মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার প্রশাসনিক জেলায় রূপান্তর হয় ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ। জেলায় রূপান্তর হওয়ার পর থেকেই কক্সবাজারে জেলা জজ আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এই জেলা জজ আদালতের প্রথম Government pleader (GP) অর্থাৎ সরকারি কৌসুলি হিসাবে দায়িত্ব পান, সে সময়ে আদালত অঙ্গনের ডাকসাইটে প্রবীণ আইনজীবী এডভোকেট আলহাজ্ব আবুল কালাম আযাদ। হাজী আবুল কালাম উকিল
নামে তিনি সবার কাছে পরিচিত ছিলেন।

এডভোকেট আলহাজ্ব আবুল কালাম আযাদ এর ১৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ সোমবার ২৭ জুলাই। ২০০৬ সালের ২৭ জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন।

জেলা প্রথম ও সফল জিপি হিাসাবে দায়িত্ব পালন করে কক্সবাজার জেলার ইতিহাসে স্থান করে নেওয়া এডভোকেট আলহাজ্ব আবুল আজাদ রামু’র ধলিরছড়ায় (বর্তমানে রশিদ নগর ইউনিয়ন) ঐতিহ্যবাহী বুনিয়াদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন, তৎকালীন জমিদার তমিজ উদ্দিন সিকাদারের দ্বিতীয় পুত্র।এড. আবুল কালাম আজাদ কক্সবাজার আইনজীবী সমিতিতে ১৯৮২ সালে সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টেরও তালিকাভূক্ত একজন আইনজীবী ছিলেন।

একজন সৎ, দক্ষ ও পেশাদার আইনজীবী হিসাবে এডভোকেট আলহাজ্ব আবুল কালাম আযাদ বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি সোনালী ব্যাংক, কক্সবাজার শাখা, রুপালী ব্যাংক কক্সবাজার শাখা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল এডভাইজার হিসাবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত ধার্মিক, ন্যায়পরায়ণ­ ছিলেন। তিনি পেশাগত কারণে কক্সবাজার শহরের বাইল্ল্যা পাড়ায় বসতি গড়ে তুলেছিলেন।

মরহুম এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ এর সহধর্মিণী ছিলেন রেজিয়া বেগম। তার
৪ পুত্র সন্তান হচ্ছেন- আবু সুফিয়ান নিক্সন, এডভোকেট আবু শোয়াইব ক্যাসন, ইয়াহিয়া মুন্না ও ইব্রাহিম আজাদ বাবু।
৫ কন্যা সন্তান হচ্ছেন-
উম্মুল খায়ের ফাতেমা, আয়েশা রুবাইদা, উম্মে সালমা, উম্মে সালমা রুয়াইমা ও জান্নাতুল ফেরদৌস।

তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যকালাপে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি শহরের বইল্ল্যাপাড়া জামে মসজিদের উপদেস্টা পরিষদের সদস্য, বইল্ল্যাপাড়া ডি- ওয়ার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, তৎকালীন বইল্ল্যাপাড়া আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি, কক্সবাজার বালিকা মাদারাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এডভোকেট আলহাজ্ব আবুল কালাম আযাদ এর ১৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী বড় পরিসরে পালন করা হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন, মরহুমের জ্যেষ্ঠ সন্তান আবু সুফিয়ান নিক্সন। খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল, কবর জেয়ারত ইত্যাদি কর্মসূচী সীমিত আকারে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আবু সুফিয়ান নিক্সন তার পিতা মরহুম এডভোকেট আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ সহ তার পরিবারের মৃত সকলের রুহের মাগফেরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •