cbn  

মহেশখালীতে শিল্পকলা একাডেমীকে প্রাণ দিতে ইউএনও স্যার এর যে উদ্যোগ তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। বিগত ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন ইউএনও জনাব লোকমান হাকিমের সময়কালে মহেশখালী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম চালু থাকলেও পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব জামাল উদ্দীনের আমলে নানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। যা প্রত্যন্ত অঞ্চল মহেশখালীর জন্য দুঃসংবাদ বলা যায়। মূলত, শিল্প – সংস্কৃতি হলো জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যে জাতি যতবেশি সংস্কৃতিমনা, সে জাতি বাহ্যিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে ততবেশি উন্নত।

মহেশখালীতে দীর্ঘদিন শিল্পকলা একাডেমী নামে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তা কাজে ছিলোনা। কোন প্রতিযোগিতা, কোন সাংস্কৃতিক আড্ডা কোনটাই ছিলোনা। যার ফলে মহেশখালীর নতুন প্রজন্ম এখন সংস্কৃতিমনা নয়। বরং পেছন দিকে ধাবমান। এভাবে হয়তো একটা সময় মহেশখালী অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাবে। কিন্তু, এমন একটি সময় থেকে রক্ষা করতে আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব জামিরুল ইসলাম স্যার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে ওনার পৃষ্ঠপোষকতায় পাবলিক লাইব্রেরী প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে বিপথ থেকে বইমুখি করতে এটাও বৃহৎ উদ্যোগ।

সবকিছু ঠিক থাকলে হয়তো আগামী ১৮ তারিখ শিল্পকলা একাডেমীর নতুনভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই স্বভাবতই সবার মধ্যে এখন একটা উৎসাহ – উদ্দীপনা কাজ করছে। নির্বাচনী ফরম সংগ্রহ, জমা দেওয়া, প্রচার-প্রচারণা ইত্যাদি সবকিছুতে একটা আমেজ বয়ে আসছে। এটা দেখতেও কেমন জানি ভালো লাগা কাজ করছে। কিন্তু, পরক্ষণই এই ভালো লাগাটা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় কিছু মানুষের অসহ্যকর আচার আচরণে। অর্থাৎ, এই যে নির্বাচনী ধারাকে কিছু শিক্ষিত ও বিবেকওয়ালা (বিবেকহীন) সুশীল সমাজ ‘ট্রলে’ পরিণত করছে। আর কিছু ব্যক্তিত্ব সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই দু’ধরনের মানুষের কারণে “মহেশখালীর শিল্পকলা একাডেমী” যে নতুন করে স্বপ্ন জাগিয়েছে তা হয়তো বেশিদূর আগাবেনা বা টেকসই হবেনা।

আমার এই ছোট্ট মস্তিষ্কের কাটামোতে বুঝা আসছেনা, এটি নিয়ে ‘ট্রল’ করারও কি আছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাটানোরও কি প্রয়োজন?

প্রথমত ‘ট্রল’ করলে যারা প্রকৃত সংস্কৃতিমনা, যারা মহেশখালীর আনাচা কানাচে শিল্প-সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে তারা স্বাভাবিকভাবেই নিরুৎসাহিত হবে! শিল্প, সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও তা লুপে যাবে। যার ফলে শিল্পকলা একাডেমী যাদের জন্য এতদিন চুপসে গেছিলো, ওইরকম মানুষরাই আবার স্থান পাবে। প্রকারান্তরে, আবারও আগের মতো ধ্বস নামবে।

অন্যদিকে, এখানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোটা আরো বেশি জঘন্যতম অপরাধ! এ ধরনের বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোন অযোগ্য ব্যক্তি স্থান নিলে, তাহলে এটি কখনো টেকসই হবেনা। এদের চোরাচালান ও দুর্নীতির কারণে অচিরেই ধ্বংস হবে।

সুতরাং, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ট্রল’ করছেন বা রাজনৈতিক প্রভাব কাটানোর জন্য উঠেপড়ে লাগছেন, তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, এ ধরনের কাজ করে মহেশখালী শিল্পকলা একাডেমীকে নবরূপ দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেটাকে কলুষিত করবেন না। বরং, সাপোর্ট ও অনুপ্রেরণা দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের পদে আসীন করে মহেশখালীকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সহযোগিতা করুন। এ শিল্পকলা একাডেমী চালু না থাকায় আগ্রহী শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির পথ থেকে পিছিয়ে পড়া মহেশখালীর শিক্ষার্থীরদেরকে পুনরায় ফিরিয়ে এনে সংস্কৃতির চাদরে আবৃত করুন।

ইয়ামিন শাহরিয়ার।
মহেশখালী, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •