দীপন বিশ্বাস, কক্সবাজার :

দুদকের মামলায় জেল হাজতে থাকা কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় এর সার্ভেয়ার মো: ওয়াসিম খান (৩৭) ও দালাল মো: সেলিম উল্লাহ (৩৬) কে সিনিয়র স্পেশাল জজ কক্সবাজার এর আদালতে জামিন নামঞ্জুর ও সাত দিনের রিমান্ড দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে সিনিয়র স্পেশাল জজ মুহাম্মদ ইসমাইল আসামী ও দুদকপক্ষের দীর্ঘ শুনানী শেষে এই নির্দেশ দিয়েছেন।

কক্সবাজারস্থ দুদক পিপি এডভোকেট মো: আবদুর রহিম জানিয়েছেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারী র‌্যাব-১৫ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়াস্থ একটি বাসায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫০ ঘুষের টাকা, অধিগ্রহণ সংক্রান্ত চেক ও নানা কাগজপত্রসহ হাতে নাতে সার্ভেয়ার মো: ওয়াসিম খান (৩৭) কে আটক করা হয়। একইদিন সার্ভেয়ার ফেরদৌস খানের বাসা শহরের তারবনিয়াস্থ তল্লাশী চালিয়ে ২৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬’শ টাকাসহ চেক বই এবং এল.এ সংক্রান্ত নানা কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। এই সময় সার্ভেয়ার ফেরদৌস খান (৩৬) পালিয়ে যায়। তার অপর সহযোগি মো: ফরিদ উদ্দীন (৩৬)ও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ সহকারী পরিচালক মো: শরীফ উদ্দীন বাদী হয়ে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ ১০ মার্চ স্পেশাল মামলা নং ৬ দায়ের করেন। মামলায় তিন সার্ভেয়ারকে আসামী করা হয়। আসামীদের বিরুদ্ধে একে অপরের সহযোগিতায় প্রতারণার মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কক্সবাজার জেলার ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের নিকট হতে ৯৩ লক্ষ ৬০ হাজার ১৫০ টাকা ঘুষ দূর্নীতির মাধ্যমে ভোগ দখলে রাখার অপরাধ আনা হয়।

এদিকে গত ২২ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো: রিয়াজ উদ্দীন, মো: হুমায়ন কবির ও উপ-সহকারী পরিচালক মো: শরীফ উদ্দীনের নেতৃত্বে দুদকের একটি দল মামলার তদন্ত প্রাপ্ত আসামী শীর্ষ দালাল মো: সেলিম উল্লাহ (৩৬) কে কক্সবাজার শহরের লাল দিঘীর পাড়স্থ ইডেন গার্ডেন সিটি ভবনের দলিল লেখক শওকত ওসমান এর চেম্বার থেকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা প্রশাকের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে জমির মালিকদের হয়রানী করে তাদের নিকট হতে কমিশন বাবদ ঘুষ গ্রহণ/প্রদান এর মাধ্যমে নিজে লাভবান হয়ে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের লাভবান করে আসার অভিযোগ আনা হয়।

আসামীপক্ষের আইনজীবি শামশাদ সুলতানা জানান, আমরা আসামীদের জামিন ও রিমান্ডের বিরোধীতা করি। বিজ্ঞ আদালত তা নামঞ্জুর করে ৭ দিনের রিমান্ড দেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •