cbn  

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া :

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় নানীকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ১৬ মাস বয়সী এক এতিম শিশুকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গেছে একদল দূর্বূত্ত। গতকাল ১৪ আগষ্ট বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরানামা বাজার পাড়া গ্রামে শিশু অপহরণের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ওই এতিম শিশুর নানী মোশরফা বেগম বাদী হয়ে গতকাল রাতেই শিশু অপহরণের সাথে জড়িত ৩ জনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা বাজার পাড়া গ্রামের মোশরফা বেগমের বড় মেয়ে তানিয়া জান্নাতকে স্বামী ও শাশুর বাড়ির লোকজন চলতি বছরের ২২ জানুয়ারী যৌতুকের দাবিতে নির্যাতিন চালিয়ে হত্যা করে। এ নিয়ে মোশরফা বেগম বাদী হয়ে তার মেয়ে তানিয়ার স্বামী, শাশুরী ও এক দেবরকে আসামী করে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারী পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

তানিয়া নিহতের সময় তার কোলে ৯ মাস বয়সী এক ফুটফুটে শিশু সন্তান ছিল্। পরে পেকুয়া থানা পুলিশ ও স্খনীয় গণ্যমান্য লোকজন নিহত তানিয়ার শিশুপুত্রকে তার নানীর জিম্মায় লালন পালন করার জন্য দেওয়া হয়। সেই থেকে স্বামী ও শাশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনে নিহত তানিয়ার একমাত্র শিশুপুত্রকে তার নানি মোশরফা বেগম অতিযতেœ লালন পালন করে আসছিলেন। সারাক্ষণ নাতিকে বুকে আগলে রেখে মেয়ে হারানোর কষ্ট ভূলে যেতে চেষ্টা করেন মোশরফা বেগম। এখন নাতীকে দূর্বূত্তরা অপরহণ করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে নানী মোশরফা বেগম নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে নাতির জন্য বিলাপ করে কাঁদছেন।

মোশরফা বেগম অভিযোগ করে জানান, ১৬ মাস বয়সী অতি আদারের নাতি আব্রাহাম তাহসিনকে গতকাল ১৪ আগষ্ট বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মেহেরানাম বাজার পাড়া গ্রামের নুরুল আলমের স্ত্রী রেহেনা বেগম, তার পুত্র নুরুল আবছার প্রকাশ মিয়া ও মেয়ে তছলিমা বেগমসহ কয়েকজন লোক ধারালো অস্ত্রেও ভয় দেখিয়ে তার বাড়ী থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা তার নাতীকে হত্যার উদ্দেশ্যে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গিয়ে তারা আটকে রেখেছে। তার ১৬ মাস বয়সী নাতীকে অপহরণকারীদের কবল থেকে উদ্ধারের জন্য গতকাল রাতেই অপহরণকারী ৩ জনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম জানান, উক্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •