cbn  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পারস্য উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউইএ) ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছে। আরব আমিরাত ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে সই করবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে, ইরান, তুরস্ক সহ ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ সংগঠনগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের এ সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিনি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করেছে এবং এ ব্যাপারে তাদের কঠোর প্রতিবাদের কথা ব্যক্ত করেছে।

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, এই সমঝোতা ফিলিস্তিনি জাতির স্বার্থ রক্ষা করবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনবিরোধী অপরাধযজ্ঞের ‘প্রতিদান’ হিসেবে তেল আবিবের সঙ্গে এই সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।

হামাসের আরেক মুখপাত্র ফাউজি বারহুম বলেছেন, তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিলিস্তিনি জাতির পিঠে ছুরি বসিয়েছে।এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ইহুদিবাদী ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এদিকে ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলন বলেছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভাকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে। ইসলামী জিহাদ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা দাউদ শিহাব এ মন্তব্য করেছেন, আরব আমিরাত এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরাইলের প্রতি নতজানু নীতি গ্রহণ করেছে এবং এর ফলে ইসরিইল তাদের ফিলিস্তিন বিদ্বেষী তৎপরতা চালাতে আরো উৎসাহী হবে ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রানালয বলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন সিদ্ধান্তের দ্বারা ফিলিস্তিন ও গোটা মুমলিম উম্মার পিঠে অন্যায়ভাবে ছুরি বসিয়ে দিয়েছে।

তুরস্ত বলেছে, আরব বিশ্ব সহ এ অঞ্চলের মানুষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ । তারা আমিরাতের বিশ্বাসঘাতক শাসকদের এরকম প্রতারনা ও ভন্ডামীপূর্ণ আচরণ কোনভাবেই ক্ষমা করবে না।

তেল সমৃদ্দ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। রাজতান্ত্রিক শাসনে পরিচালিত এ দেশটি কখোনোই ইসরায়েলের বিপক্ষে দাড়ায়নি বরং গোপনে গোপনে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। আমিরাত দাবী করছে, তাদের সাথে ইসরাইল সরকারের সম্পর্ক ঘনিষ্ট হলে ইসরায়েল আর একভাবে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনের জমি দখল পরিকল্পনা কার্যকর করতে পারবে না।

তুরষ্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ফিলিস্তানের মৌলিক স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ইসরায়েলের সাথে চুক্তি করার অধিকার আমিরাতকে কেউ দেয়নি।

তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান গতকাল (১৪ আগষ্ট, শুক্রবার ) ঘোষনা করেছেন, তার দেশ আমিরাতের মাথে সম্পর্ক কমিয়ে আনবে। এরই মধ্যে আমিরাতে নিযুক্ত তুরষ্কের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ডেকে পাঠাবার নিদ্ধান্ত নিয়েছে আংকারা।

ওমান সমর্থন করেছে চুক্তিকে

ওদিকে পার্শবর্তী দেশ ওমান সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইসরাইলের সাথে ঘনিষ্টতা বাড়িয়ে দিয়েছে। গতবছর ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ওমানের সরকারের আমন্ত্রনে মাসকাট সফর করেছেন। ওমান নিউজ এজেন্তী খবর দিয়ৈছে, আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্টতার চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে ওমান।

এ চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে আমিরাত হবে উপসাগরীয় দেশেগুলির মধ্যে প্রথম এং আরব দেশগুলির মধ্যে ওমান ও মিষরের পর তৃতীয় দেশ যারা ইসরাইলের সাথে সাথে পুরো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

অপরদিকে এ চুক্তির সমঝোতার ক্ষেত্রে আমেরিকার ভুমিকাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির একটা সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারনে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে আরব বংশোদ্ভূতদের ভোট কিছু বেশি পরতে পারে বলে মনে করছেন কোন কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ট্রাম্প আশা অন্য আরব দেশও আমিরাত-ইসরাইল চুক্তির দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। তাছাড়া, ফিলিস্তিনের পক্ষে দাড়িয়ে ইরান আরব বিশ্বের যে শ্রদ্ধা অর্জন করেছে তাও কিছুটা ম্লান করে দিতে পারে ইসরাইল-আমিরাতের এই চুক্তি ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •