রিয়াজ উদ্দিন ,পেকুয়া :

পেকুয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান উপকুলীয় কলেজের এইচ,এস,সি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী জন্নাতুল নাঈমা মুন্নী (১৭) উদ্ধার নেই ২ মাস। বখাটেরা ওই ছাত্রীকে রাস্তা থেকে সিএনজিযোগে তুলে নিয়ে গিয়ে অপহরণ করেছে। পেকুয়া থানায় একটি মামলাও রুজু হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামী বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

এ দিকে কলেজ ছাত্রী জন্নাতুল নাঈমা মুন্নী অপহরণ চাঞ্চল্যকর ঘটনা অতিবাহিত হয়েছে দীর্ঘ ২ মাস আগে। সে সময় থেকে অপহৃত ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা যায়নি। ২ মাস অতিবাহিত হলেও জিয়া কলেজের মেধাবী ওই ছাত্রী নিখোঁজ থাকায় তার স্বজনদের মধ্যে উৎকন্ঠা ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অপহরনের ওই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনও ছাত্রীকে উদ্ধার করতে বেশ তৎপর ছিলেন। এরই মধ্যে থানার ওসি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অপহৃত ছাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে তার স্বজনদের মধ্যে ফিরিয়ে দিবেন। কিন্তু ২ মাস হয়েছে নেই মেয়েটির উদ্ধার তৎপরতা।

কলেজ ছাত্রী মুন্নী কি অবস্থায় আছে কোথায় তাকে রাখা হয়েছে অথবা মেয়েটি কি আদৌ বেঁচে আছেন কিনা এ নিয়ে দারুণ সন্দেহ দেখা দিয়েছে তার পিতা-মাতাসহ স্বজনদের মধ্যে। অপহৃত চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পেকুয়া থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড আছে। যার নং ৫।

সুত্র জানায়, চলতি বছরের ১২ জুলাই কলেজ ছাত্রী জন্নাতুল নাঈমা মুন্নী অপহৃত হয়েছে। ওই দিন দুপুরে মুন্নী মইয়াদিয়া নিজ বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী স্থানে চাচা জাফর আলমের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উৎপেতে থাকা দুবৃর্ত্তরা তাকে জোরপূর্বক সড়ক থেকে সিএনজিতে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। ঘটনার ১৪ দিন পর পেকুয়া থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় একই এলাকার মৃত জহির আলমের ছেলে হুমায়ুন কবির (২৩), তার ভগ্নিপতি আশরাফ মিয়ার ছেলে আলমগীর, তার ভাই আবছার প্রকাশ পুতুসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি রুজু হয়। গত ১ মাস আগে মামলার ২ নং আসামী আশরাফ মিয়ার পুত্র আলমগীর গ্রেপ্তার হয়েছে।

সুত্র জানায়, মামলাটি বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল আইন সংশোধিত-৩ এর ৭/৩০ মতে রুজু করা হয়। সেটি ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে স্থানান্তরিত হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারিক আদালতের মামলাটি বিচারাধীন।

মামলার বাদী পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মইয়াদিয়া গ্রামের মৃত নুর আহমদের ছেলে আলী হোছাইন জানান, আমার মেয়ে অপহরণ হয়েছে ২ মাস আগে। ওই সময় থেকে মেয়েটি নিখোঁজ রয়েছে। বখাটে হুমায়ুন কবির মেয়েটিকে প্রায় সময় কু-প্রস্তাবসহ কলেজে যাওয়া আসার পথে উত্যক্ত করত। ওই বখাটের নেতৃত্বে আসামীরা আমার মেয়ে মুন্নীকে অপহরণ করেছে। এর আগে থানায় একই বিষয়ে আমি অভিযোগ দিয়েছিলাম। গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সালিশি বৈঠক হয়। সেখানে দায়ী করেছিল। ভবিষ্যতে ইভটিজিং করবে না এমন অঙ্গীকার দিয়েছিল ওই বখাটে। আমার সর্বনাশ করেছে। মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক। তা ছাড়া সে মেধাবী ছাত্রী। হুমায়ুন ও আলমগীর বখাটে। আলমগীর চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় আমি কিছুটা হলেও স্বস্তিবোধ করছি। অপহরণের মূল ইন্ধনদাতা ছিল ওই আলমগীর। আমি বিচারিক আদালতের কাছে প্রত্যাশা করছি জেলে থাকা আসামী আলমগীরকে যেন জামিন না মঞ্জুর করা হয়। ওই আসামী জামিন নিয়ে যদি বের হন তাহলে আমার মেয়ে ফিরিয়ে পাওয়া কঠিন হবে। তারা পরষ্পর জোটবদ্ধ হলে আমার জানমালের নিরাপত্তা নিয়েও শংকিত থাকতে হবে।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম জানান, মামলার ১ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশ অপর আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •