বার্তা পরিবেশক:
চরম মিথ্যাচারের মাধ্যমে কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে গণপূর্ত আবাসিক এলাকার হোটেল সূগন্ধার পেছনে ‘পিংক শোর’ নামের একটি আবাসিক হোটেল দখলে নিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে নাছির উদ্দিন মোহাম্মদ মহসিন ও তৌহিদুল আনোয়ার নামের দুই ব্যক্তি। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে চুক্তিমূলে হোটেলটির পরিচালনায় থাকা মাহাছুমুল ইসলাম রাসেল নামের এক ব্যবসায়ীকে হোটেল থেকে উচ্ছেদে শুধু মিথ্যাচারই নয়, প্রায় এক বছর ধরে দফায় দফায় হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও মহড়া দিয়ে আসছে নাছির উদ্দিন মোহাম্মদ মহসিন ও তৌহিদুল আনোয়ার নামের ওই দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ দল। সর্বশেষ গত ৯ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ওই হোটেলে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে হোটেল দখলের চেষ্টা করলে মাহাছুমুল ইসলাম রাসেল কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে সচিত্র সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়। কিন্তু আশ্চর্য্যজনক হলেও সত্য যে, চরম মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে চক্রটি হোটেল তাদের দখলে উল্লেখ করে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। এসব ঘটনায় কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ওই পর্যটন ব্যবসায়ী উদ্বিগ্ন ও ভীতস্বন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন বলেও জানান।
হোটেল পরিচালনায় নিয়োজিত পর্যটন ব্যবসায়ী মাহাছুমুল ইসলাম রাসেল অভিযোগ করে জানান, কক্সবাজার গণপূর্ত অধিদপ্তরাধীন সমুদ্র সৈকত আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ২৬নং প্লটে স্থিত ‘পিংক শোর’ নামের হোটেলটি ২২/০৬/২০১৭ ইং তারিখে নাছির উদ্দিন মোঃ মহসিনের সাথে রফিকুল ইসলামের সাথে চুক্তিমূলে তিনি (মাহাছুমুল ইসলাম রাসেল) পরিচালনা করে আসছেন। হোটেলটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার স্বপক্ষে বিদ্যুৎ, ট্রেড লাইসেন্সসহ যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে। হোটেলটি দখলে নিতে নাসির উদ্দিন মোহাম্মদ মহসিন দফায় দফায় হোটেলে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েও ব্যর্থ হন। এর মধ্যে গত ৪/১২/২০১৯ ইং তারিখ দিবাগত রাত ২টার দিকে হামলা হলে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ১৩২৬/২০১৯ নং মামলা হয়। যা তদন্তে সত্য প্রমানে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। এরপর ২৪/১২/২০১৯ ইং তারিখ সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অন্ধকারে হোটেল দখলের অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রীট পিটিশন নং-১৫০৯৩/২০১৯ মামলার নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য আদেশের এডভোকেটের প্রত্যয়নপত্র থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে না পারায় হোটেল দখলে ব্যর্থ হয় চক্রটি। এ ঘটনার তিন দিন পর ২৮/১২/২০১৯ ইং তারিখ রাত ৯টার দিকে নাছির উদ্দিন মোহাম্মদ মহসিনের নেতৃত্বে আবারও হোটেল দখলের নিমিত্তে হোটেল সংশ্লিষ্টদের অস্ত্র ও মাদক মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু থানা পুলিশ ঘটনা বুঝতে পারায় তারা হোটেল দখলে ব্যর্থ হয়। ওই ঘটনায় ২৯/১২/১৯ ইং তারিখের আজকের দেশ বিদেশ পত্রিকা, ৩০/১২/১৯ ইং তারিখে সমুদ্র কন্ঠ পত্রিকা, একই তারিখে আজকের দেশ বিদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে নাছির উদ্দিন মোঃ মহসিন হোটেল পরিচালনায় নেই এমন দাবী করে তার নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন। একই সাথে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর মডেল থানার ওসি’র বক্তব্যেও হোটেলটি দখলে নিতে কৌশলে পরিকল্পিত ঘটনা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মন্তব্য প্রকাশিত হয়। ফলে নাছির উদ্দিন মোঃ মহসিন হোটেলের দখলে রয়েছে উল্লেখে তার উপর হামলা হয়েছে দাবী করে অভিযোগ মিথ্যা বৈ আর কিছুই নয়। সর্বশেষ গত ৯/৮/২০২০ ইং তারিখ সকাল ১০টার দিকে আবারও হোটেলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। ওইসময় নগদ টাকা, ২৩টি টিভি, ৩টি ল্যাপটপ, সিসিটিভি ও অন্যান্য মূল্যবান মালামালসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় নাছির উদ্দিন মোঃ মহসিনের নেতৃত্বে হামলাকারী লোকজন। ওই ঘটনায় মাহাছুমুল ইসলাম রাসেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। একই সাথে ঘটনাটি ৯ আগষ্ঠ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পত্রিকায় এবং ১৪ আগষ্ঠ দৈনিক সকালের কক্সবাজার পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইনে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু নাছির উদ্দিন মোঃ মহসিন চরম মিথ্যাচারের মাধ্যমে হোটেলটি তাদের দখলে আছে দাবী করে ১৪ আগষ্ঠ ঘটনা হয়েছে উল্লেখে উল্টো মাহাছুমুল ইসলাম রাসেল গং এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগেও থানা পুলিশ হোটেলে গিয়ে মাহাছুমুল ইসলাম রাসেলকে হোটেল পরিচালনায় দেখতে পান এবং নাছির উদ্দিন মোঃ মহসিনের অভিযোগের কোন সত্যতা পাননি।
মাহাছুমুল ইসলাম রাসেল আরও জানান, ৬/৭/১৭ ইং তারিখের ৮৫৪, ৮৫৫, ৮৫৬ এবং ২৪/১০/১৭ ইং তারিখের ১২৮০৮, ১২৮০৯, ১২৮১০ নং ষ্ট্যাম্পমূলে চুক্তি জালিয়াতি করা হয়েছে উল্লেখ করে থানাসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়ে মিথ্যাচার করে আসছেন নাছির উদ্দিন মোঃ মহসিন। অথচ তার উল্লেখিত নম্বরের ষ্ট্যাম্পে কোন চুক্তিই হয়নি। ২২/৬/২০১৭ ইং তারিখে ৩৪৭৮৪ থেকে ৩৪৭৯০ পর্যন্ত নম্বরের ষ্ট্যাম্পমূলে ৮৪২/এ নম্বর নোটারিমূলে নাছির উদ্দিন মোঃ মহসিনের সাথে রফিকুল ইসলামের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। কিন্তু তিনি চরম লোভের বশবতর্ী হয়ে চরম মিথ্যাচারের মাধ্যমে একদিকে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করছে, অন্যদিকে হোটেল দখলে নিতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের মতো অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে, চুক্তিমূলে প্রায় ৩ বছর ধরে হোটেল পরিচালনায় থাকা পর্যটন ব্যবসায়ী মাহাছুমুল ইসলাম রাসেলকে অন্যায়ভাবে হোটেল থেকে উচ্ছেদে নাছির উদ্দিন মোঃ মহসিন চরম মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন। এ সংক্রান্তে কয়েকটি পত্রিকায় নাছির উদ্দিন মোঃ মহসিনের পক্ষে দেয়া মিথ্যা প্রতিবেদনে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধসহ নিরাপত্তা দাবী করেছেন মাহাছুমুল ইসলাম রাসেল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •