মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলাধীন ডুলাহাজারা ইউনিয়নে স্লুইস গেইটের অভাবে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন ডুবে আছে পানির নিচে। পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় ইউনিয়নের বৈদ্দ ঘোনা বিলের ৬০০ একর কৃষি জমি বর্ষার পানিতে ডুবে রয়েছে। এতে চাপা কান্না বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে।
ইতিপূর্বে এসব জমিতে ধানের চারা রোপন করলেও তা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চলতি বর্ষার মৌসুমে কয়েক দফা টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে বৈদ্দ ঘোনায় রোপনকৃত ধানের চারা নষ্টের অন্যতম কারণ। এতে করে বিপাকে পড়ছে ধারকর্জ করে চাষাবাদ শুরু করা গ্রামের হাজারো কৃষক। তাদের চোখের সামনেই নষ্ট হচ্ছে জমিতে রোপিত ধান ও ধানের চারাগুলো। যে চাষাবাদ নিয়ে কৃষকরা স্বপ্ন দেখেছিল এখন সেখানে হাহাকার ও চোখে-মুখে ফসল হারানোর শঙ্কা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বৃহত্তর বিল বৈদ্দ ঘোনায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালীরা। মাছ চাষ করতে দীর্ঘদিনের পুরাতন এ স্লুইস গেইটটি যথাসময়ে খোলা বন্ধ রাখা হচ্ছে না। এরই কারনে বৃহত্তর এ বিলে জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়নের বালুরচর, উলুবনিয়া, উত্তর পাড়া, ষোলহিস্যা গ্রাম সংলগ্ন ৬শ একরের বেশি কৃষি জমি রয়েছে বৈদ্দ ঘোনায়। বৃহত্তর এ বিলের পশ্চিমে রয়েছে একটিমাত্র পানি নিষ্কাশনের ভাঙ্গাচোরা স্লুইস গেইট। এটি যথাসময়ে খোলা বন্ধ না থাকায় বিলে জমে থাকা পানি বের হতে পারছে না। যারফলে কৃষি জমিগুলোর ধানক্ষেত বর্তমানে পানির নিচে। পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৈদ্দা ঘোনার জমিতে নির্ভরশীল হাজারো কৃষক ফসল উৎপাদন চরম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানায় কৃষকরা। এর মাঝেও তারা অন্যের কাছ থেকে ধার-দেনা করে মনের আশা নিয়ে ওসব জমিতে ধানের চারা রোপন করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে চারাগুলো পানির নিচে পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ভুক্তভোগী চাষিরা পুরাতন স্লুইস গেইট সংস্কার ও নতুন আরেকটি স্লুইস গেইট বসার দাবি জানায়। এ বিষয়ে তারা লিখিত আবেদন সহকারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস.এম নাসিম হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বৈদ্দ ঘোনা বিলে পানি জমে থাকা চাষি জমির ছবিও পেয়েছি। ভুক্তভোগী কৃষকদের লিখিত আবেদন পেলে আরো ভাল হয়। শীঘ্রই বিষয়টি ইউএনও স্যার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •