রিয়াজ উদ্দিন,পেকুয়া:

পেকুয়ায় পুন:সংষ্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে মগনামা হাইস্কুল সড়কে। চলাফেরা সক্রিয় রাখতে প্রাচীন জনপদের ওই সড়ক সংষ্কার হচ্ছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে স্থানীয় উদ্যোগে সড়কটির আংশিক সংষ্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। খানা খন্দক ও কাঁদা মিশ্রিত ওই সড়কটিতে দেয়া হচ্ছে বালি, ইট ও কংকর। সাবেক ছাত্রনেতা মুহুরীপাড়ার বাসিন্দা খোরশেদুল ইসলাম নামক এক তরুণ সমাজ সেবক সড়ক সংষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। জনগনের চলাচল সক্রিয় রাখতে তরুণ ওই সমাজ সেবক ব্যয় করছেন অর্থ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে খোরশেদুল ইসলাম হাইস্কুল সড়ক সংষ্কারকাজ বাস্তবায়ন করছেন।

নিজ অর্থায়ন থেকে তরুণ এ সমাজ সেবক সড়কটি সংষ্কারকাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। সড়ক আংশিক সংস্কারের অংশ হিসেবে তারুণ্যের এ অহংকার প্রায় ১ কিলোমিটারে বালি, ইট, কংকর দিয়ে কাজটি চলমান রাখেন। হাইস্কুল সড়কটি মগনামার প্রাচীন সড়ক। মুহুরীপাড়া বাজারের হাইস্কুল থেকে ওই সড়কটি পূর্বদিকে বিস্তৃত। মুহুরীপাড়া হয়ে ওই সড়কটি বাইন্নাঘোনা আশ্রায়ন প্রকল্প সংলগ্ন সড়ক ও জনপদ সড়কে মিলিত হয়েছে। বানিয়ারছড়া-মগনামা সড়কের বাইন্নাঘোনা থেকে ওই সড়কটি পশ্চিম দিকে বহমান। ১৯৯২ সালে উপকুলবর্তী মগনামা ইউনিয়নে এ সড়কটি প্রথম ধাপে সংষ্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হয়। সে সময় সাইক্লোন উপদ্রুত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সড়কটি ব্রিক সলিনের আওতায় নিয়ে আসে। বাইন্নাঘোনা থেকে মুহুরীপাড়া হয়ে সড়কটি চ্যাপ্টাখালি নাশি পর্যন্ত ব্রিক সলিন দ্বারা উন্নয়ন হয়। তবে কালের পরিক্রমায় জনগুরুত্বপূর্ন ওই সড়কটি অবহেলিত রয়েছে। ব্যাংওয়ালঘোনায় সড়কটি মাটি পর্যন্ত নি:সরণ হয়ে যায়। এমনকি প্রতিহিংসার বশীভূত হয়ে ওই সড়কটি নিশ্চিহ্ন করার কৌশলে মেতেছে। মুহুরীপাড়া বাজার থেকে ১ কিলোমিটার লোকালয়ে সড়কটিতে ইট আংশিক স্থানে রয়েছে। অধিকাংশ স্থানে ইট না থাকায় কাঁচা সড়কে রুপান্তর হয়। বিগত ২৭ বছর ধরে লোকালয়ের মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়কটি বিলীন থেকে রক্ষা করছে। টাকা তুলাতুলি করে গ্রামবাসী এ সড়কে প্রতি বছর ইট, কংকর, বালি ফেলছে। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে সড়কটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়। যানবাহন চলাচল থেমে গেছে। এমনকি পায়ে হেঁেটও চলাফেরা করা দুষ্কর হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কের ১ কিলোমিটারে বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। কাঁদা ও ইটের সংমিশ্রণে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে যায়। খানা খন্দকে ভরপুর হয়।

স্থানীয়রা জানান, চলাফেরা থেমে গেছে এমন অবস্থায় এগিয়ে এসেছেন সাবেক ছাত্রনেতা খোরশেদুল ইসলাম। কয়েকজন যুবককে নিয়ে ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম সড়কটি আংশিক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ দিন আগে থেকে পিকআপ, ট্রাক যোগে ইট ভর্তি করে সড়কটিতে ফেলছে। ইটের টুকরা দালানের ভাঙ্গা টুকরা বালি দিয়ে সড়কটি যাতায়াতের জন্য সক্রিয় করা হচ্ছে। খোরশেদুল ইসলাম জানান, আমি মানুষের এমন দুর্গতি দেখে উদ্যোগ ক্ষুদ্র হলেও এগিয়ে এসেছি। দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ এ দেয়া অব্যাহত থাকবে। তবে আমার সাথে আরও কিছু শিক্ষিত যুবক এগিয়ে আসার সংকল্প ব্যক্ত করেছে। তারাও যতটুকু পারেন দিচ্ছেন। সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •