আমি খোরশেদ আলম সুজন ১৯৭০ সালে কাট্টলী স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জ্বীবিত হয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ছাত্রলীগে যোগদানের মধ্য দিয়ে আমার ছাত্র রাজনীতিতে পদার্পন। ছাত্র রাজনীতির প্রথম অবস্থায় ১৯৭০ সালেই পাকিস্তান সরকার তথা আইয়ুব খান ‘‘পাকিস্তান দেশ ও কৃষ্টি” নামক একটি বই ছাত্র সমাজের উপর চাপিয়ে দিয়েছিল। বইটির বিরুদ্ধে তৎকালীন সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ উম্মাতাল আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনে আমি সম্ভবত কনিষ্ট ছাত্র হিসেবে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করি। দেশপ্রেম হচ্ছে রাজনীতির প্রথম পাঠ। আর সবার উপর হচ্ছে তার আদর্শ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত বাঙালি সৈন্যদের সেবা শুশ্রুষার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংগ্রামে আমার ছোট অংশগ্রহণ। সেই অংশগ্রহণে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিহারীরা আমাকে দুই দুইবার ধরে নিয়ে গিয়েছিল হত্যা করার জন্য। পরবর্তীতে এলাকাবাসী গিয়ে আমাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে। যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে আমি যথাসাধ্য অংশগ্রহণ করি। ১৯৭২ সালে ছাত্রলীগ ভাগ হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে সম্মেলনের উদ্বোধন করেছিলেন সে সম্মেলনে আমিও উপস্থিত ছিলাম। ১৯৭২ সালে আমার বাবার পরামর্শ মতে কনডেন্স কোর্স বিধায় এসএসসি পরীক্ষা দান থেকে বিরত থাকি। ১৯৭২ সালে কাট্টলী ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। ১৯৭৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হই। এরপর কাট্টলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। ১৯৭৩ অবিভক্ত ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হই। ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম সরকারী উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ (বর্তমানে মহসিন কলেজ) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হই। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় আমি চট্টগ্রাম সরকারী উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের ছাত্র। ১৫ আগস্টের সেই দিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে প্রথম একটি প্রতিবাদী মিছিল বের হয় আন্দরকিল্লা থেকে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর চট্টগ্রামের মিউনিসিপ্যাল বিদ্যালয় মাঠে প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করি একুশে উদযাপন পরিষদ নাম দিয়ে। ১৯৭৬ সালে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। ভর্তি হয়েই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রতিষ্টা করি। মাত্র ১৩ জন ছাত্র নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু। ১৯৭৬-৭৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। পরবর্তীতে ১৯৭৯-৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করি। ১৯৮০-৮২ সালে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পদার্পন করি। ১৯৮২-৮৪ সালে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নির্বাচিত হই। ১৯৮৬-৮৮ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি নির্বাচিত এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করি।
এর পর মজুরী কমিশন আন্দোলনসহ বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ২ বার জেল খেটেছি আমি।
১৯৮৮-৯০ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সিবিএ ননসিবিএ সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হই। ১৯৯০-৯৮ সালে চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী সংগঠনের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য উপকমিটির সদস্য নির্বাচিত হই। ১৯৯৬ সালের অসহযোগ আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চট্টগ্রাম বন্দর অবরোধসহ অসহযোগ আন্দোলন করতে গিয়ে বার বার মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে গিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর অবরোধ আন্দোলন সফল করি।
ক্রেতা স্বার্থ সংরক্ষণ ও ভেজাল বিরোধী আন্দোলনের আহবায়ক হিসেবে সাধারণ জনগনের ক্রেতা স্বার্থ আদায়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখি। তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও পানির দাবীতে লাগাতার আন্দোলন সংগ্রাম করি। পানির দাবীতে ওয়াসা ভবন ঘেরাও এবং খালি কলসী ভাঙ্গা কর্মসূচী পালন করি। এছাড়া বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধ এবং সঞ্চালন লাইন মেরামতের দাবীতে বিদ্যুৎ ভবন ঘেরাও কর্মসূচী পালন করি এবং বিদ্যুৎ ভবনে বিশাল আকৃতির প্রতীকি তালা লাগানো কর্মসূচী পালন করি। তাছাড়া নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থার প্রতিবাদে নগরীর জিইসি মোড় থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত খাটিয়া মিছিল কর্মসূচী পালন করি। ধারাবহিকভাবে নাগরিক সমস্যা নিয়ে করা কাজ বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে লালদিঘীর পাড়, নিউমার্কেট চত্বরে জমকালো অনুষ্টানসূচী পালন করি। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সাগর পাড়ে আলোর মেলা শীর্ষক আয়োজনে সমুদ্র সৈকতে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন ঘুড়ি ও ফানুস উড়ানো এবং রাত্রে আতশ বাজির মনোমুগ্ধকর আয়োজন সম্পাদন করি।
মহেশখালের মুখে অপরিকল্পিত বাঁধের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলি। বাঁধ অপসারণ ও স্লুইস গেট নির্মাণের দাবীতে ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে অবশেষে বাঁধ অপসারণে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সিডিএ কতৃক উক্ত মহেশখালে স্লুইস গেট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
২০১৭ সালে আনুষ্টানিকভাবে জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগ নামক সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। যার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নাগরিক সমস্যা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করি। যাত্রার শুরুতেই নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে তৃণমূল থেকে সমস্যা খুঁজে বের করি এবং স্বশরীরে বিভিন্ন সেবা সংস্থার দফতরে দফতরে গিয়ে সমস্যা সমাধান করি। ইতিপূর্বে নাগরিক উদ্যোগের সহযোগিতায় অনেকগুলো কাজ সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। বাকী কাজগুলো চলমান রয়েছে সেগুলোও সম্পন্ন হওয়ার পথে।
ধারাবাহিকভাবে চলমান কর্মসূচী গুলোতে বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাস সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সিডিএ চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম এর প্রধান প্রকৌশলী, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, বিএসটিআই চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক, পরিচালক (স্বাস্থ্য), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক, বিআইডব্লিউটিসি উপ-পরিচালক, সিভিল সার্জন, হাটহাজারী ইউএনও, খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, রাশিয়ান অনারারি কনসাল, পরিবহন মালিক গ্রুপসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় এবং আলাপ আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
এছাড়া অযৌক্তিক হোল্ডিং ট্যাক্স এর বিরুদ্ধে রাজপথে সরব প্রতিবাদ করি, ভেজাল পণ্য বিক্রয় ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে নগরীর বাজারে বাজারে প্রচারণা, বন্দর শ্রমিকদের কল্যাণে বন্দরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা, নারী শ্রমিকদের স্বার্থ আদায়ে মতবিনিময়, ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা, সার্কিট হাউস সংলগ্ন পার্কটিকে সবুজ চত্বর করার দাবীতে মানববন্ধন, ভর্তি বাণিজ্য বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা, নগরীতে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদানের দাবীতে মানবন্ধন, চিকিৎসা বেনিয়াদের হাত থেকে স্বাস্থ্য সেবা রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন, অগ্নিদূর্যোগের ভয়াবহতা থেকে নগরবাসীকে রক্ষার্থে সতর্কতামূলক প্রচারপত্র বিলি, পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে হামিদউল্লাহ খাঁ বাজারে প্রতিবাদ কর্মসূচী এবং জনগনের মাঝে ব্যতিক্রমী পেঁয়াজ বিহীন রান্না পরিবেশন, প্রবাসীদের কল্যাণে মতবিনিময় সভা, হাসপাতালের নামে বাণিজ্যিক লীজ বাতিল করার দাবীতে মানববন্ধন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসি বাস চালু করাতে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো, উপকূলীয় জেলেদের দাবী আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, মাদকের বিস্তার রোধে নগরীতে মাদক বিরোধী প্রতিবাদ সভাসহ বিভিন্ন নানামূখী জনবান্ধব কর্মসূচী গ্রহণ করি এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন করি।
তাছাড়া সামাজিক সংগঠন জাগ্রত ছাত্র যুব জনতার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে ঘোড়ার গাড়ী সহকারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করি এবং নগরবাসীর মাঝে ঔষধি ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ, প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষ্যে স্বাগত জানিয়ে বিশাল আনন্দ মিছিল, ২১শে আগস্ট গ্রেণেড হামলাকারীদের ফাঁসির দাবীতে নগরীর সিইপিজেড চত্ত্বরে বিশাল সমাবেশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আলোড়ন সৃষ্টিকারী গণমিছিল অনুষ্টিত হয় আমার নেতৃত্বে।
এসব কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে নগরীর সাধারণ জনগনের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং ভালোবাসা পেয়েছি। বিশেষ করে গণমাধ্যম তথা অনলাইন মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সহযোগীতা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।
২০১৯ সালের নভেম্বরে চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস নামক প্রাণঘাতি ভাইরাসটি। পরবর্তীতে যা ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিস্তার লাভ করতে শুরু করে। করোনাভাইরাসের বিধ্বংসী মনোভাব আঁচ করতে পেরেই নাগরিক উদ্যোগের নেতৃত্বে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২০ইং বুধবার সকালে নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারে উপস্থিত শত শত জনতাকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক তরল সাবান দিয়ে হাত ধোয়া কর্মসূচি, মাস্ক ও প্রচারপত্র বিতরণ করি। এর পর ১৫ই মার্চ রবিবার সকালে নগরীর চকবাজার কাঁচা বাজার এবং এর আশে পাশের বাজারে পূণরায় সচেতনতামূলক তরল সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসল দিয়ে হাত ধোয়া কর্মসূচী, গ্লাভস এবং প্রচারপত্র বিতরণ করি। জনগনকে সচেতনার অংশ হিসেবে পূণরায় ১৮ই মার্চ বুধবার দুপুরে নগরীর কাজির দেউড়ি বাজারে তরল সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসল দিয়ে হাত ধোয়া কর্মসূচী, গ্লাভস এবং প্রচারপত্র বিতরণ করি। ধারাবাহিকভাবে এসব কর্মসূচীর মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগনকে সচেতন করা এবং এর বিস্তার থেকে মুক্তি পাওয়া। তখনই এসব কর্মসূচীতে আমরা মাস্ক, হেক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী মজুতদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানাই। পরবর্তীতে করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধ এবং জনগণকে এর সংক্রমণ থেকে দূরে রাখার জন্য ২৫শে মার্চ থেকে সারা দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। জনগনকে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক পরিধান করা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার রাখা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং ঘরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
করোনা চলাকালীন সময়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগনের কোভিড চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে মা ও শিশু হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা চালুর দাবীতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ৩১শে মে রবিবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করি। এর পর ৭ই জুন রবিবার সকালে প্রেস ক্লাব চত্ত্বরে চট্টগ্রামের করোনা চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস সহ বিভিন্ন শিল্পগ্রুপকে এগিয়ে আসার দাবীতে বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ করি। পরবর্তীতে ১৬ই জুন মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর ওষুধ পাড়া খ্যাত হাজারী লেইনে ভেজাল ওষুধ বিক্রয়, বিপণন এবং উচ্চমূল্যের সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবীতে গণপ্রচারণা করি এবং একই দিন রেলওয়ে হাসপাতালে আইসিইউ বেড এবং সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজারের সাথে ফলপ্রসূ মতবিনিময় করি।
এর পাশাপশি মিডিয়ায় বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতি এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে চট্টগ্রামের করোনা চিকিৎসার প্রতিবন্ধকতাসমূহ বোঝাতে সক্ষম হই। এছাড়া চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সহযোগিতার হাত উম্মুক্ত করার জন্য ধনাঢ্য ব্যক্তিদের উদ্বুদ্ধ করি। ফলশ্রুতিতে উক্ত ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে ঐ হাসপাতালে আইসিইউ বেড, অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং নিত্য নতুন স্বাস্থ্য সেবাসহ ১০০ শয্যার করোনা চিকিৎসার দ্বার উম্মোচিত হয়েছে। জনগনের চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরবর্তীতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং পিসিআর ল্যাব স্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ইপিজেডসমূহের মহাব্যবস্থাপকদ্বয়কে টেলিফোনে অনুরোধ করি। অনুরোধের প্রেক্ষিতে মহাব্যবস্থাপকদ্বয় পরিস্থিতির বাস্তব অবস্থা উপলব্দি করতে সমর্থ হয়ে এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেপজা প্রধান কার্যালয়কে অনুরোধ জানান। এর সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসকে ফোন করে আইসোলেশন সেন্টার এবং পিসিআর ল্যাব স্থাপনে সহযোগিতা কামনা করি। প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবও এ বিষয়ে আমাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ইতিমধ্যে ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
এভাবে প্রতিদিন নগরবাসীকে কোভিড চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা প্রদান, পিসিআর ল্যাব স্থাপন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন, আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন, বেসরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম নৈরাজ্য বন্ধ, জনগনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বক্তৃতা, বিবৃতি এবং টেলিফোনের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
করোনা সংক্রমণ রোধে নাগরিক উদ্যোগের প্রস্তাবনাসমূহঃ
বর্তমানে চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো করোনা নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা। এই সংকট দ্রুত সমাধান করতে না পারলে চট্টগ্রামকে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। যেহেতু চট্টগ্রাম শহরটি বন্দর এবং শিল্প অধ্যুষিত শহর। সেজন্য বেশী বেশী পিসিআর ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে করোনা নমুনা পরীক্ষার হার বাড়ানো যেতে পারে। সে লক্ষ্যে গত ৩০-০৫-২০২০ইং তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত আবেদন জানাই আমি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জীবন ও জীবিকা একসাথে চলার পথে প্রধান অন্তরায়ই হচ্ছে করোনা নমুনা পরীক্ষা। যদি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া বন্দর এবং শিল্প অধ্যুষিত শহর হওয়ায় এখানে অনেক মানুষ এক জায়গায় ঘনবসতিপূর্ণভাবে বসবাস করে। তাই ঐসব এলাকায় যদি কোন ব্যক্তির শরীরে করোনার উপস্থিতি দেখা যায় তিনি বাসায় আইসোলেশনে থাকতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য পুরো চট্টগ্রাম নগরীকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে কমপক্ষে ৫০০ থেকে ১০০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করতে হবে। আর নগরীর কোথায় কোথায় আইসোলেশন সেন্টার বা ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তোলা প্রয়োজন এর একটা গাইডলাইনও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দিতে হবে। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী এসব সেন্টারগুলো গড়ে তুললে জনগন উপকৃত হবে। যেমন পাহাড়তলী হাজী ক্যাম্পে যদি একটা আইসোলেশন সেন্টার করা যায় তাহলে পাহাড়তলী, খুলশী ও কাট্টলী এলাকার মানুষ এখান থেকে সেবা গ্রহণ করতে পারতো। ঠিক তেমনিভাবে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন অফিসটিকেও যদি একটা আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তর করা যায় তাহলে ফৌজদারহাট ও সীতাকুন্ড এলাকার মানুষ এখান থেকে সেবা গ্রহণ করতে পারতো। একইভাবে অক্সিজেন এলাকায় একটি করা হলে বায়েজিদ, হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি এলাকার মানুষ সেবা পেতো। মোহরা এলাকায় একটি সেন্টার প্রতিষ্টা করা গেলে কালুরঘাট, রাউজান, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাই এলাকার মানুষ সুবিধা পেতো। এভাবে বাকলিয়া এলাকায় একটা অথবা দুইটা করা হলে বৃহত্তর বাকলিয়ার পাশাপাশি পটিয়া ও আনোয়ারার মানুষ সেবা পেতো। এভাবে প্রয়োজন ভেদে নগরীর প্রতিটি থানায় কমপক্ষে ২০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা যেতে পারে। প্রতিটি আইসোলেশন সেন্টারে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে চিকিৎসক, নার্স, অক্সিজেন সহ প্রয়োজনীয় ঔষধপত্রের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অবশ্যই আইসোলেশন সেন্টার, ফিল্ড হাসপাতালসহ সকল অস্থায়ী হাসপাতালগুলো পরিচালক (স্বাস্থ্য) অথবা সিভিল সার্জন অফিসের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। দেখা যাচ্ছে যে নগরীতে যত্রতত্র আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে যেগুলোতে কোন চিকিৎসক কিংবা নার্স নেই। শুধুমাত্র প্রচারের উদ্দেশ্যে স্থাপিত আইসোলেশন সেন্টারগুলো জনগনকে কাংখিত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বরংচ রোগীর ভোগান্তি আরো বাড়ছে।
তাছাড়া আইসোলেশন সেন্টার বা ফিল্ড হাসপাতালগুলোর বর্জ্য সঠিক উপায়ে ধ্বংস করতে হবে। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। না হয় এসব হাসপাতালের বর্জ্য থেকে করোনা সংক্রমণের মাত্রা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। প্রতিটি আইসোলেশন সেন্টার বা ফিল্ড হাসপাতালে রোগীর খাদ্য, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র, অ্যাম্বুলেন্সসহ সকল ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।
করোনাকালীন সময়ে ওষুধ কোম্পানীগুলোকে মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বাজারে সরবরাহের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া স্যাভলন, হেক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সরঞ্জাম যাতে জনগনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে ব্যবস্থাও রাখতে হবে। এর ফলে ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ন্য বন্ধ হবে।
নগরীর প্রতিটি রেল স্টেশন, বাস স্টপ, বিপনী বিতানসহ গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বাধ্যতামূলকভাবে সকলকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক পরিধান করা ছাড়া কেউ যাতে ঘরের বাহিরে বের হতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক জরিমানাসহ জেলে রাখার বিধানও করতে হবে।
করোনাকালীন দূর্যোগে জনগনের স্বাস্থ্য সেবা, ওষুধ এবং স্বাস্থ্য সরঞ্জাম নিয়ে যারা দূর্নীতি করবে তাদেরকে প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাহলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত জীবন ও জীবিকা একসাথে চলার পথ সুগম হবে। চট্টগ্রাম শহরে করোনা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

১৯৯১ সাল থেকে আমি মেয়র হজ্ব কাফেলার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দীর্ঘ ২ যুগ ধরে হাজী সাহেবানদের খেদমতে মক্কা শরীফ, মদিনা শরীফ ও বাংলাদেশে সহযোগীতা করছি। বর্তমানে দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসার গভর্নিং বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বরত আছি। এছাড়া হযরত মঈনউদ্দিন শাহ (রঃ) মসজিদ কমপ্লেক্স মাদ্রাসা ও এতিমখানার সহ-সভাপতি, আলহাজ্ব মোস্তফা হাকিম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর গভর্নিং কমিটির সদস্য ছাড়াও অসংখ্য সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছি।
ব্যক্তি জীবনে আমি ২ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। আমার স্ত্রী ডা. ফজলুল হাজেরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহযোগী অধ্যাপক।

(আবুল কালাম, চট্টগ্রাম )

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •