মুহম্মদ নুরুল ইসলাম


কক্সবাজার সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিউল আলম আজ ভোরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি… রাজেউন।
কক্সবাজার শহরে একই ফ্ল্যাটে আমরা সামনাসামনি বসবাস করছি বিগত পাঁচ বছর। বৈশ্বিক মহামারী করোনা দুর্যোগের কারণে তিনি বিগত মার্চ মাসের প্রায় শুরু থেকে তার গ্রামের বাড়ি রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ঘোনার পাড়ার গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছিলেন।
তিনিসহ তাঁর গ্রামের তাঁর সমবয়সী আরো দুইজন স্কুল শিক্ষকসহ ফজরের নামাজের পরে কক্সবাজার -চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাড়ি সংলগ্ন এমদাদুল উলুম মাদরাসার ওখানে প্রাত:ভ্রমন করছিলেন। এসময় একটি মাছ ভর্তি পিক আপ তাদেরকে চাপা দেয়। এতে উনিসহ দুই জন নিহত হন, অন্যজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি আমার বড় মেয়ের কলেজ শিক্ষক, আমার স্ত্রী কবি হাসিনা চৌধুরী লিলির সহকর্মীর স্বামী। আমার বন্ধু সিনিয়র আইনজীবী, সতীর্থ ৭১ এর সদস্য বদিউর রহমানের ভায়েরা ভাই, আমাদের সহকর্মী সাংবাদিক ও আইনজীবী আয়াছুর রহমানের ভগ্নিপতি।
তিনি বরাবরই ছিলেন বন্ধুবৎসল, স্বজ্জন ও হাসিখুশি মানুষ।
আমরা প্রায় একই সাথে শহরের বদর মোকাম জামে মসজিদে নামাজ আদায় করে কথা বলতে বলতে বাসায় আসতাম।
গত রবিবার আমরা সমুদ্র সৈকত থেকে এসেই আমাদের বাসার ফটকে উনার সাথে দেখা। উনি প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে আছেন যেনো আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবেন। উনি হাসি খুশি মুখে আমাদেরকে স্বাগত জানালেন। আমরা কেমন আছি ইত্যাদি জানলেন আন্তরিকতা সাথে। এটাই ছিলো উনার সাথে আমাদের শেষ দেখা। মনে হচ্ছে উনি আমাদের সাথে শেষ বারের মতো দেখা করতে এসেছিলেন। হাসিখুশি প্রাণবন্ত সুস্হ একজন মানুষ এভাবে চলে যাবেন আমরা কল্পনাও করতে পারিনি । মেনে নেয়া সত্যি কষ্টকর। তবুও মেনে নিতে হবে, কারণ সবই রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা।
তাঁর মৃত্যুতে মর্মাহত, শোকাহত। আল্লাহ তার ভাল আমলগুলো কবুল করুন। রাব্বুল আলামীন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান করে নিন।
একই সাথে তার শোকাহত পরিবার পরিজনের জন্য গভীরভাবে সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহ তাদেরকে এই শোক সইবার তওফিক দান করুন।

মুহম্মদ নুরুল ইসলাম
সভাপতি, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •