সোয়েব সাঈদ :

বাজারের প্রবেশ পথে রয়েছে জীবানুনাশক টানেল, মাইকে প্রচার হচ্ছে করোনা সতর্কতামূলক প্রচারনা, ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে মাস্ক। এভাবে কক্সবাজারের রামুর প্রাচীন ফকিরা বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানীর পশুর জমজমাট বেচাকেনা হয়েছে। পশুর দাম নাগালের মধ্যে থাকায় অধিকাংশ ক্রেতা বৃহৎ এ পশুর হাট থেকে গরু-মহিষ, ছাগল ক্রয় করেছেন। তবে এবারের পশুর হাটে মাঝারি আকারের গরু-মহিষের চাহিদা বেশী ছিলো বলে জানিয়েছেন আগত অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা। এ কারণে বড় আকারের চেয়ে মাঝারি আকারের গরু-মহিষের দাম ছিলো কিছুটা বেশী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রামুর সদর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের সাদা চিং ও লাল চিং বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন ছারা ভিটা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ পশুর হাট। বাজার ইজারাদার জানালেন, এবার পশু বেচাকেনাও হয়েছে রেকর্ড পরিমান। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি পালন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ পশুর হাটে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিলো লক্ষণীয়।

রামুর ফতেখারকুল ইউনিয়নের অফিসেরচর এলাকা থেকে ‘রাজা’ ও ‘বাদশাহ’ নামের দুটি বৃহৎ আকারের গরু বিক্রয়ের জন্য এনেছেন জাকির হোসেন ও মুসলিম উদ্দিন। তারা জানান- বড় গরু হলেও কাংখিত ক্রেতা মিলছে না। অনেকে যে দামে কিনতে চেয়েছে, তাতে বড় ধরনের লোকসান হবে। তাই গরু বিক্রি নিয়ে এখন শংকায় রয়েছেন তারা। এমন আশংকার কথা জানালেন-বাজারের আরো কয়েকজন বড় আকারের গরু-মহিষ বিক্রেতা।

রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা এলাকার গরু বিক্রেতা আবদুর রহিম জানালেন-তিনি মাঝারি আকারের দুটি গরু এনেছেন। একটি কাংখিত দামে বিক্রি করেছেন। অন্যটিও বিক্রি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো জানান, মাঝারি আকারের গরু এবার কিছুটা চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। এজন্য তিনি আনন্দিত।

বাজারে গরু কিনতে আসা কয়েকজন জানালেন-করোনা পরিস্থিতিতে এখানে স্বাস্থ্য মেনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে সকল প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকে তেমন সচেতন নয়। যার ফলে স্বাস্থ্য বিধি পুরোপুরি এখানে মানা হচ্ছে না। এরপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রশাসন এবং বাজার কমিটির তৎপরতা ছিলো প্রশংসনীয়। যার সুফল ক্রেতা-বিক্রেতারা পেয়েছে।

রামু ফকিরা বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলম জানিয়েছেন-ঐতিহ্যবাহি এ বাজারের প্রতি বছরের মতো এবারও জমজমাট পশুর হাট বসেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিলো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং রামু থানায় পুলিশের সহায়তায় এখানে জীবানুনাশক টানেল স্থাপন, পৃথক প্রবেশ ও বহির্গমন গেইট, বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ, মাঠে জীবানুনাশক স্প্রে এবং বেচাকেনা চলাকালে মাইকে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারের আশপাশে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সর্ম্পকিত একাধিক নির্দেশনা ছিলো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সিপিপি’র একঝাক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন।

রামু বাজারে স্বাস্থ্য বিধি মেনে পশু বেচাকেনা নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ট্যাগ অফিসার ছিলেন, উপ-সহকারি প্রকৌশলী আলা উদ্দিন খান। তিনি জানিয়েছেন-মঙ্গলবার এখানে সর্বশেষ পশুর হাট ছিলো। এ কারণে প্রচুর ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি ছিলো। পাশাপাশি বাজার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জীবানুনাশক ছিটানো, স্যানিটাইজার-মাস্ক প্রদান সহ অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকাংশ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললেও অসচেতনতার কারণে অনেককে মানতে দেখা যায়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •