জাহেদুল ইসলাম, লোহাগাড়া:

লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগরে পরিতক্ত ডোবা থেকে মা-মেয়ে দু’জনের লাশ উদ্ধার করেছে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার আধুনগর (ঘাটিয়ার পাড়া) গ্লোবাল ব্যাংকের পেছনের ডোবা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া মগনামা শরৎঘোনা ১ নং ওয়ার্ড এলাকার বাদশা মিয়ার স্ত্রী রাশেদা বেগম (৩৭) ও মেয়ে ময়না আক্তার (১৩)।

সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, নিহতরা লোহাগাড়া সদর বায়তুন নুর পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত সোমবার বেলা ১টায় নিহত ময়না বাড়ি থেকে শাক তুলতে বের হয়। বিকেলের কোন এক সময় গ্লোবাল ব্যাংক লি: এর আধুনগর শাখার পেছনের পরিতক্ত ডোবাতে শাক তুলতে গিয়ে বৈদ্যুতিক ছেঁড়া তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যায় ময়না। ওই সময় তার চিৎকার শোনতে পেয়েও কাউকে দেখতে পায়নি স্থানীয়রা।

অপরদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেয়েকে খোঁজতে বের হয় মা রাশেদা। পরিতক্ত ডোবাতে মেয়ের মৃত দেহ দেখে চিৎকার দিয়ে মেয়েকে ধরে টানার সময় তিনিও বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। নিহত রাশেদা ৪ কন্যা ও ১ ছেলে সন্তানের জননী।

নিহতের স্বামী বাদশা মিয়া স্ত্রী ও মেয়ের লাশ দেখে কিছুই বলতে পারছে না। তিনি অবাক দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে মাত্র।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানা পুলিশের এসআই আব্দুল হক ও এসআই দুলাল বাড়ৈ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ে দু’জনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এসআই আব্দুল হক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে নিহত মা-মেয়ে দু’জনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তেররজন্য মর্গে প্রেরণ করবে বলেও জানান তিনি।

লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. সারওয়ার জাহান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক লাইনম্যান গিয়ে ছেঁড়া তার উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এজিএম প্রশান্ত বিশ্বাসের নেতৃৃত্বে ২ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টীম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

লোহাগাড়া থানার ওসি মো. জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়। লাশের সুরতহাল শেষ হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্য মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •