বার্তা পরিবেশক:
চট্টগ্রামের লোহাগড়া থানার চুনতি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ ফরহাদের হোসেনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা যৌতুক না দেয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মামলা হলেও এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছে এএসআই ফরহাদ হোসেন।  তাড়িয়ে দেয়ায়  বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে স্ত্রী তছলিমা আকতার বর্তমান সময় স্ত্রী কক্সবাজার শহরস্থ দক্ষিণবাহার ছড়াস্থ পিতার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তছলিমা আকতার ওই এলাকার মৃত মোঃ আলমের কন্যা।

এএসআই ফরহাদ হোসেন নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চর জুবলি এলাকার শহীদুল ইসলামের পুত্র।

স্ত্রীর অভিযোগ, এএসআই ফরহাদ হোসেন দীর্ঘ সময় মেজর (অব.) সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যায় অভিযুক্ত ওসি প্রদীপের অধীনে টেকনাফ থানায় কর্মরত ছিলো। ওসি প্রদীপের প্রভাব ব্যবহার করে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন এবং তাড়িয়ে দিয়েও বহাল তবিয়তে পুলিশে কর্মরত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী তছলিমা আকতার জানান, টেকনাফ থানায় কর্মরত থাকার সময় এএসআই মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে পারিবারিকভাবে ২০১৯ সালের ১২ জুলাই তাদের বিয়ে হয়। এর মধ্যে র‌্যাবে পদায়ন হলে মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন ঢাকায় চলে যায়। ঢাকায় পদায়ন হলে স্ত্রী তছলিমা আকতারকে কুমিল্লা মুরাদ নগরের বাড়িতে রেখে যায় ফরহাদ হোসেন। কিন্তু ঢাকায় গেলে ক্রমান্বয়ে আচরণ পাল্টে যায় এএসআই মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনের। এক পর্যায়ে স্ত্রীর উপর নির্যাতন শুরু করে এবং ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। ওই সময় মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনের মা ও বোনেরাও তছলিমাকে মারধরসহ চরমভাবে নির্যাতন করেন। এমনকি এক রাতে শ্বাশুড়ি বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তছলিমা।

তছলিমা আকতার আরো অভিযোগ করেন, দিনে দিনে নির্যাতনের মাত্রা বাড়াতে থাকে মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। এরপর র‌্যাবের ডিজির কাছে অভিযোগ করেন তছলিমা আকতার। র‌্যাবের এক শীর্ষ তাদের দুজনকে বসে মীমাংসার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে সায় দেয়নি মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। যার কারণে তাকে র‌্যাব থেকে বের করে দেয়া হয়। এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর গভীর রাতে ব্যাপক মারধর করে তছলিমা আকতারকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। ফলে বাধ্য হয়ে গভীর রাতেই কক্সবাজার চলে আসেন তছলিমা আকতার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কক্সবাজার বোনের বাড়িতে এসেই তছলিমা আকতারকে মারধর করে মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। ফলে বাধ্য হয়ে নির্যাতন ও যৌতুকের দাবির অভিযোগে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন আসামী করে মামলা দায়ের করেন তছলিমা। মামলাটি বিচারাধানী রয়েছে।
তছলিমা আকতারের দাবি, টেকনাফ থানা থেকে বদলী হলেও ওসি প্রদীপের প্রভাব কাটিয়ে মামলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছে মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। বর্তমানে চট্টগ্রামের লোহাগড়া থানার আওতাধীন চুনতি ফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছেন তিনি। কিন্তু পিতৃহীন তছলিমা আকতার এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কয়েকবার কল করা হলেও অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনের তিনটি মুঠোফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।