cbn  

ডেস্ক নিউজ:

কক্সবাজারের কলাতলীর ঝিলংজা মৌজায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) ও সিআইডির অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণে ‘অনিয়মের’ মাধ্যকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির অংশীজনদের বাদ দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব টাকা উত্তোলন করেছে একটি চক্র। ভুক্তভোগীরা এই অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ মতে, ‘অনিয়মের’ মাধ্যমে এসব টাকা উত্তোলণে আদালতে মামলা থাকলেও তা পাত্তা দেয়নি ওই চক্র। এমনকি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে দায়ের করা একাধিক অভিযোগকেও আমলে নেননি সংশ্লিষ্টরা। এই ‘অনিয়মের’ ঘটনায় দুদকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আদালতে দায়ের করেছে আরও কয়েকটি মামলা।
দুদকের অভিযোগে অভিযোগকারী জানিয়েছেন, অনিয়ম করে কয়েক কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন উত্তোলনকারীরা। এর মধ্যে রয়েছেন, ইলিয়াছ ব্রাদার্সের পক্ষে এডভোকেট নেজামুল হক, চন্দ্রিমা বহুমুখী সমবায় সমিতির পক্ষে কক্সবাজার শহরের কলাতলী সৈকতপাড়ার মৃত সোলতান আহমদের পুত্র মোহাম্মদ ইদ্রিছ সিআইপি, ইদ্রিছ সিআইপির স্ত্রী জিন্নাত রেহেনা, ঈদগাঁও এলাকার এডভোকেট নুরুল হক (বর্তমানে বাহারছড়া), নুরুল হকের স্ত্রী শাওরীন জাহান, মহেশখালীর বেলায়েত হোসেন, নাছির উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন।

দুদকে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঝিলংজা মৌজার বি.এস ৫৭২ নং খতিয়ানের বি.এস ২০৩০৬ দাগ থেকে ১৯৯১ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৩/৯১-৯২ নং মামলা মূলে ০.৮৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে। সওজ এর ট্রেসম্যাপ অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত জমি বাদে রাস্তার দক্ষিণ পাশে ০.০৯ একর জমি অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু জালিয়াতির মাধ্যমে মূল তথ্য গোপন করে রাস্তার দক্ষিণ পাশে বি.এস ২০৩০৬ দাগ থেকে ০৪/২০১৮-১৯ ইং মামলা মূলে ০.১৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এভাবে ০.০৯ একর জমির অস্থিত্ব না থাকলেও তা অতিরিক্ত অধিগ্রহণ করে সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অধিগ্রহণকৃত ০.১৮ একর জমির মধ্যে ০.০২ একর জমির বি.এস ১২৩৩৬ নং খতিয়ানটিই বাতিল। ওই বাতিল খতিয়ান দেখিয়েই জমির ক্ষতিপূরণের টাকা নেয়া হয়েছে। এছাড়া রাস্তার দক্ষিণ পাশে যে ০.০৯ একর জমি রয়েছে সেখানে ০.০৫ একর জমির মালিক মোহাম্মদ ইলিয়াছ সওদাগর বলে দাবি করেন।

তিনি ওই জমি অধিগ্রহণে তার নামে রোয়েদাদ প্রচার না করে ভিন্ন নামে প্রচার করায় উচিত প্রতিকারের জন্য কক্সবাজার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অপর ২৪৯/১৯ নং মামলা এবং প্রতিপক্ষ ইলিয়াছ ব্রাদার্সকে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান না করার জন্য ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর কর্তৃপক্ষ বরাবর আপত্তি দাখিল করেন। কিন্তু মামলা থাকা স্বত্তেও দাখিলকৃত আপত্তির কোন শুনানী না করেই গোপনে প্রতিপক্ষ ইলিয়াছ ব্রাদার্সের পক্ষের লোকজনকে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা হয়। রাস্তার দক্ষিণ পাশে যে ০.০৯ একর জমি রয়েছে সেখানে ০.০২ একর জমির স্বত্ত দখল রয়েছে দাবী করে মামলা করেন সেলিম রেজা গং। শুধু তাই নয়, কক্সবাজার শহরের কলাতলী ঝিলংজার মৃত হাজি ছালেহ আহমদের পুত্র মফিজুর রহমানের নামে এল.এ ০৪/২০১৮-১৯ ইং হুকুম দখল মামলা মূলে ভূমি অধিগ্রহন শাখা থেকে ১১/০৯/২০১৯ ইং তারিখে ভূমি হুকুম দখল আইনের ৮(৩) ধারামতে নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু ইদ্রিছ সিআইপি, নুরুল হক ও বেলায়েতসহ অন্যরা ভূমি অধিগ্রহন শাখার কথিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজস করে জমির স্বত্ব দখলদার মফিজুর রহমানকে ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে গড়িমসি করেন। এক পর্যায়ে ভূমি অধিগ্রহন শাখা থেকে মফিজুর রহমানকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। যার কারণে মফিজুর রহমানও আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, এডভোকেট নুরুল হকের নামে দুই দফে ১১৩৫৪১০২ টাকা ও ১০৮৫০৫১৪ টাকা, বেলায়েত হোসেনের নামে দুই দফে ১৪৯৭৯৪৭০ টাকা ও ১০৮৫০০০০ টাকা, এডভোকেট নেজামুল হকের নামে ৫২৪৯১৯৮৭ টাকা, ইদ্রিছ সিআইপির নামে ৫ দফে ৩১৭৭৩৫১ টাকা, ১৯১২৩৮৯ টাকা, ৮৯১৫২৩০ টাকা, ৭৭৪৭৭৫৯ টাকা ও ৩১২৫৬৫৫ টাকা, ইদ্রিছের স্ত্রী জিন্নাত রেহেনার নামে ৩ দফে ৭০৭৫৫৭০ টাকা, ১৯৬৪৫৭০৩ টাকা ও ১৫৬০১৬৫৩ টাকা, মিজানুর রহমানের নামে ২ দফে ৪৩৯৩৭৭ টাকা ও ৭৬৮৫৯৭২ টাকা, নাছির উদ্দিনের নামে ৫২৩৩০৭৩ টাকা, শাওরিন জাহানের নামে ১৪২১৪৯৩২ টাকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে-বেনামে আরও বিপুল অঙ্কের টাকা তুলে নেয়া হয়। অথচ এদের অনেকের নামে ভূমি অধিগ্রহন শাখা থেকে নোটিশ ইস্যু হয়নি। নামে-বেনামে তুলে নেয়া অধিকাংশ টাকা জমা হয়েছে ইদ্রিছ সিআইপি ও এডভোকেট নুরুল হক এর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এড. নুরুল হক বলেন, আমাদের নামে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা। আমরা অধিগ্রহণ করা ওই জমির প্রকৃত স্বত্ত¡বান। তাই ভূমি অধিগ্রহণ শাখা যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমে আমাদের নামে চেক ইস্যু করেছে।

তিনি আরো বলেন, তারা অভিযোগ করলেও সেটা নিয়ে আমাদের করার কিছু নেই। বিষয়টি অধিগ্রহণ শাখা দেখবে। যেহেতু অধিকতর যাচাই করে তারা আমাদের স্বত্ত¡ পেয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •