cbn  

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার জেলার পর্যটন শিল্পের সাথে বিভিন্নভাবে প্রায় ২লক্ষ লোক জড়িত। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোকে তাদের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে সীমিত আকারে পর্যটন শিল্প আগামী সোমবার ১৭ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে স্বাস্থবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পর্যটন শিল্প খুলতে হবে। মেনে চলতে হবে, এ বিষয়ে প্রণীত কর্মপন্থার সকল নিয়মকানুন ও শর্তাবলি। মানতে হবে-জাতীয় গাইডলাইন। এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলেই আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়া নিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি এ হুশিয়ারি দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এ বিষয়ে পর্যটনের স্টেক হোল্ডার সহ কক্সবাজারে পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য বিধি, কর্মপন্থা ও গাইডলাইন সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। পর্যটন শিল্পের প্রতিটি পর্যায়ে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং আগত পর্যটকদের যে কোন অবস্থাতেই স্বাস্থ্য বিধি মানাতে বাধ্য করতে হবে। তারপরও কেউ স্বাস্থ্য বিধি লঙ্গন করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এজন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে খুলে দেওয়া পর্যটন এলাকা সার্বক্ষনিক তদারকি থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন।

পর্যটন শিল্পের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে উখিয়া-টেকনাফের পর্যটন শিল্পও খুলে দেওয়ার অনুরোধ কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে এসেছে-সে ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, কক্সবাজার পৌর এলাকায় পর্যটন শিল্প আগামী ১৭ আগস্ট থেকে সীমিত আকারে খোলা থাকাবস্থায় কোভিড-১৯ এর সংক্রামণের মাত্রা ও গতি প্রকৃতি পর্যবেক্ষন করে পর্যটন শিল্পের উম্মুক্ত এলাকা আরো সম্প্রসারিত করা বা সংকুচিত করার বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দীর্ঘ প্রায় ৫মাস বন্ধ থাকার পর আগামী ১৭ আগস্ট সোমবার থেকে সীমিত আকারে কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্ট সহ পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র কক্সবাজার পৌর এলাকার পর্যটন শিল্প সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান সমুহ খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির জুম কনফারেন্স সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা নিয়েছে। জুম কনফারেন্সে কক্সবাজারে কোভিড-১৯ এর সার্বিক সমন্বয় এর দায়িত্বরত স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব-উপসচিব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অনুপম বড়ুয়া, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি নজিবুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের প্রতিনিধি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় ৫ মাস পর সীমিত আকারে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদে, ভাসমান ব্যবসায়ী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে প্রস্তুতির ধুম পড়ে গেছে। সকলের হাক-ডাকে সরব হয়ে উঠেছে বীচ, হোটেল মোটেল জোন এলাকা। ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। নিচ্ছেন, স্বাস্থ্য বিধির আলোকে বিভিন্ন ব্যবস্থা। ফিরে আসছে, কক্সবাজারের কোলাহলময় ঐতিহ্যবাহী পর্যটন শিল্পের আসল রূপ। যদিও বা পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারে ব্যাপকভাবে পর্যটক আসা শুরু করেছে। দীর্ঘ প্রায় ৫ মাস করোনা পরিস্থিতিজনিত কারণে অবরুদ্ধ থাকার পর এখন একটু সাগরের নির্মল হাওয়া নিতে, লোনাজলে একটু পা ভেজাতে, দীর্ঘ বালুকাময় সৈকতে খালি পায়ে হাটতে, সাগরের বিশাল ঢেউ দেখতে, পাহাড় আর সাগরের অপরূপ বন্ধন দেখতে, শুঠকী মহাল আর ঝিনুক শিল্প দেখতে উদগ্রীব থাকা পর্যটকেরা ছুটে আসছে তাদের স্বপ্নের কক্সবাজারে।

আগামী অক্টোবর মাস থেকে কক্সবাজারে পর্যটন মওসুম শুরু হওয়ার মাস দেড়েক আগেই কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প উম্মুক্ত করে দেওয়ায় পর্যটন শিল্প উদ্যোক্তারা বেশ খুশি। তারা আসন্ন পর্যটন মওসুমের জন্য সময় নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

কক্সবাজার জেলা টুরিস্ট পুলিশও পর্যটক এবং পর্যটক শিল্পের সার্বিক নিরাপত্তায় বেশ প্রস্ততি নিয়েছেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, রেসকিউ টিম গুলো সহ সংশ্লিষ্ট সকলে তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমুহ নিশ্চিত করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •