জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

সহকর্মীদের কাছে বিদায় বেলায় ক্ষমা চাইলেন মেয়র নাছির মেয়র হিসেবে নিজের শেষ কর্মদিবসে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

এসময় পুরো মিলনায়তনে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। এসময় মেয়রের চোখ যেমন পানিতে টলমল করছিল তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অনেকে আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আপনাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি, ক্ষমা প্রার্থী। বিদায়কালে এটাই বলবো, অনেক সময় আপনারা আমার রুমে এসে মর্যাদা অনুযায়ী বসতে পারেন নি। এটার জন্য আমি নিজেও কষ্ট পেয়েছি। আবার অনেককে সামনে না হয় বাইরে গিয়ে তিরস্কার করেছি। অনেকেই এসে দাঁড়িয়ে থেকেছে, পরে চেয়ার দিতে বলতে হয়েছে। এটার জন্য আজকের আমার শেষ কর্ম দিবসে আপনাদের কাছে আন্তরিকতাভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

বুধবার (০৫ আগস্ট) দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা কর্মচারীদের আয়োজিত প্রীতি সম্মিলনে মেয়র এসব কথা বলেন।

নাগরিক সেবা নিশ্চিতে পুরো চসিক একটি পরিবার হিসাবে কাজ করেছে উল্লেখ করে মেয়র নাছির বলেন, এখানে কোন দল, মত তা বিবেচনা না করে জনপ্রতিনিধি হিসাবে যতটুকু সহযোগিতার প্রয়োজন ততটুকু করেছি। সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মানুষের জন্য কাজ করতে পারা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়, এ সুযোগটা নিস্বার্থ ভাবে কাজ করবেন। এমনভাবে কাজ করবেন, যেন জনগনের ভালোবাসা বিশ্বাস আস্থা অর্জন করতে পারা। আমি মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, চসিকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যে ভালোবাসা আন্তরিকতা পেয়েছি, এতে মনে করি আমি সফল। একজন রাজনীতিবিদ যে উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতি করে তা করতে পেরেছি। আগেও ছিলাম, এখানে আছি, আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাব।

এসময় বিদায়ী মেয়র বলেন, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩১ বছরের সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। অনেকেই অবসরে গিয়ে টাকা পান নি। আমার আগের মেয়র এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। আমি এসে সেটা দুই লক্ষ টাকা করেছি। চসিকের অনেক শিক্ষক আছেন, যাদের বেতন মাত্র ৬ হাজার টাকা। তারা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে পদে পদে অপমানের শিকার হয়েছে। এগুলো আমি মরিয়া হয়ে প্রবিধান মালা অনুমোদন করেছি। এখন বোর্ড পদোন্নতি দিবে। নয় হাজার জনবলের একটি অর্গোনাবেল তৈরি করে পাঠিয়েছি। এটা অনুমোদন হয়ে গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

কিছু মিডিয়ায় চসিকের দেনাকে হাইলাইট করা হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, অনেকে ৮শ কোটি টাকার দেনাকে হাইলাইট করছে। এটা দেনা না, প্রকল্প নিয়েছি, যার কারণে অনেক বকেয়া আছে ঠিকাদারের মাঝে। স্পষ্ট করে জনগণকে জানাতে হবে, না হলে তাদের মাঝে ভুল বার্তা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রকল্প গ্রহণ করেছি। ৩৯৫ কোটি টাকা সরকারের প্রকল্পে চসিকের ম্যাচিং ফান্ড। আগের মেয়রের আমলের ৩০০ কোটি দেনার মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। আমরা কিছু হাইড করছি না। বিরোধিতার কারণে বিরোধিতা সমাজকে ক্ষতি করছে। বিভক্তি-বিভাজন এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। চসিকের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয় এমন সংবাদ পরিবেশনের আগে যাচাই করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান মেয়র।

অনুষ্ঠানে মেয়র আজম নাছির উদ্দীনকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা। এছাড়াও সম্মাননা জানানো হয় ৪১ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •