করতে হবে। তাই করোনা থেকে নিজকে সুরক্ষা রাখতে হবে।আমরা সেইদিনের অপেক্ষায় যেদিন মুক্ত বাতাসে বুকভরা শ্বাস নিব।সবাই নিরাপদে থাকুন।


লেখক : নার্সিং কর্মকর্তা, জেলা সদর হাসপাতাল কক্সবাজার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •