আবদুল মজিদ,চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়ান ১নং ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডের বৃহৎ অংশ সংযোগ রয়েছে কাকারা ইউনিয়ন ও পৌরসভার। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু হাজিয়ান-আমতলী-কাকারার প্রধান এ সড়কটি বর্তমানে ভেঙ্গে তছনছ হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিক যাতায়াত নিয়ে দূর্ভোগে পড়েছে এলাকার জনসাধারণ। চকরিয়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে সাধারন মানুষের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ ও নিত্য দিনের বাজার সামগ্রী ক্রয়েও ভীষন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এমনকি স্কুল কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আসা যাওয়া করতে পারছেনা। ফলে শিক্ষা জীবন নিয়েও চরম হতাশায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিলেও জয়লাভের পর প্রতিশ্রুতি ভুলে যান বলে স্থানীয়দের দাবী।

স্থানীয় জনসাধরণ জানিয়েছেন, ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাওয়া হাজিয়ান-আমতলী সড়ক দিয়ে দিবারাত্রী যাতায়াতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুর পথযাত্রী হতে হচ্ছে অনেক পথচারীকে। বর্তমানে ওই সড়কের যোগাযোগ অবস্থা একেবারে নাকাল। সড়কটি সংস্কার কিংবা পূণ:নির্মানে কারো মাথা ব্যাথাও নেই, টনকও নড়ক নড়ছে না বলে স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান।

অপরদিকে হাজিয়ান এলাকায় শত শত পরিবারের কৃষকদের মাঝে ওই এলাকার উত্তরে ও দক্ষিবাংশের বড় বিল ও পশ্চিমে স্থানীয় মাতামুহুরী নদীর চরে নানান ধরণের সবজি চাষে সবুজের সমারহ হাতছানি দিয়ে ঢেকে আছে। এখানকার কৃষকরা চাষাবাদসহ প্রতিবছর ন্যায় এবছরও মৌসুমী নানা প্রকৃতির সবজি চাষ ও ফসলের ফলনে ব্যাপক লাভবান হওয়ার আশায় রয়েছেন। কিন্তু সড়ক যাতায়াতের কারণে পড়েছে চরম দুঃচিন্তায়।

উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজিয়ানের কৃষকরা নানা প্রকৃতির তরি-তরকারী, সবজির চালান চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে কৃষক পরিবার মৌসুমী সবজি চাষে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে লাভবান হয়। কিন্তু সড়ক যোগাযোগে সমস্যার কারণে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফাঁসিয়াখালী ১নং ওয়ার্ডের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মরহুম মাওলানা নজির আহমদের বাড়ির রাস্তার মোড় হতে মরহুম মাওলানা আব্দুস সোবহানের বাড়ি হয়ে দক্ষিনে আমতলী এলাকার সড়কের বর্তমান প্রেক্ষাপট স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরজমিনে গিয়ে দেখলে বুঝা যাবে যাতায়াত নিয়ে মানুষের দুর্বিসহ জীবনের করুণ অবস্থা। শুস্ক মৌসুমে যেমন-তেমন, বর্ষা মৌসুমে মসজিদে মুসল্লিরা নামাজও পড়তে যেতে পারছেন না।

স্থানীয়রা সড়কটি সংস্কার ও পূন:নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম এমএ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরিজ ও উপজেলা আওয়ামীলীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওই সড়কটি পৌরসভা,ফাঁসিয়াখালী ও কাকারা ইউনিয়নের কানেক্টিং সড়ক নাম দিয়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরসিসি সড়ক নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। লকডাউনের কারণে কাজ শুরু হয়নি। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে এবং এলাকার মানুষের দুঃখ দুর্দশার লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •