শাহেদ মিজান, সিবিএন:

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামী টেকনাফ থানার সদ্য সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ চট্টগ্রামের গ্রেফতার হয়েছিলেন! চিকিৎসার কথা বলে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের হাসপাতালে আসার পর সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিএমপি। এমন তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছে সিএমপি। তাই আত্মসমর্পণ নয় গ্রেফতার করে সিএমপি একটি দলই আদালতে তোলার জন্য ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে কক্সবাজারে নিয়ে আসে- এমনটি জানিয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যম। তবে কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই নিয়ে কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি।

সিএমপির বক্তব্য দিয়ে কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর মেজর সিনহা হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামী টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ চিকিৎসার কথা বলে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার হাসপাতালে যান। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই সিএমপির একটি দল তাকে হেফাজতে নিয়ে নেয়। সেখান থেকে তাকে নিয়ে বেলা ২টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে সিএমপি একটি দল। বিকাল ৫টার দিকে তাকে নিয়ে কক্সবাজার আদালতে পৌঁছেন সিএমপির ওই দল। পরে আদালত উপস্থিত সাত আসামীর সবার জামিন নামঞ্জুর করেন এবং সাবেক ওসি প্রদীপ, এসআই লিয়াকত ও এসআই নন্দলাল রক্ষিতের সাত দিনের মঞ্জুর করেন।

এদিকে আইনজীবিরা বলছেন, মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ খান হত্যা মামলার প্রধান আসামী বাহারছড়া ফাঁড়ির আইসি উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী, দ্বিতীয় আসামী সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সাত আসামীকে বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ হাজির করা হয়। মিডিয়ায় প্রকাশ পায় তারা আত্মসমর্পণ করেছেন। কিন্তু মামলা রজু হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে থেকে আত্মসমর্পণ করার কোনো আইনগত বিধি নেই। তাই পুলিশ হেফাজতে যাওয়ার সাথে সাথে মেজর মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ খান হত্যা মামলার সব আসামী আইন মতে আদালতে হাজির হওয়ার আগেই গ্রেফতার হয়েছিলেন।

র‌্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে বলে আমরা শুনেছি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা রাশেদ খান। এই ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন ও নিরাপত্তা বিভাগ। একইভাবে তদন্তের স্বার্থে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলিসহ ১৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় বুধবার দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। মামলাটির শুনানিতে সন্তুষ্ট হয়ে তা ‘ট্রিট ফর এফআইআর’ হিসেবে আমলে নিতে টেকনাফ থানাকে আদেশ দেন আদালতের বিচারক। আদালতের নির্দেশে টেকনাফ থানায় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মামলাটি রুজু হয়। দণ্ডবিধি ৩০২, ২০১ ও ৩৪ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলা নম্বর সিআর: ৯৪/২০২০ইং/টেকনাফ।

 আসামীরা হলেন, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত, উপ পরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •