শাহেদ মিজান, সিবিএন:
মেজর (অব.) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যা মামলার আসামী কারান্তরীণ টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাব।

আজ মঙ্গলবার (১৮আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১-টার দিকে র‌্যাবের একটি বিশাল নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে সিনহা হত্যা মামলার এই তিন আসামীকে হেফাজতে নিয়ে যায় র‌্যাব।
জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

pর‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, মেজর (অব.) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসর দায়ের করা মামলায় বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ, এসআই লিয়াকত ও এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতসহ সাত পুলিশ সদস্যসহ ১০ জনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পৃথক পৃথক ভাবে তাদের রিমান্ড আবেদন এবং মঞ্জুর করা হয়। এরমধ্যে সাত পুলিশ ছাড়া অন্য তিন আসামী টেকনাফ বাহারছড়া বাসিন্দা এবং সিনহা হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলা সাক্ষী। পরে তাদের সিনহার পরিবারের দায়ের করা মামলায় আসামী দেখিয়ে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
ইতোমধ্যে ওই দিন সাক্ষী এবং চার পুলিশ সদস্যকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে এবং তাদের রিমান্ড এখনো চলছে। অবশিষ্ট তিন শীর্ষ আসামী বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে আজকেই রিমান্ডের জন্য হেফাজতে নিলো র‌্যাব। গত ৬ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই তিন আসামীর প্রত্যেককে ৭দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
মামলার বাকী এজাহারভুক্ত ৪ আসামী পুলিশের বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, সন্দেহজনক ৩ আসামি টেকনাফের বাহারছরার মারশবনিয়া এলাকার নাজিম উদ্দিন নাজু’র পুত্র নুরুল আমিন, নজির আহমদের পুত্র নিজাম উদ্দিন ও জালাল আহমদের পুত্র মোহাম্মদ আয়াছ গত ১৪ আগস্ট থেকে রিমান্ডে রয়েছেন।
এই ৭ জন আসামীকে রিমান্ড করার জন্য কারাগার থেকে গত ১৪ আগস্ট সকালে মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যা মামলার আইও সিনিয়র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম এর হেফাজতে নেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই খুন হওয়া মেজর (অব.) সিনহা মোঃ রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে খুন হন। এরপর ৫ আগস্ট তার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে বরখাস্ত হওয়া প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী, নন্দলাল রক্ষিত, সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া সহ ৯জনকে আসামী করে টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। পরে মামলা টেকনাফ থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •