মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের সদ্য যোগদানকৃত সুপার ডা. মো. জাকির হোসেন খানকে প্রত্যাহারের দাবিতে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ২৮ জুলাই কক্সবাজারের ৩ টি সংগঠন প্রধানমন্ত্রীকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। সংগঠন ৩ টি হলো-আমরা কক্সবাজারবাসী, সেক্টরস কমান্ডার ফোরাম ও কক্সবাজার সোসাইটি। আমরা কক্সবাজারবাসী’র সমন্বয়কারী সাংবাদিক মহসিন শেখ এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান এন-৯৫ মাস্ক কেলেংকারী সহ সরকারি কেন্দ্রীয় ঔষাধাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে মামলা মোকদ্দমায় ঢাকায় হাজিরা দিতে দিতেই সময় চলে যাবে। তিনি কক্সবাজার জেলার সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে খুব একটা সময় দিতে পারবেননা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গত ৪ মাসে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ জেলাবাসীর চিকিৎসার জন্য একটা আস্থার জায়গা তৈরী হয়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংকটে ডা. মোঃ জাকির হোসেন খানের মতো দুর্নীতিতে জড়ানো একজন কর্মকর্তা জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করলে হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

আমরা কক্সবাজারবাসী সহ সংগঠন ৩ টির পক্ষে ডা. মোঃ জাকির হোসেন খানকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করে এখানে একজন সৎ, দক্ষ ও উদ্যমী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্মারকলিপিতে তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নতুন সুপার হিসাবে ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান গত ২৩ জুলাই যোগদান করেন। ঐদিন মোঃ জাকির হোসেন খান ভারপ্রাপ্ত সুপার ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুস সালেহীন থেকে সুপারের দায়িত্ব বুঝে নেন।

ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান’কে গত ৫ জুলাই কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে উপ পরিচালকের মর্যাদায় তত্বাবধায়ক (সুপার) হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপার্টমেন্ট (সিএমএসডি)-এ (সিএমএসডি) অনিয়ম ও লুটপাটের চরম অভিযোগ উঠার প্রাক্কালে ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান (৩৯৮১৩) কে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান হিসাবে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। ডা. মোঃ জাকির হোসেন খানের এসব কেলেংকারী নিয়ে সারদেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে। এনিয়ে চরমভাবে বিব্রত হয় সরকার।

নতুন সুপার হিসাবে যোগদান করা ডা. মোঃ জাকির হোসেন খান’কে এন-৯৫ মাস্ক কেলেংকারী সহ সরকারি কেন্দ্রীয় ঔষাধাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও লুটপাটের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন এর ঢাকার সেগুন বাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়ে গত ২০ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়ে পদত্যাগের দাবি উঠা স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালিক এর নিজ জেলা মানিকগঞ্জে ডা. মোঃ জাকির হোসেন খানের এর বাড়ি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •