মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

তিন গুলিতেই ঝাঁঝরা হয়ে যায় শরীর। নিশ্চিত হয় মৃত্যু। তিনটি গুলির প্রত্যেকটি একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে অন্য পাশ দিয়ে সরাসরি বের হয়। এজন্য শরীরে ৬টি গুলির ছিদ্র রয়েছে। খুব কাছে থেকে গুলি করা হয়। এমনটি উল্লেখ রয়েছে, গত ৩১ জুলাই টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ রোডের বাহারছরার শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পুলিশের গুলিতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হওয়া মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খান এর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট (ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন) এ।

মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খানকে চিরতরে নিথর করে দেওয়া তিনটি গুলির মধ্যে একটি তাঁর বুকের বামদিকে, একটি বাম হাতের বাহুতে ও অপরটি বুকের মাঝখানে লেগে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে যায়। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের লেখা হয়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের মৃত্যু হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে–সিনহা মোঃ রাশেদ খান এর গলা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। এটাই হচ্ছে, পোস্টমর্টেম রিপোর্টের সারসংক্ষেপ। নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৬আগস্ট পোস্টমর্টেম রিপোর্টটি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমানকে দেওয়া হয়। সিভিল সার্জন সেটি নিয়মানুযায়ী পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) কে হস্তান্তর করেন। কক্সবাজার জেলা পুলিশ রিপোর্টটি র‍্যাব-১৫ কে ৯আগস্ট হস্তান্তর করেছেন। রিপোর্ট নিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (Investigation officer-আইও) র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ জামিল আহমদ তাঁর কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন।

গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়া মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। পরে গত ৫আগস্ট তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস ৯পুলিশ সদস্যকে আসামি করে কক্সবাজারের আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রুজু করার আদেশ দেন। পাশাপাশি র‌্যাব ১৫-এর কমান্ডারকে মামলাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন।