মহেশখালী প্রতিনিধি:
মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের ডেইল্যাঘোনা এলাকায় সেনা সদস্যসহ দুই সহোদরের কেনা জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় একটি চক্র। মামলায় হেরে গেলেও জোর করে ওই জমি দখলের চেষ্টা করছে চক্রটি। এর অংশ হিসেবে জমির মালিক সেনা সদস্যসহ দুই সহোদরের নির্মাণাধীন দোকান ঘর ভাংচুর করে তান্ডব চালিয়েছে। গত ২৭ জুলাই এই ঘটনায় ঘটায় ওই চক্র। তবে এরপরও ক্ষান্ত হয়নি তারা। বর্তমানে ওই জমির মালিক কামরুজ্জামানকে প্রাণনাশের হুমকি ও জোর করে জমিটি দখল করবে হুমকি দিচ্ছে।

অভিযোগ মতে, ২০০৮ সালে ডেইল্যাঘোনা পুকুর ও সংলগ্ন ৯৩ শতক জমিটি কেনেন ছনখোলা পাড়া এলাকার আবদুল হাকিম মেম্বারের পুত্র কামরুজ্জামান ও তার ছোটভাই সেনা সদস্য বদরুজ্জামান। নিলামমূলে এমআর ৮৯ খতিয়ান, ও বিএস ২০০০ খতিয়ান মূলে চন্দ্র মহাজন ও কৃষ্ঞ চরণের ওয়ারিশগণ থেকে জমিটি কেনেন তারা। যার দলিল নং- ৪৮৫ এবং সৃজিত খতিয়ান নং ৪৭৫। সেই থেকে জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে রয়েছে দুই সহোদর কামরুজ্জামান ও সেনা সদস্য বদরুজ্জামান। কিন্তু এর মধ্যে ওই জমিটি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে একটি চক্রের। এই চক্রে রয়েছে, এলাহী শরীফের পুত্র মোরশেদ আলম, আব্দুন্নবীর পুত্র নূর মোহাম্মদ, আহাম্মদ, মোক্তার আহামদ, মৃত শহর মুল্লুকের পুত্র মোঃ শরীফ, মৃত সিরাজুল হকের পুত্র মোঃ রফিক, আবুল কাশেম প্রকাশ আইডার পুত্র লেইট্যা, মৃত ইয়াকুব নবীর পুত্র মোহাম্মদ মিয়া, ফুলু মিয়ার পুত্র হাবিবুর রহমান ও এলাহী শরীফের পুত্র মকছুদ আহামদ।

কামরুজ্জামান জানান, চক্রটি ভুয়া কাগজ দেখিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা শুরু করে। জোর করে দখল করতে না পেরে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ তদন্ত, শুনানী ও বিচারকার্য শেষে কামরুজ্জামান ও বদরুজ্জামানের স্বত্ব সঠিক হওয়ায় মোরশেদ আলম চক্রের মামলাটি ২০১৮ সালেই খারিজ হয়ে যায়। তাই স্বাভাবিকভাবে জমিটি দখল করে বর্গাচাষী দিয়ে চাষাবাদ করে আসছিলো কামরুজ্জামান ও বদরুজ্জামান। সম্প্রতি ওই জমির উপর কয়েকটি দোকান নির্মাণ করেন তারা। নির্মাণের কয়েকদিন পর দিন-দুপুরে সন্ত্রাসী কায়দায় মোরশেদ আলম গংয়ের ২০/২৫ জন সশস্ত্র লোক এসে দোকানগুলো কেটে ও ভাংচুর করে গুড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনাটি পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণামান্য ব্যক্তিবর্গদের অবগত করা হয়।

কামরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, দোকানঘর ভাংচুর করার পরও ক্ষান্ত হয়নি মোরশেদ আলম গং। তারা বর্তমানে আমার বর্গাচাষীদের চাষাবাদে বাধা দিচ্ছে। তাদেরকে নানাভাবে ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিচ্ছে। এমনকি আমাকেও মোবাইল ফোনে প্রাণনাশসহ নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। ওই জমিতে গেলে দোকানঘর কাটার মতো আমাকেও কেটে কেটে টুকরো টুকরো করবে বলে হুমকি দিচ্ছে মোরশেদ আলম ও অন্যরা। এই ব্যাপারে আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।