মুহাম্মদ উল্লাহ মাহদী:
মুসলিম উম্মাহকে জানাই ঈদ মোবারক শুভেচ্ছা। তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়ামিনকূম।
মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশে আজ ঈদের আনন্দে উৎসব মূখর। ত্যাগের মহিমায় মহিয়ান, প্রীতি, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, সূদৃড় বন্ধন,কুশল বিনিময়ের মধ্যমে সালাম/শান্তি কামনায় এই যেন স্বর্গীয় আমেজ।
আগামীকাল বাংলাদেশসহ আরো অনেক দেশে ঈদ উদযাপন হতে যাচ্ছে।
আরবি عيد ঈদ শব্দটির অর্থ “উৎসব,” ” উদযাপন,” ًأضحى আদহা অর্থ ত্যাগ। মুসলিম নর নারীর জীবনে এই আনন্দ মূখর, খুশির ঢেউ মহান রবের মহানিয়ামত।
আল্লাহর মহান পরীক্ষায় ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।
তার প্রিয় বস্তু কুরবানি দেওয়ার মানসিকতায়।
আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আল্লাহ বলেনঃ
قُلۡ اِنَّ صَلَاتِىۡ وَنُسُكِىۡ وَمَحۡيَاىَ وَمَمَاتِىۡ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ﴾

বলো- আমার নামায, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মৃত্যু সবকিছু আল্লাহ‌ রব্বুল আলামীনের জন্য।
(সূরাঃ আনআমঃ১৬২)।
আল্লাহ আরো বলেনঃ
﴿ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانۡحَرۡؕ‏﴾
অর্থঃ কাজেই তুমি নিজের রবেরই জন্য নামায পড়ো ও কুরবানী করো।
আজ আমরা সেই ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে মনের পশুত্বকে বিসর্জন দিয়ে, অন্তরের কালিমা পরিহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টির মানসে কুরবানি দিয়ে থাকি। আল্লাহর হুকুম পালন ও সত্যিকার মহান রবের নৈকট্য অর্জনের জন্য।
আজ বৈশ্বিক করোনা মহামারি ও প্রবল বর্ষণের কারণে ঈদের আমেজ যেন ম্লান হতে চলেছে।
তবু আশার আলো হচ্ছে, যারা কুরবানি করতে সক্ষম তারা অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে এই উৎসব মুখরিত হউক হবে। সকলের সেই প্রত্যাশা।
ঈদের আনন্দ প্রতিটি ঘরে ঘরে হিল্লোল ও উৎসবে পরিণত হউক মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সেই মিনতি করি।
হাদীসের আলোকে কুরবানিঃ
নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কুরবানি করেনা তারা যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে। (ইবনে মাজাহ)
হয়রত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) কুরবানী করার জন্য একটি শিংবিশিষ্ট দুম্বা আনতে বললেন, যার পা কালো, পেটের চামড়া কালো এবং চোখ কালো।
দুম্বা আনা হলে নবীজী বললেন, আয়েশা, আমাকে ছুরি দাও।
এরপর বললেন, একটি পাথরে ঘষে ধারালো করে দাও।
তিনি ধারালো করে দিলেন।
এরপর তিনি ছুরি হাতে নিলেন, দুম্বাটিকে মাটিতে শোয়ালেন, এরপর বিসমিল্লাহ বলে জবাই করলেন।
বললেন-
اَللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ وَّآَلِ مُحَمَّدٍ وَّمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ
‘ইয়া আল্লাহ! মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে, মুহাম্মাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এবং মুহাম্মাদের উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করুন।’ -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬৭; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস ৫৯১৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৯২
অন্য হাদীসে আছে, কুরবানীর পশু জবাই করার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুআ পড়েছেন-
بِسْمِ اللهِ، اَللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ، اَللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ
‘আল্লাহর নামে; ইয়া আল্লাহ! তোমার নিকট থেকে এবং তোমার উদ্দেশ্যে; ইয়া আল্লাহ! মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।
অতএব, কুরবানি করার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালন করে ত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রবের একান্ত নৈকট্য হাসিল করা। ধনী, গরীব, বাদশা, ফকির, ধলা, কালো সকল ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের মহাসমারোহে আনন্দ উদযাপন করা।
হে আল্লাহ আমাদের সকলের কুরবানীর ত্যাগ কবুল করুন।
আনন্দে মুখরিত হউক আমাদের সকলের জীবন প্রবাহ। আমিন।
মা- আসসালাম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •