একজন হারবাংয়ের, দুইজন পটিয়ার হোয়াইট কালার গ্যাং লিডার

পরিচয় মিলেছে চকরিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩ ইয়াবা কারবারির

প্রকাশ: ৩১ জুলাই, ২০২০ ০৪:১৩ , আপডেট: ১ আগস্ট, ২০২০ ১২:২২

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


 

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বড় ধরণের একটি ইয়াবার চালান হাতবদলের সময় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত তিনজন মাদক কারবারি-সন্ত্রাসীর পরিচয় মিলেছে। একজনের বাড়ি চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় হলেও অন্য দুইজনের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়।

পুলিশ জানায়, পটিয়ার এই দুই মাদক কারবারি ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা ছিল না। তারা ইতোপূর্বে আইন-শৃক্সক্ষলা বাহিনীর নজর এড়িয়েই ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছিল। তবে এলাকায় তারা ইয়াবা কারবারের হোয়াইট কালার গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত ছিল। নিহত অপর কারবারির অপরাধের খতিয়ান ঘেঁটে তিনটি মাদক মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা হলেন-চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর এলাকার মৃত ছিদ্দিক আহমদের ছেলে জহির আহমদ ওরফে বদাইয়া (৪৫), চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কচুয়াই গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে মোহাম্মদ জাফর (৩৫) ও পটিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. হাছান ওরফে বাছুইন্না (৩৭)।

হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বরইতলী নতুন রাস্তার মাথা থেকে ইয়াবাসহ দুইজন খুচরা মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তন্মধ্যে চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উত্তর মালুম্যা এলাকার আবদুর রহিমের কন্যা জাহেদা বেগমের কাছ থেকে ৫০০০ পিস এবং হারবাং ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকার মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে মোজাফ্ফর আহমদের কাছ থেকে ১০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়। এ সময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাছ থেকে ইয়াবার উৎস এবং একইরাতে ইয়াবার বড় চালান হাতবদলের তথ্য পায় পুলিশ। এসব বিষয় ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় এবং বড় চালানটিও হাতবদলের সময় অভিযান শুরু করে পুলিশ।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রথমে ৬০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তারকৃত নারীসহ দুই মাদক কারবারির কাছ থেকে আরো তথ্য পাওয়ার পর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে হারবাং ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলামসহ সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা হয়। এতে অভিযানের চুড়ান্ত সফলতা আসে। পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধের সময় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয় এবং তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন কায়দায় বস্তু দিয়ে মোড়ানো ৪৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, দেশে তৈরি দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১৫ রাউন্ড ব্যবহৃত গুলির খোসা।’

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন এবং চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম মহোদয়ের সার্বিক নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালানো হয় ইয়াবার বড় চালান হাতবদলের স্থান মহাসড়ক লাগোয়া বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়াস্থ পাহাড়ি এলাকা সেগুন বাগান এলাকায়। এ সময় উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারি-সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। এ সময় আমিসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হই। এ ঘটনায় হত্যা, অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘চলতি বছরের বিজয়ের মাস ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার জেলাকে শতভাগ মাদকমুক্ত করার শপথ নিয়েছি। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পুলিশের প্রত্যেকটা সদস্য কাজ করছে। খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে ইয়াবার যত বড় ডিলার বা কারবারি থাকুক না কেন তাদেরকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন বলেন, ‘শুধু জেলা বা উপজেলা সদর কেন্দ্রিক নয়, গ্রাম পর্যায়েও যারা ইয়াবাসহ মাদকের কারবারে জড়িত রয়েছে, তাদেরকে একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। সেখানে কে কত বড় নেতা বা প্রভাবশালী তা পুলিশ দেখবে না। আমরা ইতোমধ্যে এলাকাভিত্তিক তালিকা প্রণয়নসহ সকল তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং করছি।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •