মোস্তফা কামাল, লামা থেকে ফিরেঃ
বান্দরবানের লামা উপজেলায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেট। আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলছে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা। গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন মডেলের অন্তত ১৮-২০ টি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। চুরি হওয়া এসব মোটরসাইকেল উদ্ধারে প্রশাসনের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। সংঘবদ্ধ চোরদের দৌরাত্ম্যে এখন অসহায় হয়ে পড়েছে মোটরসাইকেল মালিকরা।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরসহ আশপাশের এলাকায় একাধিক চক্র এ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। মোটরসাইকেল মালিকরা বিভিন্ন যান্ত্রিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেও চুরি ঠেকাতে পারছে না। গত কয়েকদিনের অব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫টির বেশি মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর অাগে জুলাই মাসের ৪ তারিখ রাতে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউপি সচিস মোঃ শহীদ হোছাইনের বাড়ি থেকে তাদের তিন ভাইয়ের তিনটি মোটরসাইকেল একরাতেই চুরি হয়ে গেছে।

এছাড়াও গত এক সপ্তায় সরই ইউনিয়নের কম্পনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইয়াছিন আলীর একটি, পৌরসভার মোঃ নেচার উদ্দিনের একটি, লামা কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার একটি ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী বাজার এলাকার গ্রাম পুলিশ আলী আকবরের একটি ডিসকাভার মোটরসাইকেল এবং গত ১৫ অাগস্ট রাতে উপজেলার অাজিজ নগর থেকে অারো দুইটি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়।

এসব চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা লামা থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি ও মামলা করেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, লামা উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে মোটরসাইকেল চোর চক্র। দিন দিন বেড়েই চলছে বাইক চুরির ঘটনা। বাইক চোর এ সিন্ডিকেট থেকে কেউ বাদ পড়ছে না। একাধিক সংঘবদ্ধ চোরেরা নকল চাবির সাহায্যে যেকোনো মোটরসাইকেলের তালা খুলে গাড়ি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে এসব বাইক চুরির ঘটনায় থানায় একাধিক ডায়েরি ও মামলা থাকলেও এসব মোটরসাইকেল উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। চুরি হওয়া একটি বাইকও এপর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি অাইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
এবিষয়ে জানতে চাইলে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় থানায় একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি রয়েছে, চুরি হওয়া এসব মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোর চক্রদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •