কুতুব উদ্দিন


বৈশ্বিক এই ক্রান্তিকালে পাপিয়া, সাবরিনা তূর্ণাসহ অনেক নারীর নৈতিকস্খলনজনিত বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে নিউজফিড ভরপুর। ননানান জনে নানান ধরনের বিরূপ মন্তব্য প্রকাশ করে যাচ্ছেন।সংবাদগুলো পড়ে মনে হলো সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পাপিয়া,সাবিনা,তূর্ণারা তাদের নারীত্বকে কাজে লাগিয়ে সমাজের উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। কিন্তু আমরা কি একবারও চিন্তা করেছি এই পাপিয়া, সাবরিনা, তূর্ণাদের স্রষ্টা কার? এই সমাজের পুরুষেরাই সৃষ্টি করেছে পাপিয়া, সাবিনা,তূর্ণাদের অবস্থান, করে তুলেছে তাদেরকে কামসঙ্গী, পরিচারিকা বা রক্ষিতা রূপে। সমাজে পুরুষ শুধু নিজেকে নয়, নিজের দেহকেও মনে করে বিশুদ্ধ, উন্নত, আদর্শকাঠামো আর পাপিয়া, সাবরিনা, তূর্ণাদের মনে করে জরায়ু-যৌনি-স্তনের সমষ্টি, যৌনতায় বন্দী পশু। তাদেরকে সবসময় মনে করা হয় অভিচারিণী ডাইনিরূপে। তাদেরকে দেখা হয় পাপ ও অশুভরূপ হিসেবে। কিন্তু এই পাপিয়া,সাবরিনা, তূর্ণাদের আমরা পুরুষরা বর্জন করতে পারিনা। কামে ও আবেগে কখনো কখনো তাদেরকে দেবী করে তুলি, আলিঙ্গনে জড়িয়ে লাভ করি জীবনের সমস্তধন। তাদের টাটকা শরীরের ছোঁয়ায় শরীর ও মনে জেগে উঠে কবিতা, বেজে উঠে সঙ্গীতের সুর, মন ভরে উঠে নিসর্গের বর্ণিল শোভায়। তাদেরকে আমরা চেতনার সুখের জন্য গণিকা, ইন্দ্রিয় সুখের জন্য রক্ষিতা আর সন্তান সুখের জন্য স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করি। আমরা সমাজপতিরাই পাপিয়া, সাবরিনা, তূর্ণাদের সৃষ্টিকরি যৌনসামগ্রী বা দাসীরূপে। এ যেন আক্ষরিত আনকোরা মৌচাক রসে টইটুম্বুর ঘৃতকুমারীর মধ্যে লুক্কায়িত লোহিত রস আহরণের জন্য মাংসের ভিতর মাংস অনুপ্রবেশের রাজনীতির এক গোপনীয় খেলা।।


লেখক:  সহকারী রেজিস্ট্রার, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •