মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

উখিয়া-টেকনাফ এর ৩৪টি রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও (Non government organisation) গুলোর একক কর্তৃত্ব নিতে চায়-কক্সবাজারের শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়। এজন্য শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার (যুগ্মসচিব) এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালককে একটি পত্র দিয়েছেন।

গত ৭ জুন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক’কে লেখা পত্রে আরআরআরসি’র কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে চলমান এনজিও ব্যুরোর অনুমোদিত এফডি-৬, এফডি-৭ এবং এফসি-১ প্রকল্প গুলোর বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা, তত্বাবধান ও প্রত্যয়ণ পত্র নেওয়ার বিষয়টি বাস্তবাতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে অসুবিধা ও দীর্ঘসুত্রীতা হচ্ছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বর্ণিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য এনজিও ব্যুরোর দেওয়া শর্তের মধ্যে ‘জেলা প্রশাসক’ ও ‘স্থানীয় প্রশাসন’ শব্দ গুলোর পরিবর্তে ‘শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার’ শব্দ সংশোধন করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

কিন্তু বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবক মূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন ২০১৬ এর ১০(৫) ধারায় উল্লেখ রয়েছে-এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে কোন কার্যালয় না থাকায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং ইউএনও এনজিও পরিচালিত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, মাসিক সভা, কোন অনিয়ম হলে তা রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া, এনজিও ব্যুরোতে মাসিক সভার প্রতিবেদন প্রেরণ ইত্যাদি বিষয় সরাসরি দেখভাল করবেন। তাই কক্সবাজার আরআরআরসি কার্যালয় থেকে গত ৭জুন প্রেরিত পত্রটি উল্লেখিত আইনের পরিপন্থী হওয়ায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে এনজিও ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ শাহাদৎ হোসাইন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এর কাছে গত ১৪জুন ২৩২ নম্বর স্মারকে একটি পত্র দিয়েছেন।

এদিকে, কক্সবাজার আরআরআরসি অফিস NGO কার্যক্রমের একক কর্ত্বত্ব নেওয়ার প্রচেষ্টার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন- কক্সবাজারের স্বার্থ সুরক্ষায় গঠিত বিভিন্ন সংগঠন। তাঁরা বলেছেন, নিয়মিত আইন পরিবর্তন করে NGO গুলোর কার্যক্রমের একক কর্ত্বত্ব আরআরআরসি অফিস নেওয়ার বিষয়টি কক্সবাজার জেলাবাসীর জন্য মোটেও সুখকর বিষয় নয়। প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে সম্পুর্ণ অস্থায়ীভাবে জায়গা করে দিয়েছিলন। এতে কক্সবাজার জেলা বিভিন্নভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ। তাই NGO গুলোর কার্যক্রমের বরাদ্দের ৫০% থেকে ৩০% বরাদ্দ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যয় করার জন্য তাঁরা বার বার দাবি জানিয়ে আসছেন।

কক্সবাজারের স্বার্থ সুরক্ষায় সবসময় স্বোচ্ছার ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ নামক সংগঠনটির সমন্বয়কারী মহসীন শেখ বলেছেন, NGO এর কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে থাকলে কক্সবাজার জেলাবাসীর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে তারা তৎপর থাকেন। স্থানীয় জনসাধারণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন। কিন্তু এটার কর্তৃত্ব এককভাবে আরআরআরসি অফিসের কাছে চলে গেলে NGO গুলো তাদের বরাদ্দকৃত অর্থ শুধু রোহিঙ্গা শরনার্থী এবং NGO গুলোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করবে। এতে কক্সবাজার জেলাবাসীর চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ন্যয্য হক থেকে বঞ্চিত হবেন বলে মহসীন শেখ আশংকা পোষন করেছেন। একই বিষয়ে কক্সবাজার সোসাইটির আহবায়ক কমরেড গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, NGO গুলোর কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব জেলা প্রশাসন থেকে আরআরআরসি অফিসে চলে গেলে NGO গুলো তাদের ইচ্ছে মাফিক কার্যক্রম শুরু করবে। তাঁর মতে, আরআরআরসি অফিস জেলার সার্বিক পরিস্থিতি দেখভাল করার যথাযথ অথরিটি নন। তাই NGO গুলোর উপর জেলা প্রশাসনের তদারকির দায়িত্ব খর্ব করা হলে NGO গুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। তারা আরো বেপরোয়া হয়ে যাবে। এতে স্থানীয় জনসাধারণ আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে কমরেড গিয়াস উদ্দিন আশংকা পোষন করেছেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার আরআরআরসি অফিসের মন্তব্য জানার জন্য অনেক চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •