এম.এ আজিজ রাসেল :

নির্দেশনা অনুযায়ী ডক্টরস চেম্বারে পরীক্ষা না করায় মানিক নামে এক রোগীকে হেনস্থা করল ডা. মনঞ্জুরুল হক জুয়েল। এ ঘটনায় সুশীল মহলে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

অভিযোগে জানা যায়, গত সোমবার (১০ আগষ্ট) শহরের নতুন বাহারছড়ার মানিক (৩৭) শরীরের চামড়ার সমস্যা নিয়ে ডক্টরস চেম্বারে চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ মনঞ্জুরুল হক জুয়েলের কাছে যান। সেখানে নির্ধারিত ৫০০ টাকা ফিস দিয়ে ডাক্তারকে চর্ম রোগের সমস্যার কথা তুলে ধরেন মানিক। ওই সময় ডা. মঞ্জুরুল হক জুয়েল ৩টি পরীক্ষা দেন। পরে শেভরণে গিয়ে পরীক্ষা করার পর রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ঘটে বিপত্তি। ডক্টরস চেম্বারে পরীক্ষা না করে শেভরণে করার দায়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে রিপোর্ট রোগীর মুখে ছুঁড়ে মারেন ডা. মনঞ্জুরুল হক জুয়েল। এক পর্যায়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন ওই রিপোর্ট তিনি দেখবেন। এতে নিরূপায় হয়ে চলে আসনে অসহায় মানিক। বিষয়টি তিনি তার পরিবারসহ শুভাকাঙ্খীদের জানান।

এ ব্যাপারে রোগী মানিক জানান, ৫০০ টাকা ফিস দিয়ে ওই ডাক্তারের কাছে যায়। তিনি পরীক্ষা দেয়ার পর শেভরণে গিয়ে তরা করায়। কিন্তু রিপোর্ট নিয়ে আসার পর তিনি ডক্টরস চেম্বারে পরীক্ষা না করার কারণে আমাকে অহেতুক হেনস্থা করেন। একজন দায়িত্ববান চিকিৎসক কখনও এমন উদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করতে পারে না।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. মঞ্জুরুল হক জুয়েল বলেন, আমি ১৫ বছর ধরে সুনামের সাথে ডক্টরস চেম্বারে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে শেভরণের ওই রিপোর্টে আমার নাম ও পদবী (ডিগ্রী) সম্মান জানিয়ে সম্বোধন করা হয়নি। ওখানে শুধু সাধারণভাবে ‘এমবিবিএস’ লেখা হয়েছে। প্রায় সময় তারা এমন করেন। তাছাড়া শেভরণের রিপোর্ট যথাযথভাবে দেয়া হয় না। তাদের অধিকাংশ রিপোর্ট ভুল দেয়া হয়। তাই আমি রোগীকে বলেছি সেখানে না করে ডক্টরস চেম্বারে পরীক্ষা করা জন্য। তবে শেভরণ কর্তৃপক্ষ ডাক্তারকে সম্মান জানিয়ে সম্বোধন না করা রোগীর কি দোষ জানতে চাইলে তিনি তেমন সদুত্তর না দিয়ে বলেন, আমি ওই রোগীকে হেনস্থা করিনি। রিপোর্টও তার মুখে ছুঁড়ে মারিনি।

ডক্টরস চেম্বারে একাধিক কর্মচারি জানান, ডক্টরস চেম্বারে নিয়মনীতির বালাই নেই। হাতুড়ে ও অনভিজ্ঞ টেকনেশিয়ান দিয়েই চালানো হয় রোগ-নির্ণয়ের যাবতীয় পরীক্ষা। আর মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে ঠকানো হচ্ছে নিরীহ মানুষকে। ডাক্তারেরা এখানে কমিশন ভিত্তিক কাজ করে। যতো বেশি পরীক্ষা ততো বেশি কমিশন পাবে ডাক্তারেরা। রোগী যাতে অন্য ডায়াগস্টিক সেন্টারে না যায় সে বিষয়ে ডাক্তারদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া আছে। তাই ডক্টরস চেম্বার ছাড়া অন্য রোগ নির্ণয় সেন্টার থেকে পরীক্ষা করে রিপোর্ট আনলে ডাক্তারেরা তা দেখে না।