নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও উত্তর মাইজপাড়ার মৃত ছৈয়দুল করিম চৌধুরীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ইসলামাবাদের ওয়াহেদরপাড়ার মৃত আব্দুল আলীর ছেলে মমতাজ আহমদ (জাপানি মমতাজ) থেকে প্রায় ৩২ বছর আগে ০৬ শতক জমি কিনেছিলেন। ওই জমির অনুকূলে যথাযথ সরকারি নিয়মে খতিয়ান সৃজন এবং ক্রয়কৃত জমিতে ৬টি দোকানঘর-বসতবাড়িও নির্মাণ করেন।
অভিযোগ হলো- যে জমিতে ১টি পরিবার দীর্ঘদিন বসতি করে আসছিলেন; দোকানঘর করেছেন, তেমন একটি জমি হঠাৎ দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে একটি চিহ্নিত চক্র। যাতে খোদ বিক্রেতাপক্ষ সরাসরি জড়িত। নগ্নভাবে দখলবাজিতে ব্যবহার করা হয়েছে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের। তাও আবার ১৫ আগস্টের আগের রাতে, যখন সবাই জাতীয় শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত।
দখলবাজিতে প্রধান অভিযুক্ত মমতাজ আহমদ কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বলে প্রচার করে থাকেন। দখলবাজির কাজে অভিযুক্ত করা হয়েছে আরো দুইজনকে। তাদের একজন ইসলামাবাদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক। অপরজন নুরুল হকের ছেলে মোঃ শাহিন। এই তিনজন ব্যক্তি মিলে রাতের অন্ধকারে ক্ষমতার অপব্যবহার ও টাকার বাহাদুরিতে পরের জমি দখলে মেতেছে বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
এ ঘটনায় উল্লেখিত তিনজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বরাবর এমআর মামলা দায়ের করেছেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি জানান, ১৯৮৮ সালের ২৩ অক্টোবর ঈদগাঁও মৌজার আরএস ২৬৭নং খতিয়ানের আরএস ৭০০৭, ৭০০৮ দাগের আন্দর বিএস ৩৪৯৮ নং খতিয়ানের বিএস ৩৬৩২ দাগের সম্পূর্ণ জমি ও তদস্তিত ০৬ শতক জমি রেজিঃযুক্ত ২৫৮৫ নং এওয়াজনামা দলিলমূলে ক্রয় করেন। যার বিক্রেতা মমতাজ আহমদ প্রকাশ জাপানি মমতাজ। দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর ধরে ক্রয়কৃত জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে আছেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। যা এলাকার সবার কাছে স্পষ্ট।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, সম্প্রতি জায়গা-জমির দাম বৃদ্ধি পেলে লোভে পড়েন জাপানি মমতাজ। তাই তিনি খতিয়ান জালিয়াতি করেছেন। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলছে। মামলা চলমান অবস্থাতেই দুর্লোভের বশবর্তী হয়ে ১০/১২ জন স্বশস্ত্র দুর্বৃত্ত নিয়ে ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দখল অভিযানে যায় মমতাজ। দখলবাজরা কাঠ দিয়ে পেরেগ মেরে দোকান এবং বসঘরের সামনে বন্ধ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। এ সময় ভাড়াটিয়ারা বাধা দিলে তাদের চলাচলের পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে অভিযোগও দেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি অভিযোগ দেন- ভাড়াটিয়াদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে দখলবাজরা। বেপরোয়া গালিগালাজ ও হুমকি ধমকি দিচ্ছে। দোকানঘরের ভাড়াটিয়ারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
জমির সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করে ঘটনাটি দ্রুত সমাধানের আহবান জানান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, এটি দেওয়ানি বিষয়। উভয়পক্ষের মামলা চলছে শুনলাম। তবু ফৌজদারি কোন ঘটনা ঘটলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
আপাততঃ মারামারি বা শান্তি ভঙ্গের কোন আশঙ্কা নেই মন্তব্য আইসি আসাদুজ্জামানের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •