– আবুল কাসেম আশরাফ

সমগ্র বিশ্ব যখন মহামারির ভয়াল থাবায় বিপর্যস্থ। ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ছে আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল আযহা।

ইসলামে কুরবানির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা মহামারিতে একজন মুমিন কখনো তার ইবাদতে দূর্বলতা দেখায় না। বরং আরো গতির সঙ্গে ইবাদতে ধ্যান মগ্ন থাকে ।

তাই বর্তমান সৃষ্ট নাজুক পরিস্থিতিতে পশু কুরবানি থেকে বিরত থাকা ইসলাম অনুমোদন করে না।করোনার অজুহাতে কুরবানির বিধান কোন অবস্থাতে শিথিল হতে পারে না।

কেবল গোশত খাওয়াই এ কুরবানির উদ্যেশ্য নয়। বরং কুরবানির পশুর মত আমাদের আত্মিক পশুত্বকে বলি দেওয়ার শিক্ষা আমরা এই মহান ইবাদত থেকে গ্রহণ করতে পারি।

আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘এ গুলো (কুরবানির পশুর)গোশত ও রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছে না। কিন্তু তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। ‘(সুরা হজ্ব) আয়াত -৩৭

আসলে পশু কুরবানি করাটা একটা প্রতীকী মাত্র। আল্লাহ তায়ালা চান, মানুষ যেন তার পশু সুলভ আত্নাকে কুরবানি করে, এবং তার আমিত্বকে বিসর্জন দেয়, আর সেই সঙ্গে বান্দা তার সমস্ত চাওয়া – পাওয়াকে আল্লাহর খাতিরে উৎসর্গ করে দেয়।

হযরত ইবরাহীম (আঃ)ও তার পুরো পরিবারের কুরবানি এমনই ছিল। তারা ব্যক্তি স্বার্থকে বিকিয়ে দিয়ে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবনমায়া সহ সবকিছুই ত্যাগ করেছিলেন।

কুরবানির অর্থ কেবল পশু জবেহ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা যদি মনের পশুকে কুরবানি দিতে পারি, তাহলেই আমরা আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব।

রাসুলুল্লাহ (সঃ)বলেছেন -হে লোক সকল !জেনে রাখ, প্রত্যেক পরিবারের পক্ষে প্রতি বছরই কুরবানি করা আবশ্যক। ‘(আবু দাউদ)তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি কুরবানির সামর্থ্য লাভ করে অথচ কুরবানির ব্যবস্থা করেনি, তারা যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।'(ইবনে মাজাহ)

কেউ যদি মনে করে, এই পরিস্থিতিতে কুরবানি না করলে কী ক্ষতি হবে। এমনটা মনে করা মোটেও ঠিক নয়। এটি মহানবী( সঃ)এর আদর্শের বিপরীত। ইসলামের প্রথম যুগে রাসুল (সঃ)ও সাহাবারা কষ্টে দিনাতিপাত করেও কখনো কুরবানি না করার অভিপ্রায় গ্রহণ করেননি। তাই করোনাকালে কুরবানি থেকে বিরত থাকা ইসলাম অনুমোদন করে না।

কুরআন -সুন্নাহর আলোকে যতটুকু জানা যায়, কুরবানির একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি।

পরিশেষে এটাই বলব –
পরিস্থিতি যাই হওক না কেন কুরবানি দেওয়ার সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই কুরবানি দিতে হবে। এ ছাড়া আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে স্বচ্ছলতা দান করেছেন, তারা যেন গরীব এলাকায় নিজেদের পক্ষ থেকে কুরবানির ব্যবস্থা করে। এতে আল্লাহর হক্বও বান্দার হক্ব উভয়টা আদায় হবে।
সহকারী শিক্ষক,
খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, খরুলিয়া, সদর, কক্সবাজার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •