বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহরের পেশকার পাড়ায় মোঃ ছৈয়দুল আলম নামে এক ব্যক্তির কেনা দীর্ঘ ১৩ বছরের দখলীয় জমি জবর দখলের অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের এসএম পাড়ার কলিম উল্লাহ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। জায়গা দখলের অপচেষ্টা হিসেবে ওই জায়গা বসবাস করা ছৈয়দুল আলম ভাড়া বাসায় তালা দিয়েছে কলিম উল্লাহ। তাতে ভেতরে বন্দি হয়ে পড়ে ওই বাসায় থাকা শিশুসহ অন্যান্য সদস্যরা। তবে অভিযোগ পেয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে তালাটি ভেঙে বন্দি থাকা লোকজনকে মুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছৈয়দুল আলম জানান, তিনি ২০০৭ সালে কক্সবাজার মৌজার বিএস ৬৯৭ খতিয়ানের ১০০২৭ দাগের ৭ শতক নিষ্কন্টক জমি ক্রয় করেন। পরে ওই জমির চারপাশে সীমানা দেয়াল দিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ভোগ দখলে রয়েছেন। সেখানে একটি বাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।

অন্যদিকে একই মালিকের স্বত্বীয় বিএস ১১৭০ খতিয়ানের ১০০৫০ দাগের সাড়ে ৩ শতক ক্রয় করেন এসএম পাড়ার কলিম উল্লাহ। তার স্ত্রী মর্জিয়া আকতারের নামে তিনি ওই জমি ক্রয় করেন। কলিম উল্লাহ জমি ক্রয়ের কয়েক বছর পর বেআইনীভাবে ছৈয়দুল আলমের ক্রয় করা দাগ-খতিয়ানের জমি থেকে তার কেনা জমির অংশ দাবি করে। একই মালিকের স্বত্বীয় হওয়ার অজুহাতে কলিম উল্লাহ ছৈয়দুল আলমের কেনা ও দখলীয় জমি থেকে তার অংশ দাবি করেন। এই নিয়ে ওই সময় কক্সবাজার পৌরসভায় একটি সালিশী বৈঠক হয়। সালিশে খতিয়ান ও দাগ মতো ছৈয়দুল আলম বর্তমান দখলীয় হওয়ায় রায় তার পক্ষে হয়।

ছৈয়দুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন চুপ থাকলেও সম্প্রতি আবারো আমার জমির উপর লোলুপ দৃষ্টি দিয়েছে কলিম উল্লাহ। তিনি বার বার আমার জমিটি জবর দখলের চেষ্টা করছেন। তাই বাধ্য আমি থানায় ও পৌরসভায় অভিযোগ দায়ের করি। আমার অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একবার বৈঠক হলেও মীমাংস হয়নি। একইভাবে পৌরসভার অভিযোগটিও অমীমাংসিত রয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) পৌরসভার অভিযোগের বৈঠকের দিন ধার্য্য থাকলেও ছুটির দিন হওয়ায় তা হয়নি। কিন্তু সালিশ বৈঠকই দিনই লোকজন সাথে নিয়ে আমার ভাড়াটিয়াদের বাড়িতে তালা দিয়ে জমি দখলের অপচেষ্টা করে দেয় কলিম উল্লাহ।

বাড়ি বাইর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাড়িতে বন্দি ওই ভাড়াটে পরিবারের লোকজন। উল্টো তাদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলিম উল্লাহর অবৈধভাবে জমির জবর দখল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পৌরসভা ও থানা পুলিশের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ছৈয়দুল আলম।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় কলিম উল্লাহর বক্তব্য নেয়া যায়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •